মুক্তিযুদ্ধের অপর নাম জিয়া্উর রহমান : গয়েশ্বর

শুক্রবার, মার্চ ৫, ২০২১

ঢাকা : গণতন্ত্র পূনরুদ্ধারের আন্দোলন থেকে দূরে রাখতেই সরকার বিএনপির সংবেদনশীল জায়গায় আঘাত করছে বলে মন্তব্য করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

তিনি বলেন, ‘‘ওরা (আওয়ামী লীগ) মাঝে মধ্যে আমাদের বিভিন্ন সংবেদনশীল জায়গায় স্পর্শ করবে, আঘাত করবে। আর সেটা নিয়ে যদি আমরা ব্যস্ত হই তারা আরামে দিন কাটবে। গত ১২/১৩ বছরে এমনই দেখা গেছে। একেক সময়ে একেটা সেনসেটিভ ইস্যু সামনে নিয়ে এসেছে- সেটা নিয়ে আমরা খুব উত্তেজিত। কিন্তু আসল জায়গাটায় (গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার) আমরা হাত দিতে চাই না।”

শুক্রবার (৫ মার্চ) দুপুরে এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এই মন্তব্য করেন।

ক্ষমতাসীন দলের কঠোর সমালোচনা করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগ যেই চরিত্রের, আওয়ামী লীগ যা চায়-আওয়ামী লীগ আওয়ামী লীগের জন্য, মানুষের জন্য না। আর ভুপেন হাজারিকার গান শুনেছি-মানুষের মানুষের জন্য।”

জিয়াউর রহমানের ‘বীর উত্তম’ পদক বাতিলের অপচেষ্টার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা নিয়ে আমরা গর্ব করি, এই স্বাধীনতা যুদ্ধে এসেছে, ভাষনে আসে নাই। যুদ্ধে যদি স্বাধীনতা আসে সেই যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন জিয়াউর রহমান। সুতরাং মুক্তিযুদ্ধের অপর নাম জিয়া্উর রহমান।”

‘‘কে বা কারা জিয়াউর রহমানের খেতাব নিলো কি নিলো না, জিয়াউর রহমানকে কে কী বললো কী বললো না তাতে কিছু যায় আসে না। জিয়াউর রহমান তার জায়গায় আছেন, তিনি নিজের জায়গায় থাকবেন যতদিনে দেশ থাকবে,” যোগ করেন গয়েশ্বর।

স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের প্রসঙ্গ টেনে গয়েশ্বর বলেন, ‘‘আমাদের স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তীতে আমরা উদার গণতান্ত্রিক সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার একটা প্রচেষ্টা নিয়েছি। তো আঁতর ঘরে সঠিক ইতিহাস তুলতে গিয়ে আমি একটা ইতিহাস আড়াল করে ফেলেছি খালেদা জিয়াকে এবং মানুষ ফেইবুকে লিখতেছে ইত্যাদি, বাংলাদেশের মানুষ সমালোচনা করতেছে।”

‘‘তবে আনন্দের যে প্রাণশক্তি, সেই শক্তিকে যদি আমরা নিরব রাখি বা আড়ালে রাখি তাহলে কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বা আন্দোলন-সংগ্রামের জীবনদানের এই প্রশ্নটি আসবে কেনো? সেই কথাটা আমরা বুঝতে পারলাম না। প্রত্যেকটি ক্রাইসিস মূহুর্তে যারা অগ্রনী ভুমিকা পালন করে তাদেরকে যদি ইচ্ছা-অনিচ্ছায় পেছনে ফেলে রাখা হয় আর রাজনৈতিক অঙ্গনে দুর্বৃত্ত আর দুষ্ট গ্রহ যদি মানুষের সামনে দৃশ্যমান হয় সেক্ষেত্রে জনগনের আস্থার লাঘব হয়, সেক্ষেত্রে জনগন উতসাহিত হয় না,” বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে ‘গণতন্ত্র, গণমাধ্যম, গণকন্ঠ অবরুদ্ধ: বাংলাদেশের ভাগ্য কোন পথে’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়।

সংগঠনের সভাপতি সাহেদুল ইসলামের (লরেন) সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাসাসের আরিফুর রহমান মোল্লা প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।