করোনার টিকা প্রয়োগ দেয়া হবে রাজধানীর ৫ হাসপাতালে

বুধবার, জানুয়ারি ২৭, ২০২১

ঢাকা : প্রথম দিনের সফলতার পর টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও টিকাদানের সার্বিক অভিজ্ঞতা যাচাই করতে বৃহস্পতিবার পরীক্ষামূলক টিকা প্রয়োগ হবে রাজধানীর পাঁচটি হাসপাতালে। এসব হাসপাতালের ৪০০ থেকে ৫০০ স্বাস্থ্যকর্মীকে এক যোগে দেয়া হবে টিকা। সাত দিন পর্যবেক্ষণনের পর ৭ই ফেব্রয়ারি দেশব্যাপী টিকা কার্যক্রম শুরু করবে সরকার।

বুধবার, দেশের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে দিনটি। এদিন, নানা শ্রেণীপেশার ২৬ জনের দেহে সফল টিকা দিয়ে বিশ্বের অনেক দেশকেই পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। কোন ধরণের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই সফল এই টিকা প্রয়োগ শুরু হচ্ছে পর্যায়ক্রমে।

এ লক্ষে টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সার্বিক অভিজ্ঞতা যাচাই করতে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হবে পরীক্ষামূলক টিকাদান কর্মসূচি। রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল সহ আরো চারটি হাসপাতালে চলবে এই কার্যক্রম। এরই মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালকে প্রস্তুত করা হয়েছে।

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিল আহমেদ বলেন, আমরা প্রথমে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রদান করবো। ইতোমধ্যে আমরা সেই তালিকা চুড়ান্ত করে ফেলেছি। আগামীকালকের ভ্যাকসিনের সকল প্রস্তুতিও আমাদের নেয়া আছে।

এরপরই টিকার নিবন্ধন করতে সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হবে অ্যাপ ‘সুরক্ষা’। চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও প্রশাসনের লোকজনসহ ১০০ জনের মতো স্বাস্থ্যকর্মীর তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে কাউকে জোর করে টিকা দেয়া হবে না। যারা স্বেচ্ছায় টিকা নিতে চান, কেবল তারাই টিকা পাবেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রীনা ফ্লোরা বলেন, টিকার তালিকা স্থানীয়ভাবেই করা হয়েছে। হাসপাতাল থেকেই তালিকাটি প্রণয়ন করা হয়েছে। সেই তালিকার ভিত্তিতেই ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আমরা জানিয়েছি যাতে তারা আজকের মধ্যেই অ্যাপের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করে ফেলে। যাতে করে রেজিস্ট্রেশনের ভিত্তিতে আমরা টিকা দিতে পারি।

টিকাদানের পর পর্যবেক্ষণ শেষে আগামী ৭ই ফেব্রুয়ারি থেকে দেশব্যাপী ব্যাপক হারে টিকা কার্যক্রম শুরু হবে। টিকা নিয়ে কোন সংশয় নেই বলেও আবারো জানিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, কোভিশিল্ড নামের যে টিকাটি বাংলাদেশে দেয়া হচ্ছে, এটিই এখন পর্যন্ত অন্য সব ভ্যাকসিনের তুলনায় সবচেয়ে নিরাপদ।

তিনি আরও বলেন, সরকারি হাসপাতালের মাধ্যমে ভ্যাকসিন দেয়া হবে। পরবর্তীতে নীতিমালা করে যে সব বেসরকারি হাসপাতালের সক্ষমতা আছে সেসব হাসপাতাল থেকেও নেয়া যাবে ভ্যাকসিন। তবে, পরিকল্পনা অনুযায়ী, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও ৩৭ শতাংশ জনগোষ্ঠী যারা ১৮ বছরের কম বয়সী, তাদেরও টিকা দেয়া হবে না।