হারেম সিক্রেটস: নারীদের বাসস্থান

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১, ২০২০

ফিচার ডেস্ক আজকের এই আধুনিক সভ্যতা দাঁড়িয়ে আছে অতীতের সব বৈচিত্র্য আর রহস্যে ওপর ভর করে। ইতিহাস, সব বিচিত্র জীবনাচরণ, রীতি রেওয়াজ, সংস্কৃতি, স্থাপত্য আমাদের চমকে দেয়। এখনো মানুষের মুখে মুখে আগের দিনের রাজা-বাদশাদের নানা কীর্তিকলাপ ইতিহাসের সাক্ষ্য হয়ে আছে। কোনো কোনো রীতি আবার স্থান-কাল-পাত্র ভেদে পাল্টেছে নিজের রঙ। হারেমের কথাই ধরা যাক। অন্তঃপুরের নারীদের থাকার জায়গা হিসেবে যার শুরু, এর বিবর্তন কিন্তু ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রহস্য।

সর্ব সাধারণের জন্য হারেম নিষিদ্ধ হওয়ার কারণে মানুষের প্রবল আগ্রহেরও একটা জায়গা। তুর্কি সাম্রাজ্যে থেকে আলোচনায় আসা নারীকেন্দ্রিক এ রীতিকে ভারতীয় উপমহাদেশের মুঘল সম্রাটরা রীতিমতো শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। হারেম মানে শুধু রাজা বাদশাদের আমোদ-ফুর্তির জায়গা নয়, এর পিছনে অনেক গল্প কাহিনী। অটোমান সম্রাজ্য থেকে শুরু করে মুঘল সম্রাজ্য কিংবা তারও আগে হিন্দু রাজ্যের উপপত্নী রাখার প্রথা সবই যেন এক সূত্রে গাঁথা। আর এখানেই রয়েছে ইতিহাসের অনেক না জানা রহস্যের কাহিনী।

মানব সৃষ্টির আদি থেকে দুটি জিনিসের সর্বজনবিদিত। একটি হচ্ছে পেটের ক্ষুধা আর আরেকটি হচ্ছে জৈবিক তাড়না। এ দুটোর ক্ষেত্রে মানুষের কোনো শিক্ষার প্রয়োজন পড়ে না। ক্ষুধার্ত মানুষমাত্রই খাবারের সন্ধানে উন্মুখ হয়ে পড়বে। যৌন ক্ষুধার ক্ষেত্রেও কিন্তু মানুষ অনেকটাই লাগামহীন। তবে যৌনতা ধর্মীয়ভাবে নির্দিষ্ট নিয়মের গণ্ডিতে স্বীকৃত। সেই নিয়মের বাইরের যৌনতাকে সমাজ, রাষ্ট্র কিংবা ধর্ম কোনোভাবেই সমর্থন করে না। কিন্তু পৃথিবীর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে সেই আদিকাল থেকে শুরু করে আজকের আধুনিক সমাজব্যবস্থাতেও যৌনতা কখনোই সীমাবদ্ধতা মানেনি। স্বকীয় প্রয়োজনে গোপনীয়তা মেনেই আদিম মনোবাসনা পূরনের অভিপ্রায়ে ব্যস্ত থাকে সংশ্লিষ্ট সবাই।

আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় অবাধ যৌনাচারকে সর্মথন করে না। কিন্তু আগের দিনের রাজা বাদশাহদের জন্য এটি ছিল তুচ্ছ একটি রাজসিক রীতি। সেই রীতির আধার ছিল রমণী আর অবকাঠামো ছিল হারেম। যদিও হারেমের উৎপত্তি, গঠন, আর বিকাশের ধারায় বারবার পাল্টেছে তবু ‘হারেম’ বলতেই কেমন যেন একটা নিষিদ্ধ সুবাস নাকে লাগে। এ যেনে চোখের সামনে ফোটে ওঠে বিলাসবহুল এক মনোহর দৃশ্য। যেখানে অপূর্ব সব সুন্দরীরা তাদের রাজার মনোরঞ্জনে ব্যস্ত। সঙ্গীত-নৃত্যকলাতো বটেই প্রয়োজনে কামকলা প্রদর্শনেও আপত্তি নেই তাদের। হারেম শব্দের সঙ্গে তাই মিশে আছে গোপন তৃপ্তির অচেনা ঢেঁকুর। হারেমের এই অবয়বের পেছনে সবচেয়ে বড় দায় ষোড়শ ও সপ্তদশ শতকের অটোমান সাম্রাজ্যের। তাদের রাজকীয় হারেম আর বিলাসবহুল জীবনযাত্রা মানুষকে মোহিত করেছে।

কেবল বিনোদন আর মনোরঞ্জনই নয় অটোমান প্রশাসনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল হারেমের নারীরা। অটোমান সংস্কৃতির এই রহস্যময় শব্দ দূর প্রাচ্য থেকে সূদুর পশ্চিম পর্যন্ত সর্বত্রই তৈরি করেছে গোপন আগ্রহ। সব জায়গার মানুষের কাছে এক গোপন আগ্রহের বিষয়। কিন্তু গোপন আগ্রহ সব সময়ই ভয়ঙ্কর। গোপন বিষয় নিয়ে মানুষ সত্যের কাছাকাছি থাকার চেয়ে কল্পনার আশ্রয়ে বসবাস করতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে বেশি। আর এজন্যই বাড়ির রমনীদের আলাদা থাকার জায়গার পরিচয় হারিয়ে মানুষের কাছে হারেম হয়ে ওঠেছে বিলাসবহুল মনোরঞ্জনকেন্দ্র।