‘আমি স্কুলে যেতে চাই’, তালেবানকে আফগান তরুণী, ভিডিও ভাইরাল

মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১

অনলাইন ডেস্ক: তালেবানরা কাবুল দখল করার পর থেকেই আফগানিস্তানে নারীর অধিকার ও স্বাধীনতা ঝুঁকিতে পড়ে গেছে। মেয়েদের স্কুলে যাওয়ায় বাধা দেওয়া শুরু হয় বহু জায়গায়। ছেলে আর মেয়েদের একসঙ্গে ক্লাস করার উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

এই আবহে সম্প্রতি একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তাতে ছোট মেয়েদের দেখা যায় আফগানিস্তানকে মুক্তি দেওয়ার বার্তা সহ প্ল্যাকার্ড উঁচিয়ে ধরতে। সঙ্গে মেয়েরা স্কুলে যেতে চান বলেও জানান।

ভিডিওটি বেলাল সারওয়ারি নামে এক আফগান সাংবাদিক টুইট করেন। উল্লেখ্য, বেলাল নিজেও তালেবানি অত্যাচার থেকে বাঁচতে আফগানিস্তান ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

কয়েকদিন আগে এক নির্দেশিকা জারি করে তালেবানের তরফে জানানো হয়, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণির সমস্ত ছেলে শিক্ষার্থী এবং পুরুষ শিক্ষকরা স্কুলে যেতে পারবেন। সেই বিবৃতিতে মেয়েদের স্কুলে যাওয়া নিয়ে একটি শব্দও খরচ করা হয়নি।

যা থেকে স্পষ্ট হয় যে, নারী শিক্ষা নিয়ে ২০২১ সালের তালিবান ১৯৯৬-২০০১ এর তালেবানের মতাদর্শই অনুসরণ করে চলছে।

কবে থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীরা স্কুলে যেতে পারবে সে বিষয়ে ধোঁয়াশা এখনো কাটেনি। এই অবস্থায় ফের উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে যে, তালেবান সরকার আবার মেয়ে এবং নারীদের পড়াশোনার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে।

গত মাসে কাবুল দখল করার পর থেকে তালেবান প্রথম থেকে ৫ম শ্রেণির মেয়েদের পুনরায় স্কুলে আসার অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণির মেয়েরা কবে থেকে স্কুলে যেতে পারবে বা আদৌ তাদেরকে স্কুলে যেতে দেওয়া হবে কিনা সে বিষয়ে এখনো চুড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি তালেবান। তবে তালেবানরা জানিয়েছে এই বিষয়ে তারা শীঘ্রই সিদ্ধান্ত নেবে এবং মেয়েরা স্কুলে যেতে পারবে।

এর আগে ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে তারা যখন আফগানিস্তান শাসন করেছিল, তখন মেয়ে এবং নারীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া এবং কাজ করার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।

এই মুহূর্তে স্বাস্থ্য বিভাগ, হাসপাতাল এবং শিক্ষাক্ষেত্রে কর্মরত নারীরা ছাড়া আফগানিস্তানের কিছু প্রদেশে এখনও অনেক ক্ষেত্রেই নারীদের কাজে যাওয়ার অনুমতি নেই।