৫ম ধাপের ২য় দিন ভাসানচর পৌঁছেছে ১৭৫৯ রোহিঙ্গা

বৃহস্পতিবার, মার্চ ৪, ২০২১

ঢাকা : পঞ্চম ধাপের দ্বিতীয় দিন ভাসানচর পৌঁছেছেন আরও ১৭৫৯ জন রোহিঙ্গা।

আজ বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) দুপুর দুইটায় রোহিঙ্গাদের বহনকারী নৌ-বাহিনীর ৫টি জাহাজ চট্টগ্রাম থেকে সকালে রওয়ানা হয়ে হাতিয়ার ভাসানচরে পৌঁছায়। ভাসানচরে আসার পর পরই তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মীরা। এসময় ঘাটে উপস্থিত ছিলেন নৌ বাহিনী ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

বৃহস্পতিবার আসা ১৭৫৯ রোহিঙ্গার মধ্যে নারী ৫১৫ জন, পুরুষ ৪৪৮ জন ও শিশু ৭৯৬ জন। পঞ্চম ধাপের প্রথম অংশে বুধবার (৩ মার্চ) ভাসানচরে এসেছে ২ হাজার ২শ ৫৭ জন রোহিঙ্গা। এদের মধ্যে ৫শ ৬৩ জন পুরুষ, ৬শ ৬৫ জন মহিলা ও ১ হাজার ২৯ জন শিশু রয়েছে।

বৃহস্পতিবার ভাসানচরে আসা রোহিঙ্গা দলটিকে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ওয়্যার হাউজে। সেখানে নৌ-বাহিনীর সদস্যরা তাদেরকে ভাসানচরে বসবাসের বিভিন্ন নিয়ম কানুন সম্পর্কে ধারণা দেয়। পরে বিকালে তাদের জন্য তৈরি আবাসস্থল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

নৌ-বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, এর আগে স্থানান্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম বোট ক্লাব থেকে নৌবাহিনীর পাঁচটি জাহাজে করে ১ হাজার ৭শ ৫৯ জন রোহিঙ্গা ভাসানচরে উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়।

অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কার্যালয় সূত্র জানায়, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চার দফায় কক্সবাজারের ক্যাম্প থেকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়েছে ৯ হাজার ৫শ ৩৬ জন রোহিঙ্গা। প্রথম দফায় গত ৪ ডিসেম্বর ১ হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গা স্বেচ্ছায় ভাসানচরে গেছেন। এরপর ২৯ ডিসেম্বর দ্বিতীয় ধাপে যান ১ হাজার ৮০৫ জন ও তৃতীয় ধাপে দুই দিনে ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি ৩ হাজার ২শ জন রোহিঙ্গাদের ভাসানচর স্থানান্তর হয়। এছাড়া চতুর্থ ধাপের ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রথম দিন ২ হাজার ১০ জন ও ১৫ ফেব্রুয়ারি ৮শ ৭৯ জন রোহিঙ্গা ভাসানচরের উদ্দেশ্যে উখিয়া কলেজের অস্থায়ী ট্রানজিট ক্যাম্প ত্যাগ করে।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ইমরান হোসেন বলেন, ভাসানচরের আশ্রয়শিবিরে মোট এক লাখ রোহিঙ্গাকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা আছে সরকারের। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ইতিমধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৫শ কোটি টাকা ব্যয়ে মোটামুটি ১৩ হাজার একর আয়তনের ওই চরে ১২০টি গুচ্ছ গ্রামের অবকাঠামো তৈরি করে যাতে এক লাখের বেশি মানুষের বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।