ভারত একটি বিশেষ দলের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে সবসময় তৎপর: রুমিন ফারহানা

শুক্রবার, ডিসেম্বর ২৫, ২০২০

ঢাকা: সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, সিএনএন, আইবিএন ও দ্য হিন্দু এই তিনটি সংগঠন চার বছর আগে ভারতে একটা জরিপ পরিচালনা করে। যে ভারতের নাগরিকরা কোন দেশকে তাদের বন্ধু বলে মনে করে। এ জরিপে ৪৮ শতাংশ নাগরিক বাংলাদেশের পক্ষে। ৪৮ শতাংশ মানুষ মনে করে বাংলাদেশ তাদের বন্ধু।

তিনি বলেন, আমি এখন প্রশ্ন রাখছি বাংলাদেশের কত শতাংশ মানুষ আসলে ভারতকে বন্ধু মনে করে? কেন করে না জানেন? কারণ ভারত একটি বিশেষ দলের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে সবসময়ই সদা তৎপর। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বের ব্যাপারে ভারতকে যতটা মনোযোগী হতে দেখি; তার চেয়ে অনেক বেশি মনোযোগি হতে দেখি একটি বিশেষ দলকে সাহায্য করতে।

সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশো অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, ১৯৭১ সালে কিন্তু রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের একটা সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল বলেই আজকে স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও মানুষ কিছুটা হলেও ভারতকে কৃতজ্ঞতার সাথে স্বরণ করে। যে, যাই হোক ভারত আমাদের সাহায্য করেছিল। আজকের এই দীর্ঘ পথপরিক্রমায় যখন আমরা দেখছি যে নির্লজ্জ ভাবে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছে। যেটার প্রমাণ ভারত রেখে গেছে ২০১৪ সালের নির্বাচনের ঠিক আগে সুজাতা সেনের বাংলাদেশ ভ্রমণের মধ্যে দিয়ে। যার প্রমাণ আমরা দেখেছি সালমান খুরশিদের বইয়ের মধ্যে। প্রণব মুখার্জির বইয়ের ‘বাই দ্য কোয়ালিশন ইয়ারস ১৯৯৬-২০১২’ মধ্যে।

‘একবার নির্লজ্জভাবে ভারত একটি দলকে বেছে নিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বাস করে তার ভোটাধিকারকে হ’ত্যা’র পিছনে ভারতের একটা বড় ভূমিকা রয়েছে। একটি বিশেষ দলের বন্ধু হবার জন্য ভারতের এই নির্লজ্জ। আমার প্রশ্ন ৪৮ শতাংশ ভারতীয় বাংলাদেশকে বন্ধু মনে করলেও কত শতাংশ বাংলাদেশি ভারতকে বন্ধু মনে করে।’

সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হ’ত্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সবসময়ই বলে আসছেন ক্রিমিনালরা যারা বোমা বহন করে, আগ্নেয়াস্ত্র বহন করে তাদেরকে বাধ্য হয়ে বিএসএফ গুলি করে। যে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই ভাষায় নিজের দেশের বিরুদ্ধে কথা বলে। যে দেশের খাদ্যমন্ত্রী বলেন, এটা আসলে আমাদেরই দোষ। যে দেশের বিজিবি প্রধান বলেন, সীমান্ত হ’ত্যা আসলে বাংলাদেশীদের কারণেই হয়ে থাকে। সেই দেশের এই সরকার থাকাকালীন সীমান্ত হ’ত্যা বন্ধ হবার কোন কারণ নেই। ‘হিউম্যান রাইটস রিপোর্ট বলছে, গত এক দশকে এক হাজার বাংলাদেশিকে সীমান্তে গুলি করে হ’ত্যা করেছে।’