এমসিতে গৃহবধূ ধর্ষণ: ডিএনএ টেস্টে ৪ জনের জড়িত থাকার প্রমাণ

সোমবার, নভেম্বর ৩০, ২০২০

সিলেট : সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজে স্বামীকে আটকে রেখে গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় ডিএনএ টেস্টে ধর্ষণকাণ্ডে ৪ জনের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। মামলার অপর চার আসামি ধর্ষণে সহায়তা করেছেন।

ধর্ষণে জড়িত হিসেবে প্রমাণিত হওয়া ৪ জন হলেন- সাইফুর রহমান, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি ও অর্জুন লস্কর।

বহুল আলোচিত এ মামলার অভিযোগপত্র দাখিলে আসামিদের ডিএনএ টেস্ট রিপোর্টের অপেক্ষা ছিল। ঘটনার প্রায় দুই মাসের মাথায় ডিএনএ টেস্টের প্রতিবেদন হাতে পায় পুলিশ। এখন আদালতে মামলার চার্জশিট দাখিল করবেন তদন্ত কর্মকর্তা।

ডিএনএ টেস্টে ধর্ষণকাণ্ডে ৪ জনের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) মুখপাত্র অতিরিক্ত উপকমিশনার বি এম আশরাফ উল্যাহ।

তিনি জানান, এতদিন ডিএনএ টেস্টের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা ছিল। রিপোর্ট হাতে এসেছে। এখন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের প্রস্তুতি চলছে।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সিলেট এমসি কলেজ এলাকায় স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে বেড়াতে আসেন এক গৃহবধূ। পরে ওই গৃহবধূকে স্বামীসহ কলেজ ছাত্রাবাসে তুলে নিয়ে স্বামীকে বেঁধে রেখে মারধর করে গৃহবধূকে ধর্ষণ করে আসামিরা। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

ওই দিন রাতেই ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামি করে শাহপরান থানায় মামলা দায়ের করেন। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনকে আসামি করা হয়।

আসামিরা হলেন- এম সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেক আহমদ, অর্জুন লঙ্কর, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান। এদের মধ্যে তারেক ও রবিউল বহিরাগত। এলাকাবাসীর জানিয়েছে, বাকিরা সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং এমসি কলেজের ছাত্র। এরপরই বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

এমসি কলেজের এ ধর্ষণকাণ্ডের প্রতিবাদে সারা দেশ ধর্ষণবিরোধী তীব্র আন্দোলন গড়ে উঠে। জনদাবির মুখে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে ধর্ষণবিরোধী আইন সংশোধন করে সরকার।