ব্রাজিলে করোনায় হাজারো গর্ভবতী নারীর মৃত্যু

মঙ্গলবার, জুলাই ২৭, ২০২১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মহামারি করোনায় বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় উপরের সারিতে আছে ব্রাজিল। লাতিন আমেরিকার এ দেশটি আক্রান্তের দিক দিয়ে বিশ্বে তৃতীয় ও মৃত্যুর দিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৯৭ লাখ ৭ হাজার ৬৬২ জন আক্রান্ত ও ৫ লাখ ৫০ হাজার ৫৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রাজিলে করোনায় গর্ভবতী নারীদের মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। দেশটিতে চলতি বছরেই ১ হাজারের বেশি গর্ভবতী নারী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এছাড়া হাসপাতালে নবজাতক ইউনিটে অপরিপক্ক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর সংখ্যাও বাড়ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মারা যাওয়া প্রতি ৫ জন নারীর একজনের ভাগ্যে আইসিইউ জোটেনি। প্রতি তিনজনের একজন নারী মারা গেছেন ভেন্টিলেটরের অভাবে। অনেকেই আইসিইউতে ভর্তি হয়েও মৃত্যুর হাত থেকে রেহাই পাননি। আইসিইউতে করোনা আক্রান্ত গর্ভবতী নারীর মৃত্যুর হার ৩৯ শতাংশ।

ব্রাজিলে করোনা আক্রান্ত গর্ভবতী নারীদের চিকিৎসার জন্য আইসিইউ গড়ে তোলা ড. রসানা পালসিনেলি বিবিসিকে জানান, এ পর্যন্ত ১৮০ জন গর্ভবতী নারী আইসিইউতে চিকিৎসা নিয়েছেন। সেখানে মৃত্যুহার ৫ শতাংশ।

দেশটির প্রত্যন্ত অঞ্চলের গর্ভবতী মায়েরা চিকিৎসাবঞ্চিত হচ্ছেন। ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এক বাসিন্দা করোনায় তার স্ত্রীকে হারিয়েছেন। গর্ভধারণের ২৭তম সপ্তাহে এসে তার স্ত্রী করোনায় আক্রান্ত হন। হাসপাতাল দূরে হওয়ায় তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তাদের যমজ সন্তান এখনও আইসিইউতে ভর্তি রয়েছে।

গেল ১৬ এপ্রিল ব্রাজিলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সচিব রাফায়েল কামারা এক সংবাদ সম্মেলনে মহামারিকালে দেশটির নারীদের গর্ভধারণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

লাতিন আমেরিকার এ দেশটি করোনার টিকাদানে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। দেশটিতে এ পর্যন্ত মাত্র ৪৫ শতাংশ মানুষ টিকার দুই ডোজের মধ্যে প্রথম ডোজ পেয়েছেন। মাত্র ১৬ শতাংশ মানুষ টিকার দুই ডোজ গ্রহণ করেছেন।