স্বৈরাচারকে বিতাড়িত করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে : গয়েশ্বর

শনিবার, নভেম্বর ২১, ২০২০

ঢাকা: দেশ গণতন্ত্রে নয়, শেখ হাসিনার শাসনতন্ত্রে চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, ‘আজকে দেশে গণতন্ত্র নাই, আছে ‘হাসিনার শাসনতন্ত্র’। হাসিনা মানে সংবিধান। দুইটি কথা সব কিছুতে, আমি আর সব কিছু আমার। আমার বা আমারবাদ। গণতন্ত্রে কিন্তু কখনও আমার শব্দটি গ্রহণযোগ্য না। গণতন্ত্র মানে আমরা, গণতন্ত্র মানে আমাদের, গণতন্ত্র মানে বহুজন, গণতন্ত্র মানে বহুমত। গণতন্ত্র মানে এক জনে মত নয়, গণতন্ত্র মানে একজন নয়।’

শনিবার (২১ নভেম্বর) সকালে ছাত্রদল আয়োজিত স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন তিনি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৬তম জন্মদিন উপলক্ষে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

কর্মসূচিতে গয়েশ্বর বলেন, ‘আজকে কোট-কাচারী-উচ্চ আদালত থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এক ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে, এক ব্যক্তির কথায় চলে। এই যে কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থা, এটা স্বৈরতন্ত্রকেও ছাড়িয়ে গেছে। এই স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতা সস্পন্ন বিকারগ্রস্থ এক ব্যক্তির শাসনে দেশটা ধ্বংসস্তুপে পরিণত হচ্ছে। ধ্বংসস্তুপে পরিণত হওয়ার আগেই আপনাদেরকে উদ্যোমী হয়ে রাজপথ দখল করতে হবে। স্বৈরাচারকে বিতাড়িত করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।’

জন্মদিনে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে বসে আছেন চিকিৎসার জন্যে। আমাদের এই নেতাকে আগামী দিনে দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী শক্তির অবশিষ্ট নেতা বলা যায়। অর্থাৎ এটি আমাদের একটি মাত্র ঠিকানা। এই ঠিকানাকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে এবং আমাদের সবাইকে আন্তরিকভাবে কথা ও কাজের মধ্যে সঙ্গতি রেখেই জনগণের প্রত্যাশা ও জনগণের উৎসাহ-উদ্দিপনা সৃষ্টিতে আপনাদেরকে একেকবার একেকজনকে একেকটা উদাহরণ সৃষ্টি করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আজকে তারেক রহমানের জন্মদিন পালন করছি। আমরা বলছি শুভ শুভ জন্মদিন, তারেক রহমানের জন্মদিন। কালকে যেন বলতে পারি, শুভ শুভ শুভ দিন, বাংলাদেশের শুভ দিন, জনগণের শুভদিন।’

ছাত্র দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেল, ‘রক্তদান কর্মসূচি মানবতার সেবার একটি অংশ। এই রক্ত শ্রমজীবী ও সাধারণ রোগীরা পাবে। এতে করে তারা অনেক উপকৃত হবে।’

গয়েশ্বর বলে, ‘এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আপনারা রাজপথে স্বেচ্ছায় রক্ত ঝরিয়ে আরেকটি একাত্তর সৃষ্টি করবেন। বাংলাদেশ ও গণতন্ত্রকে মুক্ত করবেন- এটা আমরা আশা করি। কেননা দেশটা আপনাদের।’

রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল। সংগঠনের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনের সভাপতিত্বে ও সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান আমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সংগঠনটির সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল ও কেন্দ্রীয় নেতা তবিবুর রহমান সাগর প্রমুখ বক্তব্য দেন।