৭ লাল জাতের বিইউ-সীম উদ্ভাবন

বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২১

অনলাইন ডেস্ক: গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরকৃবি)’র এক বিজ্ঞানী লবণ সহিষ্ণু, উচ্চ ফলনশীল, জাব পোকা (এফিড) প্রতিরোধী লাল রংয়ের (অ্যান্থসায়ানিন যুক্ত) সীম উদ্ভাবন করেছেন। সম্প্রতি এ জাতের সীমটি কৃষক পর্যায়ে চাষাবাদের জন্য জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক অনুমোদন পেয়েছে।

লাল জাতের সীমের উদ্ভাবক মো .গোলাম রসুল জানান, বাংলাদেশের উপকূলীয় দক্ষিণাঞ্চল থেকে সংগৃহিত কৌলিসম্পদ হতে বিশুদ্ধ সারি নির্বাচন পদ্ধতি অনুসরন করে সীমের এ জাতটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। বিইউ সীম-৭ জাতের কান্ডের রং গাঢ় বেগুনী। পাতার রং গাঢ় সবুজ হলেও ফুলের রং হয় বেগুনী।

এতে অন্থোসাায়নিনের উপস্থিতির কারণে এ জাতের সীমের রং গাঢ় লালচে হয়। প্রতি সীমের (ফলন) আকার ১২ সেমি.-২.৫ সেমি। প্রতি সীমে বীজের সংখ্যা থাকে ৪/৫টি। প্রতিগাছে ভক্ষণযোগ্য সীমের পরিমাণ হয় ২.৪ কেজি থেকে ৩.৫ কেজি এবং হেক্টর প্রতি ফলন হয় ৩৫ টন।

এরা উচ্চ ফলনশীল ও জাব পোকা (এফিড) প্রতিরোধী। এ গাছে অ্যান্থসায়ানিন পরিমান ২৯ মাইক্রোগ্রাম/গ্রাম। এ অ্যান্থসায়ানিন মানব দেহের মাংসপেশীর প্রদাহ হ্রাস, রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ এবং ক্যান্সার মোকাবিলায় ভূমিকা রাখে। সম্প্রতি এ জাতের সীমটি কৃষক পর্যায়ে চাষাবাদের জন্য জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক অনুমোদন পেয়েছে।

দেশের সকল জেলাতেই শীত মৌসুমে এ জাতের বীজ রোপন করতে হয়। গোবর মাটির মিশ্রনে ভরা ছোাট পলিথিনে চারা গজিয়ে পরবর্তীতে মাঠে চারা লাগানোই উত্তম। প্রতি গর্তে ১০ কেজি পঁচা গোবর, ১০গ্রাম ইউরিয়া (দুইবারে), ৩০ গ্রাম টিএসপি ও ২০গ্রাম পটাশ সার প্রয়োগ করতে হবে।

এ সীম খরা সহিষ্ণু। তবে মাটিতে আদ্রতার পরিমান বেশি কমে গেলে গাছের গোড়ায় পানি/ সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। ফুলের পরাগায়ন এবং কঁচি ফলের বৃদ্ধি পর্যায়ে মাটির রস বিশেষ নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। শীতকালে নিয়মিত বিরতিতে স্বল্প সেচ গাছ ও ফলের বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

এ জাতের সীমের জন্য এক কঞ্চি বিশিষ্ট বাউনি বা মাচা চাষ পদ্ধতিতে একটি কঞ্চিসহ বাঁশের মাথা, মাচা, ভি-আকৃতির গাছের ডালা কিংবা উলম্বভাবে ঝুলানো নাইলনের সুতার জাল ব্যবহার করা যেতে পারে। উন্মুক্ত গাছের পাতা যতবেশী সূর্যালোক পাবে ফলন তত বেশী হবে। গাছের আকার ও ফলন বিবেচনায় এটি ছাঁদ কৃষির জন্য একটি চমতকার ফসল।

এ জাতটি জাব পোকা প্রতিরোধী। তবে অন্যান্য সীমের মতো ক্ষুদে মাকড় বা রেডমাইটের আক্রমন দেখা দিতে পারে। ক্ষুদে মাকড় বা রেডমাইটের আক্রমন দেখা দিলে প্রতিকারের জন্য ভার্মিটেক/ ওমাইট ১৫গ্রাম ১০লিটার পানির সঙ্গে মিশিয়ে গাছে প্রয়োগ করতে হবে।

বীজ লাগানোর ১৩০ দিনের মধ্যে সীম সংংগ্রহ করা যায়। তবে বীজ সংগ্রহের জন্য আরও ২০দিন সময় বেশী লাগবে। দুই থেকে চার মাস একই গাছ থেকে সীম সংগ্রহ করা যাবে।