নির্বাচনের ব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করেছে সরকার: ফখরুল

শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১

ঢাকা: বর্তমান সরকারের অধীনে বিএনপি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে যাবে না বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি আরও জানান, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে জনগণের মধ্যে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলা হবে। সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা উঠিয়ে দেওয়ার পর থেকেই এ ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনে নামে বিএনপি। নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে অনড় থেকে ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে দলটি।

তবে একই দাবিতে তারা আবারও সরব হয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে। ২০ দলীয় জোটে থাকা বিএনপি যুক্ত হয় আরও একটি জোটে। গঠন করা হয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। দুই জোট নিয়ে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনেই সেই নির্বাচনে অংশ নেয় তারা।

তবে আগামী নির্বাচন নিয়ে বিএনপির ভাবনা সম্পর্কে দলটির মহাসচিব বলেন, এখন তো নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই দেশে। নির্বাচন করা, না করা এখানে একেবারেই কোনো পার্থক্য বহন করে না। নির্বাচনের সব ব্যবস্থাকেই পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগ ধ্বংস করে দিয়েছে। সুতরাং, নির্বাচনে যাওয়ার এই মুহূর্তে তো কোনো প্রশ্নই উঠতে পারে না, যদি না নিরপেক্ষ সরকার থাকে।

বিএনপির মহাসচিব জানান, দাবি আদায়ে সরকারবিরোধী সব দলকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছে তাদের দল। কাছে টানার চেষ্টা চলছে বাম দলগুলোকেও।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্যই থাকবে জনগণের মধ্যে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলা। সেটা জোটের মধ্যে হতে পারে, একটা দাবিতে হতে পারে।

গেল নির্বাচনের আগে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনকে ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক করায় সমালোচনা রয়েছে দলের ভেতরেই। এ নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা কখনোই ড. কামাল হোসেনকে জোটের নেতা বানাইনি। কোথাও আমরা এ কথা বলিনি। আমরা বলেছিলাম যে এটা ঐক্যফ্রন্ট, সব দলগুলো মিলে আমরা এটা করছি। মিডিয়া ড. কামাল হোসেন সাহেবকে ঐক্যফ্রন্টের নেতা বানিয়েছে।’

নিরপেক্ষ লোকদের নিয়ে কমিশন পুনর্গঠন না হলে এ ইস্যুতে বিএনপি মাঠে নামবে বলেও জানান বিএনপির মহাসচিব।