স্বামীর ধর্ষণের ভিডিও করেন স্ত্রী!

বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২৮, ২০২১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া জিনতা (ছদ্মনাম)। একটি ওয়ার্কশপে অংশ নিতে গিয়েছিলেন কলেজে। সেখান থেকে ফেরার পথে একজন এসে ছাত্রী পরিচয় দিয়ে তার সাথে কথা বলেন।

হঠাৎ করে তাদের সামনে এসে একটি গাড়ি থামে। এরপর ওই নারী এবং তার স্বামী জোর করে গাড়িতে তুলে বাড়িতে নিয়ে যান বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছাত্রীকে। সেখানে নিয়ে ওই ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন ওই ব্যক্তি এবং সেই ধর্ষণের ভিডিও করেন স্বয়ং তার স্ত্রী।

মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) পাকিস্তানের সাংবাদ মাধ্যম ডন এ খবর প্রকাশ করেছে। খবরে বলা হয়, ঘটনাটি গত বছরের আগস্টের। পাকিস্তানের আল্লামা ইকবাল ওপেন ইউনিভার্সিটির এমএসসির শিক্ষার্থী এই তরুণী। তাকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় সোমবার রায় ঘোষণা করেন রাওয়ালপিন্ডির একটি আদালত।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত ওই ব্যাক্তি ৩৩ বছর বয়সী কাসিম জাহাঙ্গীরকে ধর্ষণের দায়ে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ লাখ রুপি জরিমানা করেন রাওয়ালপিন্ডির অতিরিক্ত সেশন জজ জাহাঙ্গীর আলী গোন্ডাল। রায়ে অপহরণের দায়ে তাকে (কাসিম) আজীবন কারাদণ্ড ও ১০ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়। জরিমানা না দিলে তাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এ ছাড়া ইলেকট্রনিক ক্রাইমস অ্যাক্ট, ২০১৬ অনুযায়ী তাকে তিন বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়।

পাশাপাশি আদালত ক্ষতিপূরণ হিসেবে ওই ছাত্রীকে ১০ লাখ রুপি দিতে কাসিমকে নির্দেশ দিয়েছেন। আর তা দিতে ব্যর্থ হলে তাকে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। অন্যদিকে অপহরণের দায়ে কাসিমের স্ত্রী ২৪ বছরের কিরণ মেহমদুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি ইলেকট্রনিক ক্রাইমস অ্যাক্ট, ২০১৬ অনুযায়ী তাকেও তিন বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়।

দণ্ডিত ওই ব্যক্তি প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ বলে ডনের খবরে জানানো হয়েছে। তিনি ৪৫ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে যৌন হয়রানি এবং তাদের ছবি ও ভিডিও তৈরি করেছেন বলে স্বীকার করেছেন।

তবে পুলিশ যখন ওই শিশু-কিশোরীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, তখন কেউই সামাজিক লোকলজ্জার ভয়ে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি। পুলিশ এসব ঘটনায় কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার সহায়তা চেয়েছে বলেও পাকিস্তানের সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে।