এসকে সুর চৌধুরী ও শাহ আলমের ব্যাংক হিসাব তলব

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২১

ঢাকা: আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাশেদুল হক বলেছেন, অনিয়ম চাপা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন কর্মকর্তাদের ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা করে দিত রিলায়েন্স ফাইন্যান্স ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। তখন শাহ আলমকে মাসে দেয়া হতো ২ লাখ টাকা করে। আর অনিয়ম-দুর্নীতি ধামাচাপা দিতেন সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী।

বিদেশে পলাতক দুর্নীতি মামলার আসামি প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারের লুণ্ঠনে সহযোগী হিসেবে নাম আসা বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরী ও বর্তমান নির্বাহী পরিচালক (ইডি) শাহ আলমের ব্যাংক লেনদেনের তথ্য জানতে চেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। এতে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তাদের গত ২০১৩ সাল থেকে সব ধরনের লেনদেনের তথ্য জানাতে বলা হয়েছে।

এই দুইজনের পাশাপাশি এস কে সুর চৌধুরীর স্ত্রী সুপর্ণা সুর চৌধুরী এবং মো. শাহ আলমের দুই স্ত্রী শাহীন আক্তার শেলী ও নাসরিন বেগম এবং তাদের সন্তানদের ব্যাংক লেনদেনের তথ্যও জানতে চাওয়া হয়েছে।

এনবিআরের গোয়েন্দা সেলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আলোচ্য এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এনবিআর থেকে তাদের ব্যাংক লেনদেনের তথ্য চাওয়া হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক এ ব্যাপারে কিছু জানে না।’

পি কে হালদার রিলায়েন্স ফাইনান্স, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা লুট করেছেন বলে অভিযোগ আছে।

আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাশেদুল হক বলেছেন, অনিয়ম চাপা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন কর্মকর্তাদের ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা করে দিত রিলায়েন্স ফাইন্যান্স ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং।

তখন শাহ আলমকে মাসে দেয়া হতো ২ লাখ টাকা করে। আর অনিয়ম-দুর্নীতি ধামাচাপা দিতেন সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী।

গত ২৩ জানুয়ারি রাজধানীর সেগুনবাগিচা থেকে দুদকের একটি দল রাশেদুল হককে গ্রেপ্তার করে। ২৬ জানুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বাকী বিল্লাহর কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।

পিপলস লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান উজ্জ্বল কুমার নন্দী আদালতকে বলেছেন, অনিয়ম চাপা দিতে এস কে সুর ও শাহ আলমসহ কয়েকজনকে পিপলস লিজিং থেকে সাত বছরে সাড়ে ৬ কোটি টাকা ঘুষ দেওয়া হয়েছে।

গণমাধ্যমে এসব বক্তব্য উঠে আসার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের দায়িত্ব থেকে নির্বাহী পরিচালকের পদ থেকে শাহ আলমকে সরিয়ে দেয়া হয়। ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগ-২ এর দায়িত্বও হারিয়েছেন তিনি।

এসকে সুর চৌধুরী ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে অবসরে যাওয়ার পর তাকে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপদেষ্টা করা হয়। বর্তমানে তিনি অবসরে।