বিয়ে ফাঁদে প্রতারণা, এক নারীর ৪ পরিচয়পত্র

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২১

ঢাকা : একেকজনের কাছে একেক নামে পরিচিত তিনি। কখনও মিনু, কখনও সুমি, কখনও ফাতেমা, আবার কখনও পরিচয় দেন রোমানা নামে। ভিন্ন ভিন্ন নামে চারটি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও নাগরিক সনদপত্রও রয়েছে তার। পেতেছেন বিয়ের নামে প্রতারণার ফাঁদ। তার তিনজন স্বামীর পরিচয় পাওয়া গেছে, আরও স্বামী রয়েছে বলেও অভিযোগ আছে। একাধিক ব্যক্তিকে বিয়ের ফাঁদে ফেলে অর্থ-সম্পদ হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।

প্রতারণায় অভিযুক্ত ৩৬ বছর বয়সী এই নারীর নাম মিনু আক্তার ওরফে নাছমিন আক্তার সিমু ওরফে মোছা. ফাতেমা খাতুন ওরফে ফাতেমা আক্তার রোমানা। তার বিরুদ্ধে বুধবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহনাজ রহমানের আদালতে মামলা হয়েছে। মামলায় মিনু ছাড়াও আসামি আছেন মোস্তফা জামিল ও রাশেদ নামে আরও দু’জন।

মামলার বাদী প্রবাসী ইমাম হোসেনের আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ বলেন, মিনু আক্তার বহু এনআইডি কার্ড এবং বিভিন্ন নামে নাগরিক সনদ বানিয়ে বিয়ের নামে প্রতারণাসহ ফেসবুক, ইমো, হোয়াটস অ্যাপে বিভিন্ন নামে অ্যাকাউন্ট খুলে দেশি ও প্রবাসীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন। তার অন্তত চারটি ভিন্ন নামের পরিচয়পত্র, তিনজন বৈধ স্বামী, বৈবাহিক সম্পর্ক বলবৎ থাকা অবস্থায় অন্য পুরুষকে বিয়ের কাগজপত্র আদালতের নজরে আনা হয়। শুনানি শেষে আদালত আরজিটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করতে বায়েজিদ থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ২০০৮ সালে তৈরি করা একটি জাতীয় পরিচয়পত্রে দেখা যায়, তার নাম মোছা. ফাতেমা খাতুন, স্বামীর নাম লুৎফর রহমান এবং মায়ের নাম শামসুন নাহার। ২০২০ সালের একটি জাতীয় পরিচয়পত্রে দেখা যায় তার নাম নাছমিন আক্তার সিমু, বাবার নাম মো. আলী আহাম্মদ ও মায়ের নাম শামসুন নাহার।

অপর একটি নাগরিক সনদপত্রে দেখা যায় বাবা-মায়ের নাম ঠিক রেখে একই নারীর নাম উল্লেখ রয়েছে মিনু আক্তার। ওই নারীর আবার বাবা-মায়ের নাম এবং নিজের ঠিকানা একই রেখে ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন ফাতেমা আক্তার রোমানা নাম নিয়ে ভিন্ন সনদ দিয়ে।

অভিযোগ আছে, ২০০৮ সালে মিনু বিয়ে করেন লুৎফর রহমান নামে টাঙ্গাইলের এক ব্যক্তিকে। সেই সংসারে একটি সন্তানও রয়েছে। ২০০৮ সালের একটি এনআইডি কার্ডে ওই স্বামী লুৎফর রহমানের নাম। একই নারী মিনু আক্তার নামে ২০১৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ইমাম হোসেন নামে এক প্রবাসীকে বিয়ে করেন।

কাতার প্রবাসী ওই ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে বলবৎ থাকা অবস্থাতেই আবার ২০২০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় গিয়ে বিয়ে করেন মোস্তফা জামিল নামে এক ব্যক্তিকে। যাদের সঙ্গে মিনুর বিয়ে হয়েছে তারা প্রত্যেকেই এখন আতঙ্কে রয়েছেন। আদালতে করা মামলার বাদী ইমাম হোসেনও মিথ্যা মামলার আতঙ্কে আছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।