‘নবীজীর ম‌ানহানী ব‌ন্ধে পৃথক শরয়ী আইন জারী করার দাবি’

রবিবার, নভেম্বর ২৯, ২০২০

ঢাকা : নবীজীর ম‌ানহানী ব‌ন্ধে পৃথক শরয়ী আইন জারী করার দাবি জানিয়েছে যুব আনজুমান‌ে আল বাই‌য়্যিনাত।

রবিবার(২৯ নভেম্বর)জাতীয় প্রেসক্লাবে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মানহানীর কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র ও জনগণের করণীয়” শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সেমিনারে বক্তারা বলেন,’সাংবিধানিক রাষ্ট্রদ্বীন ইসলাম এবং উনার প্রধান হিসেবে প্রাণপ্রিয় রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানে মানহানীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও কার্যকরী শরঈ আইন জারী করা, যার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধানসহ এ বিষয়ে দ্রুত বিচারের জন্য পৃথক ট্রাইবুনাল ও শক্তিশালী মনিটরিং সেল গঠন করার পাশাপাশি পৃথিবীর যে কোন প্রান্তে ফ্রান্সের মত মানহানীকর ঘটনা ঘটলে, রাষ্ট্রীয়ভাবে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো এবং জনগণের আবেগ-অনুভূতি ও দাবী-দাওয়ার বিষয়গুলো যথাস্থানে বা অভিযুক্ত রাষ্ট্রে পৌছে দেয়া এবং এমন অপকর্মের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ফ্রান্সসহ বিশ্বের সকল দেশকে চারটি নীতি গ্রহণে বাধ্য করতে হবে।

বক্তারা বলেন, সরকারের উচিত এই নীতিগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গন তথা জাতিসংঘ বা ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রস্তাব উত্থাপন করা। প্রয়োজনে ওআইসি’র মত ইসলামী জোটগুলোকে সাথে নিয়ে দাবীগুলো উত্থাপন করা- ১. পবিত্র দ্বীন ইসলাম পালন করার পূর্ণ স্বাধীনতা থাকতে হবে। ২. পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার অনুভূতিকে সম্মান করতে হবে। ৩. পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার অনুভূতিতে আঘাত করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে জারী করতে হবে। ৪. পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার অনুভূতিকে আঘাত করার এই জঘণ্য অপরাধকে আইন করে বন্ধ করতে হবে।

তারা বলেন, ধর্মপ্রাণ জনগণের কাছে রাষ্ট্রের চাওয়া হচ্ছে, প্রাণপ্রিয় নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুরারক শানে মানহানী রুখতে রাষ্ট্রই যেন দৃষ্টান্তমূলক কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, রাষ্ট্র জনগণের সেই আকাঙ্খা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় একই অপরাধের বার বার পুনরাবৃত্তি ঘটেই চলেছে এবং তারই প্রতিক্রিয়ায় জনগণ নিজেই মাঠে নেমে তার চাওয়া-পাওয়া পূরণের চেষ্টা করছে।

বক্তারা বলেন, আইন ও বিচারহীনতায় ক্ষুব্ধ মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নিলেই সুযোগ পায় বিদেশী সাম্রাজ্যবাদীরা। ‘সন্ত্রাসী তকমা’ দিয়ে রাষ্ট্রের উপর অযাচিত হস্তক্ষেপের সুযোগ নিতে চায়। কিন্তু যখন রাষ্ট্র নিজেই সু-নির্দিষ্ট ‍ও পর্যাপ্ত আইনের ভিত্তিতে অপরাধী তথা সাংবিধানিক রাষ্ট্রদ্বীন ইসলাম ও প্রাণপ্রিয় নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কটুক্তিকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করবে তখন সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রগুলো কখনই এ সুযোগ নিতে পারবে না।

তারা আরও বলেন, শুধু বাংলাদেশেই নয় ফ্রান্স, ডেনমার্ক-নেদারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ দ্বীন ইসলাম এবং উনার মূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে ব্যঙ্গচিত্র অংকন ও মানহানীকর ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে। এ রাষ্ট্রগুলো বাক-স্বাধীনতার নামে বাক-আক্রমণকে বৈধ করতে চায়। লক্ষণীয়, ফ্রান্সসহ ১৬টি দেশে বাক-স্বাধীনতা হলোকাস্টের বিরুদ্ধে গেলে, তারা আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। কিন্তু তাদের কথিত বাক-স্বাধীনতা যখন ধর্মীয় অনুভূতির বিরুদ্ধে যায়, তখন সেটাকে আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করে না।

বক্তারা বলেন, কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের কর্মকাণ্ডে জনগণের সেই আশা-আকাঙ্খা বা চাওয়া-পাওয়ার প্রতিফলন দেখা যায়নি। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের এ নিরব ভূমিকা বাস্তবিকভাবে দেশের জনগণকে চরমভাব, ক্ষুব্ধ ও হতাশ করেছে, এমনকি ‘রাষ্ট্রীয় কাজ’নিজ হাতে তুলে নিতে উব্ধুদ্ধ করেছে। ফ্রান্সের অপকর্মের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে সিঙ্গাপুরে প্রবাসীদের মধ্যে এমন ঘটেছে, যার দরুণ চরম বিপদে পড়ে গেছে আমাদের প্রবাসী নাগরিকরা। অনেক প্রবাসী নিরাপরাধ হওয়া সত্ত্বেও তাদের দেশে পাঠিয়ে দেয়ার খবর শোনা যাচ্ছে।

যুব আনজুমানের সভাপতি মুহম্মদ আরিফুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন সুমনের উপস্থিতিতে আলোচনা করেন, যুব আনজুমানের সাংগঠনিক সম্পাদক মুহম্মদ আমিনুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক সাইয়্যিদ মুহম্মদ নূরুদ্দীন পলাশ, অর্থ সম্পাদক মুহম্মদ আবু বকর সিদ্দীক হাসান, দফতর সম্পাদক মুহম্মদ জিয়াউল হক, মুহম্মদ আবীর, মুহম্মদ সামদানীসহ আরো অনেকে।