পুলিশ কেন ‘প্রতিপক্ষ’: আইজিপিকে উত্তর খুঁজতে বললেন মির্জা ফখরুল

মঙ্গলবার, মার্চ ২, ২০২১

ঢাকা : পুলিশ কেন ‘প্রতিপক্ষ’ আইজিপি বেনজীর আহমেদকে এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মির্জা ফখরুল বলেন, পত্রিকায় দেখলাম যে, পুলিশের আইজি সাহেব তিনি একটা প্রশ্ন রেখেছে। সেটি হচ্ছে- পুলিশকে প্রতিপক্ষ বলা হচ্ছে কেন? আমারও একই প্রশ্ন। আপনি তো একজন শিক্ষিত মানুষ, ব্রাইট অফিসার, সুদর্শন। আপনি কি একবারও প্রশ্ন করেছেন নিজেকে যে পুলিশকে কেন প্রতিপক্ষ ভাবছে জনগণ? কারা প্রতিপক্ষ ভাবছে? এই প্রশ্ন আপনি নিজেকে করে উত্তর খুঁজে বের করুন।

তিনি বলেন, আজকে যখন নির্বাচন হয়, সেই নির্বাচনে পুলিশ দিয়ে ভোট দিয়ে দেন। অন্য কাউকে দরকার হয় না। আজকে যখন একটা রাজনৈতিক ইস্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো নিয়মতান্ত্রিকভাবে, গণতান্ত্রিকভাবে সাংবিধানিক অধিকার অনুযায়ী প্রতিবাদ করতে যায় তখন তাদের এই যে, নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতন কেন করা হয়? আজকে কেন বলা হয় থানায় থানায় যে দেশটা আমরা চালাই, আমরা সরকার তৈরি করেছি, আমরাই এসব ব্যবস্থা করব। সেই প্রশ্নটা নিজেদের করুন, জানার চেষ্টা করুন তাহলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।

দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সকল রাজনৈতিক শক্তির বৃহত্তর ঐক্যের আহ্বানও জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বিএনপির স্বাধীনতা সুবর্ণ জয়ন্তী উদ্‌যাপন জাতীয় কমিটির উদ্যোগে ঐতিহাসিক পতাকা উত্তোলন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

সভার আগে মিলনায়তনের সামনে বিএনপি মহাসচিবকে নিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন আ স ম আবদুর রব। ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ডাকসু ভিপি স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতা আ স ম রব প্রথম বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেছিলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে দেশের একমাত্র প্রধান সংকট হচ্ছে যে, আমাদের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আজকে আমাদের গণতন্ত্র হারিয়ে গেছে, স্বাধীনতার সমস্ত চেতনা লুণ্ঠন করে নিয়েছে। আজকে বিএনপিকে নেতৃত্ব দিতে হবে এই ভয়াবহ ফ্যাসিবাদী সরকারকে সরিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবার জন্য।

‘আওয়ামী লীগ জাতিকে বিভক্ত করেছে’ এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছরে আমরা দুর্ভাগ্যজনকভাবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গোটা জাতি বিভক্ত হয়ে গেছে। তারা শুধু তাদের নেতা এবং যে সমস্ত নেতৃবৃন্দ আছেন তাদের ছাড়া আর কাউকে স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য, স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য স্বীকৃতি দিতে চায় না। স্বাধীনতা কোনো একজন বিশেষ ব্যক্তি বা কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা দলের কারণে আসেনি। দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্বদানকারীরা হলেন শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, শেখ মুজিবুর রহমান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।’

মির্জা ফখরুল বলেন, স্বাধীনতা এসেছে দীর্ঘকাল ধরে এ দেশের মানুষের যে স্বাধীনতা আকাঙ্ক্ষা আমি যতটুকু দেখেছি যে, সেই ব্রিটিশ পিরিয়ড থেকে এ দেশের মানুষ স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা করে আসছিল, সে জন্য এখানে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে স্বদেশি আন্দোলন হয়েছে, পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে উঠে যার নেতৃত্ব দিয়েছে বাংলাদেশের ছাত্র সমাজ।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দুর্ভাগ্য আমাদের স্বাধীনতার পরে যারা ক্ষমতায় বসলেন তাদের হাতে গণতন্ত্র হত্যা হলো, তারা সর্বপ্রথম পুরোনো কালাকানুন বিশেষ ক্ষমতা আইন, জরুরি অবস্থার আইন এবং সর্বোপরি সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে দিয়ে একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করল। তাদের যে রাজনৈতিক কেমিস্ট্রি, তাদের যে চিন্তা-দর্শন সেখানে একটা একনায়কতান্ত্রিক, একটা স্বৈরাচারী মনোভাব ইনহেরেন্ট তাদের মধ্যে রয়ে গেছে। সেই কারণে এত দীর্ঘকাল পরে আবার ক্ষমতায় আসার পরে তারা সেই ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার জন্য একই পথ বেছে নিয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। সভা পরিচালনা করেন আবদুস সালাম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর, বিএনপি নেতাদের মধ্যে মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, আমানউল্লাহ আমান, এসএম ফজলুল হক, খায়রুল কবির খোকন, শিরিন সুলতানা প্রমুখ।

এর আগে দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বাংলাদেশ জিয়া শিশু একাডেমির উদ্যোগে আয়োজিত ১১তম জাতীয় শিশু শিল্পী প্রতিযোগিতা ‘শাপলা কুঁড়ি-২০১৯’ এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শিশুদের জন্য সুন্দর-শান্তিময় আবাসস্থল নির্মাণে সকলকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল। পরে তিনি নিজ হাতে শিশুদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।