ম্যারাডোনাকে কেন শ্রদ্ধা জানায়নি মেয়েটি?

সোমবার, নভেম্বর ৩০, ২০২০

স্পোর্টস ডেস্ক : ফুটবল বিশ্বে চলছে দিয়াগো ম্যারাডোনোকে হারানোর শোক।  নানা প্রান্ত থেকে ভেসে আসছে শ্রদ্ধাঞ্জলি। কাল তো লিওনেল মেসি ম্যারাডোনার মতো এক গোল উৎসর্গ করলেন ’৮৬ কিংবদন্তিকে। এমনকি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলিয়ানরাও শোকে কাতর।

নারী অধিকার ও সমতার প্রশ্ন তুলে ম্যারাডোনাকে শ্রদ্ধা জানানো থেকে বিরত থেকেছেন স্পেনের তৃতীয় বিভাগের দল ভিয়ারেস ইন্তেরিয়াসের পলা দাপেনা নামের এক ফুটবলার।

সিউদাদ দেপোর্তিভায় দেপোর্তিভো লা করুনার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ভিয়ারেস। এ ম্যাচে প্রয়াত ম্যারাডোনাকে শ্রদ্ধা জানাতে এক মিনিট নীরবতা পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন দুই দলের মোট ২২ ফুটবলার।

কিন্তু পলা উল্টো দিকে ঘুরে মাঠে বসে পড়েন। এ সময় আরও কিছু প্রতিক্রিয়া দেখান তিনি। গ্যালারির দর্শকেরা বিষয়টি ভালোভাবে নেননি। অনেকেই দুয়ো দেন তাকে।

সংবাদমাধ্যমকে নিজের এই আচরণের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন পলা দাপেনা, ‘আন্তর্জাতিক নারীর প্রতি সহিংসতা দূরীকরণ দিনে (২৫ নভেম্বর) কোনো কিছুই পালন করা হয়নি। একজন নারী হিসেবে সবার আগে আমি মানুষ। মূল্যবোধের স্থান তার (ম্যারাডোনা) চেয়েও ওপরে। তিনি নিজের অসাধারণ ফুটবল প্রতিভা দিয়ে কী করেছেন তা আমরা সবাই জানি।’

ম্যারাডোনার মৃত্যুর দিন ছিল আন্তর্জাতিক নারীর প্রতি সহিংসতা দূরীকরণ দিবস। কিন্তু এই দিবসের সঙ্গে ম্যারাডোনাকে শ্রদ্ধা না জানানোর কি সম্পর্ক?

সংবাদমাধ্যম ‘পন্তেভেদ্রা ভিভা’কে পলাকে এর ব্যাখ্যায় ম্যারাডোনার ব্যক্তিগত জীবনকে ইঙ্গিত করেন পলা, ‘আমি একজন নিপীড়কের জন্য এটা করব না। আমি বলেছি, একজন ধর্ষক, শিশু নির্যাতনকারী ও নিপীড়কের জন্য এক মিনিট নীরবতা পালন করতে পারব না। তাই ঘাড় ঘুরিয়ে বসে থাকতে হয়েছে।’

পলার এই প্রতিবাদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে খুব দ্রুত। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এল কনফিডেনশিয়াল’ যোগাযোগ করেছিল তার সঙ্গে।

ফোনে সংবাদমাধ্যমটিকে পলা বলেন, ‘পাঁচ বছর বয়সে ফুটবল খেলা শুরু করেছি। আর সবার মতো আমারও জানাশোনা আছে। এখন বয়স ২৪, ম্যারাডোনা, রোনালদিনহো, জিদান এবং আরও অনেক অবসর নেওয়া ফুটবলারকে আমি জানি। তাদের দক্ষতা এবং উঠে আসার পথ ছিল।’

কিন্তু ম্যারাডোনাকে শ্রদ্ধা না জানানোর কারণ হিসেবে পলা জানান, খেলোয়াড় ও ভালো অ্যাথলেট হয়ে উঠতে মূল্যবোধকে ফুটবলের ওপরে রাখতে হয়। ম্যারাডোনা এ শর্ত পূরণ করেননি বলে মনে করেন পলা।

তার ব্যাখ্যা, ‘একই দিনে ম্যারাডোনা মারা গেল, তখন অনেক সহিংসতার বিপক্ষে লড়াই করা অনেক ভণ্ডকে দেখলাম, যারা তার (ম্যারাডোনা) মতো একজন নিপীড়ককে বাঁচানোর চেষ্টা করেছে। নিজ বান্ধবীকে তিনি (ম্যারাডোনা) মেরেছেন, এমন ভিডিও আছে। দুজন নগ্ন নারীকে নিয়ে বসে আছেন, এমন ছবিও আছে। নারীবাদী হিসেবে আমি অবশ্যই এর পক্ষে দাঁড়াতে পারি না।’

ফুটবলার হওয়ার পাশাপাশি শারীরিক শিক্ষায় শিক্ষকতা পেশা গড়তে মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন পলা। নিজের অবস্থানটা তিনি ব্যাখ্যা করলেন এভাবে, ‘আমি জিদানকে খুব পছন্দ করি। কিন্তু সে যদি নিপীড়ক হয়, তাহলে আমার দুনিয়ায় জিদান বলে কেউ থাকবে না। ফুটবল ছাড়াও অন্যভাবে উদাহরণ তৈরি করতে হয়।’ ম্যাচে ১০-০ গোলে হারে পলার দল।