ছাত্রদলের কমিটিতে আওয়ামী লীগ নেত্রীর বিবাহিত ছেলে!

শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২১

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ২১ সদস্যের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা ছাত্রদলের কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন জেলা ছাত্রদল। এতে আওয়ামী লীগ নেত্রী বেবী ইয়াছমিনের বিবাহিত ছেলে ও পুলিশ অ্যাসল্ট মামলার পলাতক আসামি এম. রিফাত বিন জিয়াকে করা হয়েছে আহ্বায়ক। তার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক বিয়ের অভিযোগ। আর সদস্য সচিব করা হয়েছে ঢাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মো. আমান উল্লাহকে। আমানের বিরুদ্ধে রয়েছে অছাত্রত্বের অভিযোগ।

গত ২৪ জানুয়ারি বুধাবার এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওইদিন রাতেই অবৈধ ও পকেট কমিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে মিছিল বের করে রিগানের নেতৃত্বে ছাত্রদলের একটি গ্রুপ। রাত ১০টার দিকে মিছিল শেষে পথ সভা চলাকালে ওই কমিটিরই যুগ্ম আহ্বায়ক-২ মোস্তাকিমুর রহমান ও সরাইল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মোস্তাক আহমেদ খন্দকার রিগানকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, এক বছর আগে সরাইল উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি ভেঙ্গে দিয়েছে জেলা ছাত্রদল। গত এক বছরে কোন সভা ও সম্মেলন নেই। হঠাৎ করেই জেলা ছাত্রদল কর্তৃক অনুমোদিত দলীয় প্যাডে ২১ সদস্য বিশিষ্ট সরাইল উপজেলা ছাত্রদলের একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়। প্রতিবাদে রাজপথে নেমে পড়ে রিগানের নেতৃত্বে ছাত্রদলে একাংশের নেতা কর্মীরা। সকাল বাজার থেকে মিছিল করে হাসপাতাল মোড় হয়ে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পথসভা করে। পথ সভায় তারা রিফাত ও আমানকে অছাত্র উল্লেখ করে এ কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করে। সেই সাথে বক্তারা বলেন, রিফাতের মা বেবী ইয়াছমিন সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির ৩০ নম্বর সদস্য। রিফাত নিজ গ্রামে ও নবীনগরে ২টি বিয়ে করেছেন। এছাড়া আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব দু’জনেরই ছাত্রত্ব নেই। রাত ১০টার দিকে ওই সভা থেকে পুলিশ রিগান মোস্তাকিনকে গ্রেফতার করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তারা জামিনে বেরিয়ে আসেন।

সরাইল উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. ইসমাইল হোসেন উজ্জ্বল বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিবাহিত অছাত্র ছাত্রদলের কমিটিতে আসতে পারে না। রিফাত একাধিক মামলার পলাতক আসামি। কমিটি গঠনে মোটা অংকের টাকা লেনদেন হয়েছে।

জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফুজায়েল চৌধুরী বলেন, ছাত্রদলের গঠনতন্ত্রে কোন অছাত্র ও বিবাহিতের স্থান কমিটিতে নেই। সরাইলের কমিটিটি কেন্দ্রের নির্দেশে করা হয়েছে। আমরা এর বেশী কিছু জানি না। তবে এখন ফেসবুকে রিফাতের বিয়ের ছবি দেখা যাচ্ছে। আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোন প্রমাণও নেই।