লো-মিড বাজেটের টেকনোর সেরা গেমিং ফোন

শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২০

ঢাকা : বিশাল বড় ডিসপ্লে, ভালো মানের ক্যামেরা এবং সুন্দর গেমিং এক্সপেরিয়েন্স সমৃদ্ধ একটি ফোন ১৩ থেকে ১৪ হাজার টাকা বাজেটের মধ্যে আশা করাটা অযৌক্তিক৷ তার সাথে যদি থাকে লং লাস্টিং ব্যাটারি।

তবে এই অযৌক্তিক চিন্তা ধারাকে বাস্তবে পরিণত করেছে টেকনো স্পার্ক সিক্স। সম্প্রতি তারা তাদের এই স্মার্টফোনটি বাজারে লঞ্চ করেছে।

তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক এই ফোনটিতে বিশেষ কি কি ফিচার রয়েছে।

ফোনটি সম্পূর্ণই প্লাস্টিক বডি৷ এটি মূলত নীল এবং কালো এই দুইটি রঙে পাওয়া যাবে৷ পেছনের দিকে এক ধরনের গ্লোরিয়াস ফিনিশিং দেয়া হয়েছে৷ দেখতেও বেশ সুন্দর লাগে।

ফোনটাতে রেগুলার পোর্ট এবং বাটন দেয়া হয়েছে যা ২০২০ সালের অধিকাংশ ফোনগুলোতে দেওয়া হয়েছে৷ রয়েছে একটি ডেডিকেট সিম কার্ড স্লট।

নিচের দিকে রয়েছে হেডফোন জ্যাক ও চার্জার পোর্ট৷ যদিও এটি একটি মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট তবে এই বাজেটের অন্য ফোন করতে কিন্তু আমরা টাইপ সি-পোর্ট লক্ষ করেছি৷

পেছনের দিকে সিকিউরিটি সিস্টেম হিসেবে দেয়া হয়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর। যেটার পজিশন যথেষ্ট ঠিকঠাক রিচ করতে পারলে বেশ ভালই কাজ করছিল৷ তার সাথে দেখা হয়েছে ফেস আনলক সিস্টেম যেটি প্রোপার লাইট এ বেশ ভালো কাজ করে। তবে স্বল্প আলোতে আর্টিফিশিয়াল লাইট ব্যবহার করে মুখমন্ডল খোঁজার চেষ্টা করে৷

এই ফোনটি মূলত বাংলাদেশকে একটি ভেরিয়েন্টে লঞ্চ করা হয়েছে৷ সেটি হচ্ছে ১২৮ জিবি রম এবং ৪ জিবি র‍্যাম৷

প্রসেসর হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে মিডিয়াটেক হেলিও জি ৭০৷ অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে রয়েছে অ্যান্ড্রয়েড টেন।

খুব ভালো মানের একটি প্রসেসর দেয়া হয়েছে সেটা বলাই বাহুল্য৷ এবং তার সাথে দেওয়া হয়েছে একটি ব্যালেন্সড স্টোরেজ৷ বাজেট অনুযায়ী এই ফোনটিতে যথেষ্ট ভালো প্রসেসর দেয়া হয়েছে৷ এই প্রসেসর এর নেগেটিভ রিভিউ দেয়ার মত কিছুই নেই৷ শুধু বাজেট ফোনে নয়, আরো অনেক হাই বাজেটের ফোন রয়েছে যেগুলোতে এই প্রসেসর দেওয়া হয়েছে এবং যথেষ্ট ভাল কাজ করছিল।

প্রসেসরটি রেগুলার কাজগুলো খুব ভালোভাবে হ্যান্ডেল করতে পারছিল৷ এবং তার সাথে মাল্টি টাচ পারফরম্যান্স অসাধারণ ছিল৷

ফোনটিতে খুব সহজেই পাবজি মোবাইল গেম এইচডি ফ্রেম রেট এ খেলতে পারবেন৷ এখানে যে প্রসেসরটি ব্যবহার করা হয়েছে সেটি দিয়ে গেমিং এক্সপেরিয়েন্স অন্য ফোনগুলোতে এভারেজ লেভেলের হয়৷ তবে এখানে খুব সুন্দরভাবে র‍্যাম ব্যালেন্সড হবার কারণে পারফরম্যান্স দুর্দান্ত বলা চলে৷

ফোনটির পেছনে হয়েছে কোয়াড ক্যামেরা সেটআপ৷ যার প্রাইমারি ক্যামেরা ১৩ মেগাপিক্সেলের৷ এবং তার সাথে আরও দেয়া হয়েছে টু মেগাপিক্সেলের ম্যাক্রো এবং টু মেগাপিক্সেলের ডেপথ৷

প্রাইমারি ক্যামেরাটির দিয়ে প্রোপার লাইটে বেশ ভালো ছবি তোলা যায়। শার্পনেসে কোন ধরনের ঘাটতি নেই৷ তবে আমার কাছে মনে হয়েছে সাটার টা একটু স্লো। তবে সেটা বড় ব্যাপার নয়৷ এটা আপনার ছবির ওপর তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না৷ যদি আপনি ফ্ল্যাশ অফ করে ছবি তোলেন তাহলে কোনো সমস্যা হবার কথা নয়।

স্বল্প আলোতে ছবির কোয়ালিটি একটু খারাপ আসতে পারে৷ সে জন্য রয়েছে নাইট মোড সিস্টেম৷

বাংলাদেশি মূল্যের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ হাজার ৯৯০ টাকা৷

ফোনটির সাথে হয়েছে ১০০ দিনের রিপ্লেসমেন্ট এবং তার সাথে ১৩ মাসের গ্যারান্টি।