স্বাধীনতা, প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির মাঝে অনেক বড় ব্যবধান রয়েছে: ড. মোশাররফ

রবিবার, জানুয়ারি ১৭, ২০২১

ঢাকা : আজকে মানুষের স্বাধীনতা, প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির মাঝে অনেক বড় ব্যবধান রয়েছে। সেটাকে মানুষের সামনে তুলে ধরা এবং তার সাথে সাথে এই অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য আমাদের পথ নির্দেশনা বা আমাদের ভবিষ্যত করণীয় ঠিক করাই আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

আজ রোববার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বাসভবনে বিকাল ৩ টায় স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর ঢাকা বিভাগীয় উদযাপন কমিটির প্রস্তুতি সভায় এসব কথা বলেন তিনি

তিনি বলেন, আমাদের মূল গণতন্ত্র, মানুষের স্বাধীনতার প্রত্যাশা গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধের মূল আকঙ্ক্ষা গণতন্ত্র এটা দেশে নাই। এটাকে পুনরোদ্ধার করতে হবে। দেশে গণতন্ত্র না থাকাতে কি অবস্থা সেটা আবার নতুন করে জনগণের সামনে তুলে ধরে তাদেরকে আরো শানিত করতে হবে। অর্থনৈতিক অবস্থা, সামাজিক অবস্থা,আইনের সুশাসনের অবস্থা এসব কিছু আজকে এই সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ভুলুন্ঠিত করেছে। ফ্যাসিবাদি কায়দায় দেশ পরিচালনা করছে। যদি স্বাধীনতা আর গণতন্ত্রকে ফিরে পেতে চাই তাহলে এদেশের সকল জনগণকে আরো সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, বেশ কয়েক মাস আগে থেকেই বাংলাদেশের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়েছে আমাদের স্থায়ী কমিটি। আর আমরা জাতীয়াতবাদী দল এটিকে দ্বায়িত্ব মনে করি। যেহেতু আমাদের দলের যিনি প্রতিষ্ঠাতা তিনি স্বাধীনতার ঘোষক এবং আমাদের বেশির ভাগ লোক রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা। এজন্য আমাদের এটিকে এতটা গুরুত্ব দেয়ার কারণ। এই অনুষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে আমরা মুক্তিযুদ্ধের মূল ইতিহাস এবং ৫০ বছরের ইতিহাসে বাংলাদেশের ঘটনাগুলি আমরা জনগণের সামনে বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মের কাছে বারবার তুলে ধরতে চাই।

এই নেতা আরো বলেন, আপনারা জানেন একটি অপপ্রচারের মাধ্যমে এবং আমাদের ইতিহাস বিকৃত করে মুক্তিযদ্ধকে উপস্থাপন করা হচেছ। এবং গত ৫০ বছরে বাংলাদেশের বিনির্মাণে কর্মকাণ্ডগুলোকেও বিকৃত করা হচ্ছে। অতএব আমাদেরএই সুবর্ণ জয়ন্তী পালনের মাধ্যমে যে মূল উদ্দেশ্য, আমরা আমাদের জনগণকে এবং আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে সত্যিকারভাবে মুক্তিযদ্ধের ইহিতাস তুলে ধরতে চাই। কারণ আমরা বিশ্বাস করি যে জাতি তার প্রতিষ্ঠা এবং উন্নয়নে প্রকৃত ইতিহাস জানে না,সে জাতি কিন্তু অগ্রসর হতে পারে না। সেই দ্বায়িত্ববোধ থেকেই আমরা এই দ্বায়িত্বটা গ্রহণ করেছি। আমাদের কমিটিতে যারা আছেন তারা আলাপ আলোচনা করে প্রোগ্রাম ঠিক করছেন। এবং আমাদের বিভাগীয় কমিটিগুলোও তারা তাদের প্রস্তাবনা রাখছেন। বছরব্যাপি উদযাপন করার জন্যও তারা প্রস্তাবনা রেখেছেন। তাই আমরা সমন্বয় করে এক বছরের জন্য আমরা ক্যালান্ডার প্রকাশ করবো। এছাড়া বিভিন্ন কর্মসূচি আসবে। আর এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার দ্বায়িত্ব হলো বিভাগীয় কমিটিগুলোর।

তিনি আরো বলেন, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা, জেলা পর্যায়েও আমরা এই কর্মসূচীগুরো বাস্তবায়ন করবো। তাই আমাদের যে সমন্বয় কমিটি বা বিষয়ভিত্তিক কমিটি বা জাতীয় কমিটি তারাই কিন্তু তা বাস্তবায়ন করবেনা। আমরা আমাদের পরিকল্পনা আর কর্মসূচি প্রণয় করবো আর তা বাস্তবায়ন করবে নেতৃবৃন্দ। আমরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বল এবং সকল অঙ্গসংগঠন বিভিন্ন পর্যায়ে আমাদের কমিটি রয়েছে। যেমন,একটি সিটিতে যখন আমাদের কোন কর্মসূচি থাকবে সেটা বাস্তবায়নের দ্বায়িত্ব থাকবে সেই সিটিতে আমাদের এবং আমাদের অঙ্গ সংগঠণের যে নেতৃবৃন্দ থাকবে তাদের উপর। জেলা আর উপজেলাতেও ঠিক একইভাবে পালন করা হবে। আর এটার প্রোগ্রামগুলোকে সমন্বয় করার জন্য বিভাগীয় কমিটি এটার তদারকি করবে।

প্রস্তুতি সভায় স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ঢাকা বিভাগীয় উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাসের সভাপিত্ত্বে উপস্থিত প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সদস্য সচিব আব্দুস সালামসহ অন্যাান্য নেতৃবৃন্দবর্গ।