ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে জাতির আত্মসমীক্ষা প্রয়োজন : আ স ম‌ রব

শনিবার, জানুয়ারি ২৩, ২০২১

ঢাকা : সুবর্ণজয়ন্তীতে জনগণের আকাঙ্ক্ষা ভিত্তিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে জাতির করণীয় প্রশ্নে জে এস ডি কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সভায় সভাপতির ভাষণে আ স ম আবদুর রব বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণে গত ৫০ বছরের ব্যর্থতা ও সফলতার আত্মসমীক্ষা প্রয়োজন। এই ৫০ বছরের মূল্যায়ন, পর্যালোচনা ও আত্মসমালোচনা ছাড়া বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করা সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রকে দলের হাতিয়ারে পরিণত করা যায় না। রাষ্ট্রের একমাত্র মালিকানা হচ্ছে জনগণের। সুতরাং জনগণের বৈধ সম্মতি ছাড়া রাষ্ট্রপরিচালনা হবে অবৈধ ও অনৈতিক। জনগণের সম্মতি ব্যতিরেকে রাষ্ট্রকে দলের হাতিয়ারে পরিণত করার রাজনীতি প্রজাতন্ত্রের দার্শনিক ভিত্তি বিনষ্ট করে দেয় এবং রাষ্ট্র ক্রমাগত জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। রাষ্ট্র এবং জনগণের বিচ্ছিন্নতায় রাষ্ট্রীয় সকল প্রতিষ্ঠানগুলি দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। অদক্ষতা, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য হয়ে ওঠে।

পরিশেষে দুর্বৃত্ত বৈশিষ্ট্যপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে ব্যর্থ রাষ্ট্রের পরিণতির দিকে ধাবিত হয়। বাংলাদেশের বিদ্যমান রাজনীতি ও কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থা রাষ্ট্রকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। একদিকে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে শূন্যতা অন্যদিকে আঞ্চলিক রাজনীতির ঘূর্ণাবর্তে আবর্তিত হচ্ছে বাংলাদেশ। এই অবস্থা থেকে উত্তরণ জাতীয় রাজনীতির জন্য জরুরি।

রাষ্ট্রের এই ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থা থেকে উত্তরণের একমাত্র বিকল্প হচ্ছে জনগণের সম্মতি, সমর্থন ও জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে ‘জাতীয় সরকার’ গঠন করা। বিগত ৫০ বছরের ব্যর্থতা, অনৈক্য এবং অনৈতিক রাজনীতির বিপরীতে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদেরকে অবশ্যই আত্মসমীক্ষাপূর্বক রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন নিশ্চিত করতে হবে। এ পরিবর্তন হবে কাঠামোগত সংস্কার ও সকল শ্রেণীর পেশার অংশীদারিত্বমূলক একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী রাজনীতি প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে। রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন এবং শাসনতান্ত্রিক সংস্কারের প্রশ্নে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য স্থাপন করতে হবে এবং গণ আন্দোলন বা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে । জনগণের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করতে হবে।

আজ ২৩ জানুয়ারী বিকেল ৩ টায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সভায় বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. ছানোয়ার হোসেন তালুকদার, কার্যকরী সভাপতি সা কা ম আনিছুর রহমান খান কামাল, সহ-সভাপতি বেগম তানিয়া রব, কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন, এ্যাড. কে এম জাবির, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. জবিউল হোসেন, কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী, এ্যাড. সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল, খান লোকমান হাকিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মোশারফ হোসেন, মতিয়ার রহমান মতি, আমিন উদ্দিন বিএসসি, এ্যাড. সৈয়দা ফাতেমা হেনা, এস এম সামছুল আলম নিক্সন, এম এ ইউসুফ, দপ্তর সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবুল মোবারক, প্রচার সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার ফারাহ খান, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ফরজানা দীবা, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল লতিফ খান, এ্যাড. আফজাল হোসেন, শফিকুল ইসলাম সফিক, হাবিবুর রহমান হাবিব মাস্টার, শিরিন আকতার, জিল্লর রহমান, সিরাজ উদ্দিন সিকদার প্রমুখ (সভায় কয়েকজন সদস্য ভার্চ্যুয়ালী অংশগ্রহন করেছেন)। সভা চলছে।