এক আদালতে একদিনে ১৪ মামলার রায়

বুধবার, জানুয়ারি ২৭, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক : গ্রামীন ব্যাংক বরিশাল রায়পাশা শাখার গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা পৃথক ১৪টি মামলায় শাখা ব্যবস্থাপক দেলোয়ার হাসানকে বিভিন্ন মেয়াদে ৫৩ বছরের কারাদন্ড ও ৪৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তার সহযোগী শাখা কর্মকর্তা শাহ আলমকে ২৭ বছরের কারাদন্ড ও ২৭ লাখ টাকা অর্থদন্ড এবং কেন্দ্র ব্যবস্থাপক ইব্রাহিম খলিলকে ৩ বছরের কারাদন্ড ও ৩ লাখ টাকা অর্থদন্ডের আদেশ হয়েছে। এছাড়া অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় মামলার আসামী তৎকালিন কেন্দ্র ব্যবস্থাপক রতন প্রভা হালদার, মনিরুল ইসলাম, কামরুন্নাহার, মনিরুজ্জামান, রিপন মিয়া ও ওমর ফারুককে খালাশ দেয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার বরিশাল বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মোঃ মহসিনুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। দন্ডপ্রাপ্ত দেলোয়ার হাসান যশোর ছাতিয়ানতলা এলাকার জয়নাল আবেদিন দফাদারের ছেলে। এছাড়া শাহ আলম বাগেরহাট শরনখোলা চালিতাবুনিয়া এলাকার হাতেম আলী পাহলানের ছেলে ও ইব্রাহিম খলিল পিরোজপুর নেছারাবাদ আউরিয়া এলাকার মোকছেদ আলীর ছেলে। রায় ঘোষণার সময় দন্ডপ্রাপ্তরা আদালতে উপস্থিত না থাকলেও খালাশপ্রাপ্তরা উপস্থিত ছিল। বেঞ্চ সহকারি হারুন অর রশিদ জানান, ২০১০ সালের ২৭ এপ্রিল থেকে ২০১১ সালের ৭ জুলাইয়ের মধ্যে দেলোয়ার হাসান গ্রামীন ব্যাংক বরিশাল রায়পাশা শাখার ব্যবস্থাপক থাকাকালিন সময় শাখা কর্মকর্তা শাহ আলমসহ অন্যান্য কেন্দ্র ব্যবস্থাপকদের পরস্পর যোগসাজসে ঋণ দেয়ার কথা বলে ও তাদের ভূয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে ১৫৪ জন গ্রাহকের ৪৬ লাখ ২৬ হাজার ৬৫০ টাকা আত্মসাত করেন।

এঘটনায় ২০১৩ সালের ২ ডিসেম্বর বরিশাল দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা অফিসের সহকারি পরিচালক ওয়াজেদ আলী গাজী পৃথক পৃথক মামলা দায়ের করেন। ২০১৬ সালের ১৪ জুন মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা উপ-পরিচালক মতিউর রহমান চার্জশীট জমা দেন। আদালত সবোর্চ্চ ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে গতকাল পৃথক ১৪টি মামলায় দেলোয়ার হাসান ৩ বছরের কারাদন্ড ও ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, দেলোয়ার হাসান ও শাহ আলমকে ৩ বছরের কারাদন্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানা, দেলোয়ার হাসান ও শাহ আলমকে ৫ বছরের কারাদন্ড ও ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, দেলোয়ার হাসান ও ইব্রাহিম খলিলকে ৩ বছরের কারাদন্ড ও ৩ লাখ টাকা জরিমানা, দেলোয়ার হাসানকে ৩ বছরের কারাদন্ড ও ৪ লাখ টাকা জরিমানা, দেলোয়ার হাসান ও শাহ আলমকে ৩ বছরের কারাদন্ড ও ৩ লাখ টাকা জরিমানা, দেলোয়ার হাসানকে ৩ বছরের কারাদন্ড ও ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, দেলোয়ার হাসান ও শাহ আলমকে ৫ বছরের কারাদন্ড ও ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, দেলোয়ার হাসানকে ৪ বছরের কারাদন্ড ও ২ লাখ টাকা জরিমানা, দেলোয়ার হাসান ও শাহ আলমকে ৪ বছরের কারাদন্ড ও ২ লাখ টাকা জরিমানা, দেলোয়ার হাসানকে ৪ বছরের কারাদন্ড ও ২ লাখ টাকা জরিমানা, দেলোয়ার হাসানকে ৩ বছরের কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, দেলোয়ার হাসানকে ৩ বছরের কারাদন্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা, দেলোয়ার হাসান ও শাহ আলমকে ৭ বছরের কারাদন্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানার রায় ঘোষণা করেন। একই সাথে ১৪টি মামলায় তৎকালিন কেন্দ্র ব্যবস্থাপকদের খালাশ দেয়া হয়। রায়ের সময় পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। অর্থদণ্ডের টাকা আদায়ের জন্য কালেক্টরকে দায়িত্ব দেয়া হয়। সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় শেষে জরিমানার টাকা আদায় করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়ার জন্য আদেশ দেয়া হয়। রায় দেয়া ১৪ মামলার রাষ্ট্রপক্ষে আইনী লড়াই লড়েন এডভোকেট বিপ্লব কুমার রায়।

কারারক্ষীর বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা দায়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক : চেক প্রতারনার অভিযোগে বরিশাল কেন্দ্রিয় কারাগারের কারারক্ষি হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জাগরনী চক্র ফাউন্ডেশন বরিশাল অঞ্চল কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ মামলাটি দায়ের করেন। আদালতের বিচারক মোঃ শামীম আহমেদ মামলাটি আমলে নিয়ে সমন জারির নির্দেশ দেন। মামলায় অভিযুক্ত হাবিবুর রহমান মুন্সিগঞ্জ গজারিয়া পোড়াচক বাউশিয়া এলাকার ফজর আলীর ছেলে। তার কারা আইডি নং ২৭১৬ এবং বিজে ১৯৮০১২২৩৬। আদালত সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ২২ মে হাবিবুর রহমান জমি ক্রয় করতে জাগরনী চক্র ফাউন্ডেশন থেকে ২৪ মাসে পরিশোধের শর্তে ১ লাখ টাকা ঋণ নেয়। ঋণ গ্রহনের পর কয়েক কিস্তি পরিশোধ করে হাবিবুর রহমান কিস্তি দেয়া বন্ধ করে দেন। এতে তার কাছে প্রতিষ্ঠানের ৫৫ হাজার ৮৯৯ টাকা পাওনা হয়। ওই টাকা পরিশোধে প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সময় হাবিবুর রহমানকে তলব তাগাদা দেয়। ২০২০ সালের ২৪ নভেম্বর হাবিবুর রহমান টাকা পরিশোধে ওই পরিমান টাকার চেক দেয়। একই দিন চেকটি ব্যাংকে জমা দিলে ২ ডিসেম্বর তা ডিসঅনার হয়। এতে ২৩ ডিসেম্বর হাবিবুর রহমানকে আইনী নোটিশ দেন আবুল কালাম আজাদ। নোটিশের কোন জবাব না দেয়ায় গতকাল মামলাটি দায়ের করলে বিচারক ওই নির্দেশ দেন।

বরিশাল আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ২৪ জনের মনোনয়ন জমা

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ২৪ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। গতকাল বুধবার প্রার্থীরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে তাদের ক্রয় করা মনোনয়নপত্র জমা দেন। নির্বাচন উপ-পরিষদের সদস্য সচিব ফিরোজ মাহমুদ খান জানান, আগামি ১১ ফেব্রুয়ারি জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ১১ জানুয়ারি তফসিল ঘোষনা করা হয়। তফসিল অনুযায়ি ১১ টি পদের বিপরীতে বিএনপি ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত ২৮ প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে তাদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।বুধবার মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা ২৮ জনের মধ্যে ২৪ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন।এবারের নির্বাচনে সভাপতির ১টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বিএনপি সমর্থিত নাজিম উদ্দিন আহমেদ পান্না ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত সৈয়দ গোলাম মাসউদ বাবলু তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

এছাড়া সহ-সভাপতির ২টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বিএনপি সমর্থিত অসীম কুমার বাড়ৈ, মেহেদী হাসান শাহীন ও তারিকুল ইসলাম এবং আওয়ামী লীগ সমর্থিত লীলা রানী চক্রবর্তী ও সালাহ উদ্দিন সিপু তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ।সাধারন সম্পাদক’র ১টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বিএনপি সমর্থিত মির্জা রিয়াজ হোসেন ও শেখ হুমায়ুন কবির মাসউদ, এবং আওয়ামী লীগ সমর্থিত রফিকুল ইসলাম খোকন তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন । যুগ্ম-সম্পাদক’র ২টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বিএনপি সমর্থিত শাহ আলম ও নিজাম উদ্দিন এবং আওয়ামী লীগ সমর্থিত এসএম আতিকুল ইসলাম ও সুমন চন্দ্র হালদার তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। অর্থ সম্পাদক’র ১টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বিএনপি সমর্থিত আব্দুল মালেক মিয়া এবং আওয়ামী লীগ সমর্থিত মিজানুর রহমান মিন্টু তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। নির্বাহী সদস্য’র ৪টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বিএনপি সমর্থিত কাজী মাহমুদা, শাহিন উদ্দিন, হারুন অর রশিদ ও আঃ রহমান চোকদার এবং আওয়ামী লীগ সমর্থিত শহিদুল ইসলাম খলিফা, নুরে হাসান, ফিরোজ আলম সিকদার ও এসএম তৌহিদুর রহমান সোহেল মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে সদস্য পদে মনোনয়নপত্র জমা দেননি কামরুল হাসান মুসা, আবুল বাশার, রেজাউল হক ও সাঈদ মোর্শেদ মামুন। প্রতি বছরের মতো এবারের নির্বাচনও আন্দনঘন ও উৎসব মূখর পরিবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান সদস্য সচিব ফিরোজ মাহমুদ খান।