পাঁচ মন্ত্রীসহ ৬৪ বিধায়ককে মনোনয়ন দেননি মমতা

শনিবার, মার্চ ৬, ২০২১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আগামী ২৭ মার্চ থেকে সাত দফায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ভোটগ্রহণ শুরু হচ্ছে। গত শুক্রবার প্রার্থীতালিকা প্রকাশ করেছে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস। এবারের প্রার্থী তালিকায় নতুন করে একঝাঁক তারকাকে দেখা গেলেও বাদ পড়েছেন পাঁচ মন্ত্রীসহ ৬৪ বিধায়ক। তাদের কেউ এখন কাঁদছেন, কেউবা দিচ্ছেন হুমকি।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার আসন সংখ্যা ২৯৪টি। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় শুক্রবার ২৯১ আসনের জন্য দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছেন। বাকি তিনটি আসন দেওয়া হয়েছে দার্জিলিংয়ের গোর্খা জনমুক্তি মোর্চাকে। এই প্রার্থীতালিকা প্রকাশ পাওয়ার পর অনেক বিধায়ক দল ছাড়ার হুমকি দিয়েছেন। অনেকে ওইদিনই বিজেপি নেতাদের দারস্থ হয়েছেন।

তৃণমূলের প্রার্থীতালিকা প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, তালিকা থেকে ৬৪ জন বিধায়ক বাদ পড়েছেন তাদের মধ্যে পাঁচ জন মন্ত্রীও রয়েছেন। তারা হলেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র, কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও উদ্যানপালন দফতরের মন্ত্রী আব্দুর রেজ্জাক মোল্লা।

অপেক্ষাকৃত তরুণ, স্বচ্ছ ভাবমূর্তিসম্পন্ন, দলের প্রতি অনুগত এবং এলাকায় জনসমর্থন আছে—এমন নেতারা এবারের প্রার্থী তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন বলে তৃণমূল জানিয়েছে। তবে এ তালিকা নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারেনি দলের একাংশ।

বয়স আশির বেশি হওয়ায় মনোনয়ন পাননি এমন বিধায়কের সংখ্যা ১১ জন। বয়সজনিত কারণে বেশ কিছু বিধায়ক, মন্ত্রী বাদ পড়লেও এর বাইরেও যাদের ঠাঁই হয়নি, এমন বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাম উঠে এসেছে তালিকায়। তাদের মধ্যে রয়েছেন অভিনেত্রী দেবশ্রী রায়। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার রায়দিঘির বিধায়ক তিনি।

কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থীতালিকা নিয়ে লিখেছে, এ থেকে স্পষ্ট, ‘কঠিন’ বিধানসভা নির্বাচনে ‘কঠোর’ প্রার্থিতালিকা তৈরি করেছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিধানসভা ভোটের আগে থেকেই প্রার্থিতালিকা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছিলেন মমতা। পাশাপাশি তিনি তথ্য নিয়েছেন ‘ভোটগুরু’ প্রশান্ত কিশোরের প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও। নানা খোঁজ নিয়ে তারপর তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে।

প্রশান্ত কিশোরের প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা সরেজমিনে গিয়ে প্রার্থীদের সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছেন। ‘স্বচ্ছ ভাবমূর্তি’-র বিষয়ে যেমন খোঁজ নেওয়া হয়েছে, তেমনই খোঁজ নেওয়া হয়েছে এলাকায় সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর জনপ্রিয়তা ও কর্মদক্ষতার বিষয়েও। পাশাপাশি, বিজেপির সঙ্গে ‘যোগাযোগ’ নিয়েও আবশ্যিক খোঁজখবর করা হয়েছে।

তবে এ তালিকা নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারেনি দলের একাংশ। মনোনয়ন না পাওয়ায় তারা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। হুমকি দিচ্ছেন দল ছাড়ার। গতকাল শুক্রবার রাতেই কলকাতার বড় বাজারের তৃণমূল বিধায়ক দীনেশ বাজাজ মনোনয়ন না পেয়ে দলত্যাগ করেছেন। রাতেই ছুটে গেছেন রাজ্য বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের কাছে।

যেসব বিধায়ক পুরনো আসনে দাঁড়াতে চাননি, তাদের সঙ্গে আপসে যাননি মমতা। কিছু বিধায়ককে বাদ দেওয়া হয়েছে অসুস্থতা ও বয়সের কারণে। অনেকে আবার লোকসভা ভোটের নিরিখে বিপুল ভোটে বিজেপির চেয়ে পিছিয়ে ছিলেন। অনেকের জীবনযাপন নিয় প্রশ্নের সঙ্গে অভিযোগও ছিল। অনেকে ‘নিষ্ক্রিয়’ হয়ে পড়েছিলেন।