প্রেমিকের মৃত্যুর ৩ দিন পর প্রেমিকার আত্মহত্যা

শনিবার, ডিসেম্বর ৫, ২০২০

ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কাতলামারি গ্রামে প্রেমিকের আত্মহত্যার তিন দিনের মাথায় প্রেমিকাও আত্মহত্যা করেছে। গত সোমবার প্রেমিক সুমন বিশ্বাস আত্মহত্যা করার পর বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে প্রেমিকা মিনা।

ঝিনাইদহ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার জানান, ওই গ্রামের কৃষ্ণপদ বিশ্বাসের ছেলে সুমন বিশ্বাস ৩-৪ বছর ভারতে বসবাস করে কিছুদিন আগে বাড়িতে ফিরে। সুমনের পরিবার হতদরিদ্র। তার বাবা কৃষ্ণপদ বিশ্বাস মৎস্যজীবী। বাজারে একটি দোকান ছিল সুমনের। আসা-যাওয়ার পথে একই গ্রামের মকবুল হোসেনের স্ত্রীর অপরপক্ষের মেয়ে মিনা আক্তারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

এসএসসি পাস করে কলেজে ভর্তি হয়েছিল মিনা। স্থানীয়রা জানান, হিন্দু পরিবারে জন্ম নেয়া মিনা আক্তার ওরফে মিনা রানী পালের বয়স যখন দুই বছর তখন তার বাবা রাজিব পাল তাদের ছেড়ে ভারতে চলে যায়। পরবর্তী সময়ে আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্য কুমিল্লার মকবুল হোসেনের প্রথম স্ত্রীর মৃত্যু হলে দ্বিতীয় বিয়ে হয় মিনার মায়ের সঙ্গে।

এরপর মা অনিতা রানী পাল থেকে সুমাইয়া আক্তার নাম ধারণ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর স্ত্রী সুমাইয়া (অনিতা পাল), সৎ মেয়ে মিনা ও তাদের মেয়ে মিতুকে (১১) নিয়ে কাতলামারী গ্রামে বাজারের কাছে একটি ভাড়া করা বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন মকবুল। মিনার নানা একই গ্রামের মৃত নারায়ণ পাল ও নানি ভানু রানী পালও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মেয়ে জামাইয়ের সংসারে বসবাস করছেন তারা। ভিন্ন ধর্মের সুমন এবং মিনার মধ্যে প্রেমের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর উভয় পরিবারের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সামাজিক চাপের ভয়ে পালিয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার পরিকল্পনাও করে প্রেমিক-প্রেমিকা।

৩০ নভেম্বর মিনা ও সুমনের মধ্যে শেষ দেখা হয়। ওই রাতে মিনার কাছ থেকে উড়না নিয়ে গাছে ঝুলে আত্মহত্যার চেষ্টা করে সুমন। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, সুমনকে হত্যা করা হয়েছে মর্মে প্রচার করা হয়। ওই দিন সুমনের লাশ দেখার জন্য চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় মিনা। সুমনের মৃত্যুর পর পরিবারের লোকজনকে মিনার ওপর নজর রাখার জন্য বলা হয়। বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে মিনাও।

মোবাইলের কল রেকর্ড যাচাই করে জানা যায়- ৩০ নভেম্বর রাতে শেষবাবের মতো মিনার সঙ্গে দেখা করে সুমন। ঘরের জানালা দিয়ে কথা হয় তাদের। এর আগে রাঙ্গামাটির একটি ছেলে ফোন করে মিনার কাছে। ওই ফোন কল নিয়ে মান-অভিমান হয় উভয়ের মধ্যে। গুড বাই বলে প্রেমিকার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে গাছের সঙ্গে উড়না দিয়ে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করে প্রেমিক সুমন।

কাতলামারি পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই আনিছুজ্জামান বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ৪টার দিকে মিনার মা আমাদের ক্যাম্পে সংবাদ দেন মিনা ঘরের দরজা আটকে দিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে টহলরত পুলিশ তাদের বাড়িতে গিয়ে দরজা ভেঙে দেখে ফ্যানের হুকের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে প্রাণহীন ঝুলে আছে মিনা।