তামিমার তালাক নোটিস পায়নি প্রথম স্বামীর পরিবার!

শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২১

ঢাকা : বাংলাদেশ জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার নাসির হোসেনের নববিবাহিত স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মির পাঠানো তালাকের কোনও নোটিস প্রথম স্বামী রাকিবের গ্রামের বাড়িতে আসেনি বলে জানা গেছে। রাকিবের গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার ভৈরবপাশা ইউনয়ন পরিষদে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন ও ইউনিয়ন পরিষদ সচিব মাকসুদুল হক তালাক নোটিস রাকিবের পরিবার পায়নি বলে জানিয়েছেন। অথচ গেল বুধবার ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে রাকিব হোসেনকে তালাক দেয়ার দাবি করেন তাম্মি এবং তালাকের নোটিশ তার এলকায় পাঠানোর কথাও দাবি করেন তিনি।

রাকিবের গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার ভৈরবপাশা ইউনিয়নের ষাইটপাকিয়া গ্রামে ওই গ্রামের তাদের বাড়িঘর থাকলেও তারা ওখানে বসবাস করেন না। তবে রাখিবের মা তার শিশুকন্যাকে নিয়ে উপজেলার নলছিটি পৌর এলাকার বিশিষ্ট ঠিকাদার মাফুজ খানের বাসায় ভাড়া থাকেন। সেখানে গিয়ে রাকিব-তাম্মি দম্পতির ৮ বছরের শিশুকন্যা রাফিয়া হাসান তুবাকে রাকিবের মায়ের সাথে দেখা গেছে।

রাকিবের মা জানান, তার ছেলেকে তালাক দিয়েছে তা কয়েকদিন আগে মিডিয়ার সংবাদে তারা জানতে পারেন। তবে তালাকের কোনও কাগজই তারা পাননি।

ক্রিকেটার নাসির হোসেন এবং তামিমা সুলতানা তাম্মির বিয়ে নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই চলছে তোলপাড়। প্রথম স্বামী রাকিব হোসেন এরইমধ্যে মামলা করেছেন স্ত্রী তাম্মি ও নাসিরের বিরুদ্ধে। মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে যে, প্রথম স্বামী বর্তমান থাকতে এবং তাকে তালাক না দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন তাম্মি। আর নাসিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে করা।

এসব অভিযোগের জবাব দিতে বুধবার ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন নাসির ও তাম্মি। সেখানে তাম্মি দাবি করেন যে, রাকিবকে অনেক আগেই তালাক দিয়েছেন তিনি। আর নাসির বলছেন, দেশের আইন ও ধর্মীয় রীতিনীতি মেনেই তিনি তামিমাকে বউ করে ঘরে তুলেছেন। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে এই নবদম্পতি এখন ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’।

সংবাদ সম্মেলনে তালাকের কপি দেখিয়ে তাম্মি জানান, তালাকের এই কপি রাকিবের গ্রামের বাড়ি নলছিটি উপজেলার ভৈরবপাশা ইউনিয়ন পরিষদেও পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখানে খবর নিয়ে এর কোনও সত্যতা পাওয়া যায়নি। ইউনিয়ন পরিষদ বা রাকিবের পরিবার এরকম কোনও কাগজ পাননি বলে জানা গেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এরকম কোনও তালাকের নোটিস বা কোনও কাগজ পাননি বলে জানিয়েছেন নলছিটির ভৈরবপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন ও সচিব মাকসুদুল হক মাকসুদ।

ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ এ সংক্রান্ত রেজিস্টার দেখিয়ে ব্রেকিংনিউজকে বলেন, সাধারণ রেজিস্টার্ড ডাকযোগে এ জাতীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়। রেজিস্টার্ড ডাকযোগে পাঠানো হলে তা না আসার কোনো কারণ নেই। রেজিস্টারে এ ধরনের নোটিস আসার কোনও প্রমাণ লিপিবদ্ধ নেই। তাছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে যেরকম তোলপাড় চলছে তা জানার পর পুনরায় যাচাই করে দেখা হচ্ছে। কিন্তু কোনও ধরনের নোটিস আসার রেকর্ড নেই।