কক্সবাজারে ট্রাক চাপায় ২ জনের মৃত্যু, আহত ১০

রবিবার, মার্চ ৭, ২০২১

কক্সবাজার : কক্সবাজার শহরের পর্যটন জোন কলাতলী ডলফিন মোড়ে সিমেন্ট বোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নারীসহ দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় অন্তত ১০-১২জনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আশঙ্কাজনক অবস্থায় অন্তত ৫-৬ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। শনিবার (৬ মার্চ) রাত ১১ টায় ডলফিন মোড়ের হোটেল ওয়ার্ল্ড বীচ রিসোর্টের সামনের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ও নিহতদের উদ্ধারে কাজ করে স্থানীয়দের সহায়তায় কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও ট্রাফিক পুলিশ। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. রফিকুল ইসলাম দুইজনের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলেন, কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় লাল মিয়ার স্ত্রী মোমেনা বেগম (৬০) ও ঢাকা উত্তরা এলাকার সাহাদত হোসেন (৪৫)।ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে মরদেহগুলো। আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন।

কক্সবাজার শহর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আনোয়ার হোসেনের বরাত দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম জানান, শনিবার রাত ১১ টার দিকে কক্সবাজারমুখী সিমেন্ট বোঝাই ট্রাকটি (চট্ট মেট্টো-ট-১১-৬৮২৮) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পথচারীকে চাপা দেয়। এসময় ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলে দুইজন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত ১০ পথচারী।

আহতদের মাঝে, কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া এলাকার এডভোকেট ওসমান (৪৫), উখিয়ার কোটবাজার এলাকার আবদুল আমিনের ছেলে জসিম উদ্দীন (২৫), বশরত আলীর ছেলে মুজিব (৪৫), শফিউল্লাহর ছেলে জিকু (৩০), মহেশখালী এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে জয়নাল (৩৫), বড় ভাই আবুল হোসেন (৪৫) ও ছেলে রাশেদুল হকের (১৭) নাম পাওয়া গেছে। বাকিদের পরিচয় সনাক্তের কাজ চলছে। আহতদের মাঝে দুইজনকে গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কক্সবাজার বাস টার্মিনাল থেকে কলাতলী ঢালুতে নামার সময় নিয়ন্ত্রণ হারায় ট্রাকটি। এসময় ট্রাকটি ২টি সিএনজি অটোরিকশা ও ২টি ইজিবাইককে চাপা দেয়। এতে প্রায় ১০-১৫ জন ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে। দুটি মরদেহসহ সবাইকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

হাসপাতালে নেয়াদের মাঝে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। খবর পেয়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মারুফ আদনানের নেতৃত্বে একটি টিম উদ্ধার কাজে অংশ নেন। ঘটনাস্থলে যান এমপি আশেক উল্লাহ রফিক, পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান, পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্টরা।

ঝিলংজা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান টিপু সোলতান ঘটনাস্থল থেকে জানান, টার্মিনাল থাকলেও অদৃশ্য কারণে বাইপাস সড়কের উভয় পাশে কলাতলীর বীচ পয়েন্ট এলাকা পর্যন্ত বিভিন্ন ধরণের বাসসহ পর্যটকসেবী যানবাহন পার্কিং করে রাখে। ফলে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ও জ্যাম নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া একটু রাত হওয়ায় ঢালুতেও বেপরোয়া ভাবে নামতে গিয়ে ট্রাকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জন্ম দিয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিমত। সুষ্ঠু তদন্ত করে এ ঘটনার ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান চেয়ারম্যান টিপু।

ফুটপাত দখল করে অবৈধ পার্কিং, অনিয়ন্ত্রিত যানজট ও সড়ক আইন না মানার জন্য বারবার এমন ঘটনা ঘটছে বলে দাবি করেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মারুফ আদনানও।

জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, আহতদের জন্য রক্তের প্রয়োজন পড়ছে। খবর পেয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মী, শিক্ষানবিশ আইনজীবী ও ব্লাড ডোনার ক্লাবের সদস্যরাসহ নানা পেশার তরুণরা রক্ত দিতে রাতেই হাসপাতালে জমায়েত হয়েছেন। কারো কারো রক্ত মিলে যাওয়ায় অনেকে রক্ত দিয়েছেন এবং দিচ্ছেন।