খাসোগিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন মোহাম্মাদ বিন সালমান: মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন

শনিবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সৌদি আরবের ক্ষমতাধর যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমান ব্যক্তিগতভাবে সেদেশের ভিন্ন মতাবলম্বী সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

২০১৮ সালে তৈরি করা মার্কিন সরকারের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিবেদনটি ধামাচাপা দিয়ে রাখলেও বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তা প্রকাশ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোহাম্মাদ বিন সালমান এমন একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছিলেন যাতে সৌদি নিরাপত্তা বাহিনীকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, খাসোগিকে ধরে আনতে অথবা হত্যা করতে হবে।

এই প্রথম মার্কিন সরকার খাসোগিকে হত্যার জন্য সরাসরি সৌদি যুবরাজকে দায়ী করল। মোহাম্মাদ বিন সালমান শুরু থেকে এই হত্যাকাণ্ডের দায় অস্বীকার করে আসছিলেন।

এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, খাসোগি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে সৌদি আরবের ৭৬ নাগরিকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। এসব সৌদি নাগরিক আমেরিকার ভিসা পাবেন না। তবে বাইডেন প্রশাসন সৌদি যুবরাজের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে না বলে মার্কিন বার্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে।

মোহাম্মাদ বিন সালমান ও তার বাবা সৌদি রাজা সালমানের সমালোচক হিসেবে পরিচিত খাসোগি জীবনের নিরাপত্তার ভয়ে আমেরিকায় স্বেচ্ছা নির্বাসনে চলে গিয়েছিলেন। তিনি ওয়াশিংটন ডিসি’র শহরতলীতে বসবাস করতে শুরু করেন এবং সেখানে বসেই ওয়াশিংটন পোস্টে নিবন্ধ লিখে সৌদি রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকেন। দেশত্যাগের আগে বহুদিন রাজ পরিবারের সঙ্গে জামাল খাসোগির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে তিনি খুনি মোহাম্মাদ বিন সালমান ও তার রাজ পরিবারের হাড়ির খবর জানতেন। সৌদি যুবরাজ ঠিক এ কারণেই জামাল খাসোগিকে ভয় পেতেন।

খাসোগি ২০১৮ সালের অক্টোবরে দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্য তুরস্কের ইস্তাম্বুলস্থ সৌদি কনস্যুলেটে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আনতে গিয়ে নৃশংসভাবে নিহত হন। সৌদি আরব থেকে বিশেষ বিমানে করে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি দল তাকে হত্যা করার জন্য আগেই ইস্তাম্বুলে পৌঁছে গিয়েছিল এবং তারাই খাসোগিকে হত্যা করে তার লাশ টুকরো টুকরো করে ফেলে। এখন পর্যন্ত খাসোগির লাশের সন্ধান পাওয়া যায়নি।