রাজধানীর যেসব এলাকার বাসিন্দারা পাচ্ছেন প্রিপেইড গ্যাস মিটার

শনিবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২১

ঢাকা : গ্যাস সংকট যন্ত্রণা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না ঢাকাবাসী। বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট থাকায় রান্না করা যাচ্ছে না। মাসের পর মাস গ্যাস সংকট থাকলেও বিল ঠিকই নিচ্ছেন গ্যাস কর্তৃপক্ষ। এজন্য গ্যাসের গ্রাহকরা ভাবছেন তাদেরকে ঠকানো হচ্ছে। গ্রাহকরা ঠকছেন এমন চিন্তাচেতনা দূর করা, গ্যাসের অপচয় রোধ ও সিস্টেমলস হ্রাস করার উদ্দেশ্যে প্রিপেইড গ্যাস মিটার বাড়ানো হচ্ছে। চলতি বছরের মার্চ থেকে রাজধানীতে আরও ১ লাখ ২০ হাজার প্রিপেইড গ্যাস মিটার বসছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, করোনা মহামারির কারণে প্রিপেইড গ্যাসের মিটার বসানোর কাজটি পিছিয়ে যায়। বর্তমানে রাজধানীতে ২ লাখের বেশি প্রিপেইড গ্যাস মিটার বসানো হয়েছে। মার্চ মাসে আরও ১ লাখ ২০ হাজার প্রিপেইড গ্যাস মিটার বসানো হলে গ্রাহকরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন। নতুন প্রিপেইড গ্যাস মিটারের আওতাধীন এলাকা হচ্ছে যাত্রাবাড়ী, বংশাল, গেন্ডারিয়া, লালবাগ, হাজারীবাগ, শাহবাগ ও নিউ মার্কেট। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) সুপারিশে এসব এলাকাযুক্ত করা হচ্ছে ‘প্রিপেইড গ্যাস মিটার স্থাপন’ প্রকল্পে।

বাসাবাড়িতে মিটারবিহীন গ্যাসের চুলায় শীতের মৌসুমে কাপড় শুকানো, অপ্রয়োজনে গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে রাখলেও নির্দিষ্ট অঙ্কের বিল পরিশোধ করেন গ্রাহক। গ্যাসের অপচয় রোধ ও যতটুকু ব্যবহার ততটুকুর বিল পরিশোধের লক্ষ্যে সরকার ২০১৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ৭শ’ ১২ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রিপেইড গ্যাস মিটারের জন্য একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়। প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে বাস্তবায়নের লক্ষ্য কাজ শুরু করে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (টিজিটিডিসিএল)। ২০২০ সাল নাগাদ প্রকল্পের আওতায় ২ লাখ ৩০ হাজার প্রিপেইড গ্যাসের মিটার বসানো হয়। গ্রাহকরা মিটারের সুফলতা পাওয়ায় নতুন করে প্রকল্পের সংশোধনী এনে আরও ১ লাখ ২০ হাজার মিটার স্থাপনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

উত্তরা রানাভোলা এলাকার বাসিন্দা আশরাফ তালুকদার বলেন, পানি সংকটের কারণে আগে এই এলাকার মানুষ রাত জেগে ওয়াসার পানি ধরে রাখতেন। এখন গ্যাস সংকটের কারণে রাত জেগে রান্না করতে হচ্ছে। গ্যাসের চাপ কম যাওয়ায় রান্নার সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু গ্যাস যারা সরবরাহ করছেন তারা ঠিকই প্রতি গ্যাসের চুলার বিল নিচ্ছেন। এজন্য বিদ্যুতের মতো গ্যাসের প্রিপেইড মিটার হলে মানুষ যতটুকু গ্যাস ব্যবহার করবেন ততটুকুর বিল পরিশোধ করবেন। এই সিস্টেম আসা দরকার।

প্রিপেইড গ্যাস মিটার পেতে খরচ হিসেবে সামান্য টাকা নেওয়া হচ্ছে। মিটার নষ্ট হলে চব্বিশ ঘণ্টা সার্ভিসের ব্যবস্থা রেখেছে তিতাস গ্যাস কোম্পানি। জাইকার কারিগরি এবং আর্থিক সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। ঢাকা শহরে বর্তমানে গ্যাস সংযোগ আছে ২৮ লাখ।

প্রিপেইড গ্যাসের মিটার ও কার্ডের সমস্যা সমাধানে নিয়োজিত রয়েছে সফট্ওয়ার ইঞ্জিনিয়ার কাজল বলেন, প্রিপেইড গ্যাস মিটারে ত্রুটি দেখা দিলে তা সঙ্গে সঙ্গে ঠিক করে দেওয়া হয়। আবাসিক পর্যায়ে গ্রাহকদের প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজারের মতো প্রিপেইড গ্যাসের মিটার সরবরাহ করা হচ্ছে। আগামী মার্চ মাস থেকে নতুন করে আরও ১ লাখ ২০ হাজার মিটার স্থাপনের লক্ষ্য রয়েছে সংস্থাটির। রাজধানীর কোন কোন এলাকায় নতুন গ্যাসের মিটার বসানো হবে সেই পরিকল্পনাও হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রিপেইড গ্যাসের মিটার গ্রাহকদের জন্য যেমন সাশ্রয়ী তেমনি গ্যাস অপচয় রোধ হবে। কারণ এখন একটি গ্যাসের চুলার জন্য বাসাবাড়িতে ৮শ’ থেকে ৯শ’ টাকা খরচ করতে হয়। কিন্তু দেখা যায়, গ্যাসের লাইনে গ্যাসের চাপ কম থাকায় ঠিকভাবে গ্রাহক গ্যাস পাচ্ছেন না। এতে করে গ্রাহক ঠকলেও গ্যাস সরবরাহ কর্তৃপক্ষের কিছুই করার থাকে না। সেজন্য প্রিপেইড গ্যাসের মিটার হলে একটি পরিবার যতটুকু গ্যাস ব্যবহার করতে ততটুকুর বিল পরিশোধ করবেন।

গ্যাস সরবরাহ সংকটের বিষয়ে ভোক্তা অধিকারের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের লাইনে গ্যাসের চাপ কম থাকায় আবাসিক পর্যায়ে সমস্যা হচ্ছে। বছরের কয়েক মাস বিশেষ করে শীতের মৌসুমে লাইনে গ্যাস সরবরাহ কম থাকলেও গ্যাস সরবরাহ সংস্থাটি ঠিক তাদের নির্ধারিত বিল নিচ্ছেন গ্রাহকদের কাছ থেকে। এজন্য রাজধানীর প্রতিটি এলাকায় প্রিপেইড গ্যাসের মিটার স্থাপন করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।