১৬ হাজার গ্রাহকের ৩০০ কোটি টাকা এহসান গ্রুপের পকেটে

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১

যশোর: যশোরের ১৬ হাজার গ্রাহকের ৩০০ কোটি টাকা এহসান গ্রুপের প্রতারকদের পকেটে। ধর্মীয় লেবাসে প্রতারণার শীর্ষে অবস্থানকারী মাল্টিপারপাস এহসান গ্রুপের প্রতারকদের ফাঁদে পড়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন যশোরাঞ্চলের ১৬ হাজার লগ্নিকারী।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে শত শত গ্রাহক ও লগ্নিকারী নানা রোগে ও টাকার শোকে এখন শয্যাশায়ী। কেউবা ক্যান্সারে আক্রান্ত আবার কেউবা প্যারালাইজডে ভুগছেন। সব মিলিয়ে চোখের পানিতে সময় কাটছে অধিকাংশের।

এনিয়ে এহসান রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যানসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে ২টি মামলা দায়ের হয়েছে। অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মারুফ আহম্মেদ অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে আদেশ দিয়েছেন।

টিনশেডের পুরনো বাড়ি। স্যাঁতসেঁতে দেয়াল, খসে পড়ছে প্লাস্টার। ঘরের চারদিকে উৎকট গন্ধ। জীর্ণ খাটে দুই পা ঝুলিয়ে বসে আছেন আফসার উদ্দিন। শরীরে ক্যাথেটার।

বাঁ পায়ের এক অংশে ব্যান্ডেজ। ব্যান্ডেজের ভেতরে নেই পায়ের এক আঙুল। চলতে পারেন না কারোর সাহায্য ছাড়া। যশোর শহরের মিশনপাড়ার আফসার ছিলেন এয়ারফোর্সের ক্লার্ক। বিয়ে করেননি। থাকেন পৈতৃক বাড়িতে।

পেনশনের সময় পাওয়া ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ২০১১ সালের শেষের দিকে লগ্নি করেছিলেন এহসান গ্রুপে। দুই বছর মুনাফা ঠিক ঠিক হাতে আসে। এরপর বন্ধ হয়ে যায় লাভের মুখ দেখা। সেই সময় তিনি অনেক ঘুরেও আসল টাকার নাগাল পাননি। এখন মানুষটি কাটাচ্ছেন অসহায় জীবন।

এহসান এসের কাছে পাওনা টাকার কথা তুলতেই কেঁদে ফেললেন আফসার। বললেন, ‘চিকিৎসা যে করব সেই টাকাও নাই। ভাই-বোনরা যে ঠিকমতো চিকিৎসা করাবে, সে সামর্থ্যও তাদের নাই। ধর্মীয় লেবাস নিয়ে এহসানের কর্মকর্তারা যে এমন প্রতারক, কল্পনাও করতে পারিনি।’

শুধু আফসার উদ্দিন নয়, এমন ১৬ হাজার গ্রাহক জমি বিক্রি, পেনশনের টাকা তুলে দিয়েছেন এহসান গ্রুপের হাতে। প্রতিষ্ঠানটি এতে ব্যবহার করেছেন বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষক, মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন মুফতি ও মাওলানা শ্রেণির মানুষকে।

তবে এহসান ইসলামি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি ভাইস চেয়ারম্যান মুফতি ইউনুস আহমেদ বলেছেন, তাদের গ্রাহকের টাকা টাকা দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করে দিবেন।

এনিয়ে এহসান রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যানসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে ২টি মামলা দায়ের হয়েছে। অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মারুফ আহম্মেদ অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে আদেশ দিয়েছেন।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন তদন্ত কর্মকর্তা একে এম ফসিহর রহমান জানান, এহসান গ্রুপের বিষয়ে তদন্ত চলছে।

এরই মধ্যে অনেক তথ্য উঠে এসেছে। প্রতারণামূলক নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ারও সত্যতা পাওয়া গেছে।

এহসান গ্রুপের এহসান সোসাইটি, এহসান রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড, এহসান ইসলামি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি, আল এহসান নামে চারটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

দ্রুত এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ভুক্তভোগীদের।