সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যায় যুবলীগ নেতা গ্রেফতার

রবিবার, মার্চ ৭, ২০২১

নোয়াখালী : নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির নিহতের ঘটনায় বেলাল হোসেন (৩০) নামের এক যুবলীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে নোয়াখালীর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

রোববার দুপুর পৌনে ১টার দিকে বসুরহাট হাসপাতাল রোডের ডাক-বাংলোর সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত বেলাল হোসেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মো. ইব্রাহিমের ছেলে। তিনি চরফকিরা ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য।

নোয়াখালী পিবিআই ইন্সপেক্টর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বসুরহাটে অভিযান চালিয়ে বেলালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যার ঘটনায় এটাই প্রথম গ্রেফতার। বেলালকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

তবে এ বিষয়ে এর বেশি কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির হত্যা মামলার তদন্তকারী পুলিশের এই কর্মকর্তা।

চাঞ্চল্যকর সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির হত্যা মামলার দোষীদের গ্রেফতার দাবি করে আসছিলেন আওয়ামী লীগের বিবদমান কাদের মির্জা ও মিজানুর রহমান বাদল গ্রুপ।

রোববার দুপুরের আগে উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত নুরুল হক বীরউত্তম মিলনায়তন চত্বরে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা জোরালোভাবে এ হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেফতারের দাবি উঠার কিছুক্ষণের মধ্যে পিবিআই ওই সভাস্থলের কাছ থেকে সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যা মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি বেলালকে গ্রেফতার করে।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার কোম্পানীগঞ্জের চাপরাশিরহাট পূর্ববাজারে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোটভাই বসুরহাট পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশও বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ও শর্টগানের গুলি ছুড়ে ওই সময়ের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে ত্রিমুখী সংঘর্ষের মুখে পড়ে গুলিবিদ্ধ হন সাংবাদিক মুজাক্কিরসহ ৭-৮ জন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ ফেব্রুয়ারি শনিবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান মুজাক্কির।

এ ঘটনায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকালে মুজাক্কিরের বাবা নোয়াব আলী মাস্টার বাদী হয়ে অজ্ঞাত একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই দিন রাতে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়।