ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগের বিষয়ে সরকার সতর্ক

বৃহস্পতিবার, মার্চ ৪, ২০২১

ঢাকা : ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যেন অপপ্রয়োগ না হয় সে বিষয়ে সরকার সতর্ক আছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার (০৪ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সব মানুষের নিরাপত্তার জন্য করা হয়েছে। যখন এই ডিজিটাল বিষয়টা ছিল না তখন এই আইনের প্রয়োজনও ছিল না। যখন ডিজিটাল বিষয়টি এসেছে তখন ডিজিটাল নিরাপত্তার বিষয়টি এসেছে। এ ধরনের আইন ভারত, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুরসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আছে। সুতরাং এই আইন বিভিন্ন দেশ প্রণয়ণ করেছে। এই আইনের বলে সেখানেও শাস্তি ও গ্রেফতার হচ্ছে। তবে এ আইনে যাতে অপপ্রয়োগ না হয় সে বিষয়ে আমরা সতর্ক আছি এবং সতর্ক থাকব।

গতকাল নাগরিক সমাবেশ থেকে একটি আলটিমেটাম দিয়েছে, ২৬ মার্চ থেকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের বিষয়ে। এ বিষয় নিয়ে সরকারের মতামত জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ওনারা কয়েকজন নাগরিক মিলে এটা বলেছেন। বাংলাদেশে তো কয়েকজন নাগরিক না, বহু নাগরিক আছে। নাগরিক বলতে শুধু ওই কয়েকজন যারা বক্তৃতা করেছেন, যারা সবসময় সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন তাদেরকে বোঝায় না। বাংলাদেশে আরও নাগরিক রয়েছেন, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি আছেন হাজার হাজার লাখ লাখ।

তিনি বলেন, কোনো আইনের বলে যদি কেউ গ্রেফতার হয় বা কারাগারে যায় তিনি যদি কোনো কারণে মৃত্যুবরণ করেন, সেটা যদি স্বাভাবিক বা অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়, তাহলে সে আইন যদি বাতিল করতে হয় তবে বাংলাদেশের সব আইন বাতিল করার কথা আসে। এছাড়া অন্যান্য আইনে দেশে গ্রেফতার হয়, কারাগারে মৃত্যুবরণ করে তাহলে সেসব আইনও বাতিল করতে হবে।

যুবদল প্রেসক্লাবে সমাবেশ করছে জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের প্রতিবাদে। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান কি? জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রথমতো জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সময় সেক্টর কমান্ডার ছিলেন বটে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ভূমিকা রহস্যজনক ছিল।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়াউর রহমান ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের পরে পুনর্বাসিত করেছিলেন। তারপর যুদ্ধাপরাধীদের যারা বাংলাদেশ চায়নি, বাংলাদেশের পতাকার বিরুদ্ধে যারা লড়াই করেছে, পাকিস্তানিদের পক্ষ হয়ে গণহত্যা করেছে তাদেরকে তিনি মন্ত্রী বানিয়েছেন। তার মন্ত্রিসভার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শাহ আজিজুর রহমান। যিনি মুক্তিযুদ্ধচলাকালীন সময়ে পাকিস্তানের প্রতিনিধি দলের ডেপুটি লিডার হয়ে জাতিসংঘে গিয়ে পাকিস্তানের পক্ষে ওকালতি করেছিলেন এবং বলেছিলেন পূর্ব পাকিস্তানে কোনো যুদ্ধ হচ্ছে না। কিছু ভারতীয় চড় সেখানে গণ্ডগল করছে মাত্র এবং সেখানে কোনো গণহত্যা হচ্ছে না।

দেশে এতো মানুষ থাকতে জিয়াউর রহমান কেন শাহ আজিজুর রহমানকে বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রীর জন্য, সে প্রশ্ন রেখে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর সব খুনিদের আশ্রয় প্রশ্রয় দেওয়া, সব ঘটনা প্রবাহ সাক্ষ্য দেয় মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমানের কর্মকাণ্ড সাক্ষ্য দেয় যে, তিনি আসলে মুক্তিযোদ্ধার আড়ালে পাকিস্তানিদের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। সে কারণেই তার খেতাব বাতিলের প্রশ্নটি এসেছে। তবে খেতাব বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।