Print
প্রচ্ছদ » অর্থ বাণিজ্য
Wed, 29 Jan, 2014

জাপানের রেকর্ড বাণিজ্য ঘাটতি ২০১৩ সালে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাপানের বাণিজ্য ঘাটতি গত বছর ছিল রেকর্ড ১১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন। স্থানীয় মুদ্রা ইয়েনের দুর্বল অবস্থানে জ্বালানি আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়াই এর পেছনে মূল কারণ বলে জানায় দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়। খবর নিউজ এশিয়া ও বিবিসির।
গতকাল সোমবার দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় প্রকাশিত উপাত্তে বলা হয়, এক বছর আগের চেয়ে ২০১৩ সালে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ জাপানের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ৬৫ শতাংশ। জ্বালানি আমদানির ব্যয় বেশি বাড়ায় কমছে না বাণিজ্য ঘাটতি। ২০১১ সালে ফুকুশিমার পারমাণবিক প্ল্যান্টের দুর্ঘটনার পর থেকে দেশটির সব পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্র বন্ধ করে দেয়া হয়। জাপানের এক-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ হতো এসব প্ল্যান্ট থেকে। বিকল্প হিসেবে এখন আমদানি করা জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সে বিদ্যুৎ উত্পাদন করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আবে একাধিকবার পারমাণবিক প্ল্যান্টগুলো চালু করার চেষ্টা করলেও জনগণের সমর্থন মেলেনি। এ প্লান্টগুলো বন্ধ থাকায় আমদানি বাড়াতে হয়েছে দেশটিকে। অন্যদিকে ধারাবাহিকভাবে আগ্রাসী নীতিমালা নেয়ায় দাম কমেছে ইয়েনের। গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ডলারের বিপরীতে জাপানের মুদ্রার দাম কমেছে ২০ শতংশেরও বেশি।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্যানুযায়ী, আগের বছরের চেয়ে ২০১৩ সালে জাপানে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি বেড়েছে দশমিক ২ শতাংশ। ফলে এ খাতে আমদানি ব্যয় বেড়েছে প্রায় ১৮ শতাংশের মতো। ফলে রফতানি বাড়লেও এ নিয়ে টানা তিন বছর ধরে এর সুফল পাচ্ছে না দেশটি।
২০১৩ সালে দেশটির রফতানি ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯ দশমিক ৭৯ ট্রিলিয়ন ইয়েনে, গত তিন বছরের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ। সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধের কারণে ২০১২ সালে জাপানি পণ্য বর্জনের ডাক দিয়েছিল চীনা ভোক্তারা। চীনে কার্যক্রম স্থগিত করে দিতে বাধ্য হয় অনেক জাপানি কোম্পানি। ওই সময় দেশটির প্রধান বাজার চীনে রফতানি কমে গেলেও এখন তা ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে। এছাড়া মন্দা কাটিয়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপেও জাপানি পণ্যের চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে।
গত বছর রফতানি যে হারে বেড়েছে, তার চেয়েও বেশি হারে বেড়েছে আমদানি ব্যয়। এ সময়ে আমদানি ১৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮১ দশমিক ২৬ ট্রিলিয়ন ইয়েনে। ফলে স্বভাবতই রফতানির সুফল থেকে বঞ্চিত হয়েছে দেশটি।
দুই দশক ধরে জাপানের প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় নিশ্চল। ২০১২ সালের ডিসেম্বরে দায়িত্ব নিয়ে প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্তর বাড়াতে নানামুখী পদক্ষেপ নেন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। এর মধ্যে করকাঠামো পরিবর্তন, মুদ্রা সরবরাহ বাড়ানো ও বিনিময় হার হ্রাস অন্যতম। তার নেয়া এসব পদক্ষেপ ‘আবেনোমিক্স’ নামেই পরিচিত। ২০১৩ সালের প্রথমার্ধেই এসব নীতির সুফল পেতে শুরু করে দেশটি। বাড়তে শুরু করেছে উত্পাদন, রফতানি ও মূল্যস্তর।
কিন্তু এসব পদক্ষেপের বিরূপ প্রভাব পড়েছে স্থানীয় মুদ্রা ইয়েনের ওপর। যুক্তরাষ্ট্র ডলারের বিপরীতে এর দাম কমতে শুরু করে। মুদ্রার দুর্বল অবস্থানে বিদেশী ক্রেতাদের কাছে জাপানের পণ্যগুলো সস্তা হওয়ায় এর সুফল পেয়েছেন রফতানিকারকরা। এতে রফতানিকারকদের মুনাফা বেড়েছে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন আমদানিকারকরা।
বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে ফুজিত্সু রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মার্টিন সুয়েজ বলেন, ‘আবেনোমিক্সের খেসারত দিতে হয়েছে এ দেশের আমদানিকারকদের। সার্বিকভাবে আমদানি ব্যয় বেড়ে গেছে। ফলে রফতানি বাড়ার সুফল পায়নি দেশটি।’