সিইসি শেখ হাসিনার কাছে নিজের আত্মা বিক্রি করেছে: রিজভী

মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৬, ২০২১

ঢাকা: প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুলহুদা শেখ হাসিনার কাছে নিজের আত্মা বিক্রি করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

আজ মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মরহুম আরাফাত রহমান কোকো ও নিউ মার্কেট থানা ছাত্রদল, ২২ নং ওয়ার্ডের সভাপতি  শহীদ মাহবুবুর রহমান বাপ্পির ৬ষ্ঠ শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়াতাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন রিজভী।

তিনি নির্বাচন কমিশনারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনার মত এই ধরণের কৃতদাস আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। নির্বাচন দিয়ে, ভোট দিয়ে যত অনাচার করা হচ্ছে।  নির্বাচন কমিশনার সুষ্ঠু নির্বাচনকে গোরস্থানে সমাধিত করেছে।  আওয়ামী লীগ মনে করে এত বড় তাবেদার আর এত বড় গোলাম আর তো পাওয়া যাবে না। অথচ জিয়াউর রহমান বাকশালের অন্ধকার থেকে গনতন্ত্রকে উদ্ধার করেছে। মিডিয়াকে বলি ভাই আমি তো এই কথা বললাম। তার বলে গোয়েন্দা বাহিনী আমাদের সব সময় নজরে রাখে। অর্থাৎ তাদের বিরুদ্ধে কিছুই বলা যাবে না।

রিজভী আরো বলেন, মাহবুব তালুকদার সাহেব বলেছেন, চট্টগ্রামের নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা আছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এখানে ফেয়ার নির্বাচন হবে না। কিন্তু আপনি তাকে ধরবেন না। আপনি ধরবেন কাকে? আপনি ধরবেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের।
চট্টগ্রামে ৬৯ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হলো কেন? আওয়ামী লীগের কাউকেতো গ্রেফতার করা হয়নি। আওয়ামী লীগের কারো বিরুদ্ধে তো মামলা দেয়া হইনি। চট্টগ্রামে এক হাজার বিএনপির নেতার্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং যিনি অনেক সংগ্রামের মাধ্যমে বারবার গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে এনেছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র ও বর্তমানে যিনি কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কনিষ্ঠ ভ্রাতা আরাফাত রহমান কোকো এবং এই নিষ্ঠুর সরকারের নির্মম ক্রসফায়ারের স্বীকার নিউ মার্কেট থানা ছাত্রদল, ২২ নং ওয়ার্ডের সভাপতি  শহীদ মাহবুবুর রহমান বাপ্পির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এই আলোচনা সভা।

আরাফাত রহমান কোকো নিজে রাজনীতিবীদ ছিলেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি ক্রিড়ার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং ক্রিড়াকে কিভাবে আন্তর্জাতিক মানে উপনিত করেছিলেন তা আপনারা সবাই জানেন। সেদিক থেকে একটা বড় অবদানই আছে আরাফাত রহমান কোকোর। তবে তিনি ছিলেন রাজনীতি পরিবারের সন্তান। ইতিহাসের এমন একটি পরিবারের সাথে যুক্ত যেটাকে হাসিনা সরকার মুছে ফেলার জন্য সকল নির্দয়, নিষ্ঠুরতার সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সকলকে ব্যবহার করেও মানুষের হৃদয় থেকে মুছে ফেলতে পারেনি। আর সে পরিবারের সন্তান হলেন এই আরাফাত রহমান কোকো।

তিনি আরো বলেন, তাদের আন্দোলনের ফসল মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে অত্যাচার করেছে। এবং একই সময় আরেকজন ছাত্র নেতা আজিজুল বারী হেলালকেও ধরে নিয়ে গিয়েছিলো। তার মুখ থেকে আমি শুনেছি,  কি অকথ্য নির্যাতন, কি পৈশাচিক নির্যাতন চালিয়েছে কোকোর উপর! তারপর থেকে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন।

তিনি আরো বলেন, কোকোর মায়ের প্রতি যে অত্যাচার! তা তিনি মা।লয়েশিয়ার টেলিভিশন থেকে দেখছেন। গোল মরিচের গুঁড়া নিক্ষেপ করছে বেগম জিয়াকে টার্গেট করে, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করছে বেগম জিয়াকে টার্গেট করে। এসব দৃশ্য দেখে কি কোন সন্তান তা সহ্য করতে পারে? মায়ের উপর এই বিভৎস অত্যাচার দেখে তিনি মারা যান। তাই তাঁর এই মৃত্যুর জন্য শেখ হাসিনা দায়ী।

বেগম জিয়া আজো বন্দি কেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কি এমন অপরাধ? পদ্মা সেতুর মত বড় কোন প্রজেক্ট এর টাকা তিনি নেননি এটাই তার অপরাধ। যে অভিযোগ দিয়েছেন সে টকা ফুলে পেপে ২কোটি টাকা থেকে ৮ কোটি টাকা হয়েছে। কি অপরাধ তাঁর? তার অপরাধ একটাই তিনি গনতন্ত্রের পক্ষে কথা বলেন। এবং আওয়ামী লীগের দুর্নীতি আর দৃুঃশ্বাসনের বিরুদ্ধে কথা বলেন। এটাই আপরাধ। আর এই কারণেই তিনি আজ বন্দী।

তিনি আরো বলেন, এদের কাজই হলো বিরোধী দলকে নানা উসিলায়, নির্যাতন করা আর নিপিড়ন করা। ফাঁসি থেকে শুরু করে কারারুদ্ধ করা। হিটলারও তাই করেছে। গণতন্ত্রের চেতনা, জঙ্গি জঙ্গি এই কথাগুলো বলে এটা বিভ্রান্তি তৈরি করে মূল টার্গেট বিরোধী দলকে ধ্বংস করা।

তিনি বলেন, আমি যতটুকু শুনেছি বাপ্পিকে কাপড় কাঁচানোর মত থেঁতলানো হয়েছে। হাসপাতালে নেয়ার পর তাকে কোন চিকিৎসা দিকে দেইনি। যাতে ওই নির্মম নির্যাতনের মাঝে বাপ্পি ধুকে ধুকে মারা যান। বাপ্পির বোনের চোখ দিয়ে অস্ত্র ঝরছে। আর সেই অশ্রু এখন অবিরত ঝরছে। বাপ্পি আজ নেই! কিন্তু বাপ্পি এখন গনতন্ত্রের পতাকা। আর সেই পতাকাকে সামনে নিয়ে শেখ হাসিনাকে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে হবে।

আলোচনা সভা আর দোয়া মাহফিলে আরো উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব,  ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ রবিউল আলম রবি,বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, ঢাকা মহানগর পূর্বের সভাপতি খন্দকার এনামুল হক এনাম, সাধারণ সম্পাদক গিয়াসউদ্দিন মানিক, খালিদ হাসান জ্যাকি, শাহাদাত হোসেন সৈকত, জাহাঙ্গির রহমান পাটোয়ারি, জোনায়েদ আহমেদ সুমন, সোহেল রানাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।