ভাষা শহীদদের স্মরণে লাখো প্রদীপে আলোকিত নড়াইল

রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২১

নড়াইল প্রতিনিধি : ‘অন্ধকার থেকে মুক্ত করুক একুশের আলো’-এ স্লোগানে নড়াইলে ভাষা শহীদদের স্মরণ করা হয়েছে। একটি, দু’টি নয়-লাখো মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করে ভাষা শহীদদের স্মরণ করা হয়। পালন করা হয় অমর একুশে।

মুহূর্তেই অন্ধকার ছাপিয়ে মোমের আলোয় আলোকিত হয়ে যায় নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের বিশাল খেলার মাঠ (কুরিডোব মাঠ)। প্রায় ৬ একরের বিশাল মাঠে মোমবাতির আলোয় অল্পনাসহ বাংলাদেশের নানান ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়। এছাড়া ৭০টি ফানুস ওড়ানো হয়। মুজিববর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে এবারের প্রদীপ প্রজ্জ্বলন উৎসর্গ করা হয়।

একুশ উদ্যাপন পর্ষদের আয়োজনে রোববার (২১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় লাখো মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন-পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম (বার), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রিয়াজুল ইসলাম, অধ্যাপক মুন্সি হাফিজুর রহমান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলু, সদর উপজেলা ইউএনও সালমা সেলিম, নড়াইল পৌরসভার মেয়র আঞ্জুমান আরা, অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক, নাট্যকার ও অভিনেতা কচি খন্দকারসহ অনেকে।

একুশ উদ্যাপন পর্ষদের কর্মকর্তারা জানান, ভাষা শহীদদের স্মরণে ১৯৯৮ সালে নড়াইলে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন শুরু হয়। প্রথমবার নড়াইলের সুলতান মঞ্চসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১০ হাজার মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়। এরপর থেকে নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ খেলার মাঠে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করে ভাষা শহীদদের স্মরণ করা হচ্ছে। প্রতিবছর এর ব্যপ্তি বেড়েছে। এ বছর (২০২১) লাখো মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়। এছাড়া ভাষা দিবসের ৭০তম বার্ষিকীতে ওড়ানো হয় ৭০টি ফানুস। অল্পনাসহ দৃষ্টিনন্দন নকশা উপস্থাপন করে ভাষা শহীদদের স্মরণ করা হয়।

স্বেচ্ছাসেবক মির্জা গালিব সতেজ জানান, রোববার সকাল থেকে প্রায় দুইশত স্বেচ্ছাসেবী লাখো মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের কাজ শুরু করেন। আর সন্ধ্যায় একটি একটি করে মোমের আলোয় আলোকিত হয়ে যায় বিশাল মাঠ।

বর্ণাঢ্য এই আয়োজন দেখতে দুর-দুরান্ত থেকে হাজারো মানুষ ভিড় করেন নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ খেলার মাঠে।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ছাড়াও একুশের কবিতা, গান, গণসঙ্গীতসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এদিকে, ভাষা শহীদদের স্মরণে ঊষার আলো সমাজকল্যাণ সংঘের উদ্যোগে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করা হয়।