ব্যারিস্টার মীর হেলালকে কারাগারে প্রেরণের ঘটনায় ইউট্যাবের নিন্দা

মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলালকে কারাগারে প্রেরণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিশেন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)।

তরুণ আইনজীবী ব্যারিস্টার হেলালকে কারাগারে প্রেরণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করেছেন সংগঠনের ৬২৫ জন শিক্ষক।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে সংগঠনের পক্ষে বলা হয়- এমনিতেই বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দেশে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে বিরোধীদের ওপর নিপীড়ন অব্যাহত রেখেছে। প্রতিনিয়ত দেশে নারী ও শিশু ধর্ষণ, গুম খুন অব্যাহত রয়েছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যারিস্টার মীর হেলালকে কারাগারে প্রেরণের ঘটনায় প্রমাণিত হয় এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

ইউট্যাব নেতৃবৃন্দ বলেন, আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে কখনো সুবিচার আশা করা যায় না। এই সরকার বিচার বিভাগের ওপর যে প্রভাব বিস্তার করেছে অতীতে তার নজির রয়েছে। বিগত তথাকথিত ওয়ান ইলেভেনের সরকারের আমলে দায়ের করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলাটিও ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত।

তারা বলেন, এক এগারোর অনৈতিক সরকারের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার বিএনপি নেতৃবৃন্দকে রাজনীতি ও নির্বাচন থেকে দুরে রাখতে চায়। তারই সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসকে ব্যবহার করে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মীর নাসির ও মীর হেলালের আপিলের তীব্র প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়।

নেতৃবৃন্দ বলেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। ১/১১’র জরুরি অবস্থার অনৈতিক সরকার আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সেই মামলাগুলো প্রত্যাহার অথবা নিস্পত্তি করে ফেলে। কিন্তু বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলো সচল রাখা হয়। এখন ফরমায়েসী রায় প্রদানের মাধ্যমে মূলত: সরকার ১/১১’র সরকারের বিরাজনীতিকরণ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের পথেই হাঁটছে, যা সুষ্ঠু রাজনীতির পরিপন্থী।

আওয়ামী লীগ সরকারের এই দ্বিমূখী ও ষড়যন্ত্রমূলক আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং এধরণের অপতৎপরতা বন্ধের আহবান জানাই। সেইসাথে অবিলম্বে মীর হেলারের বিরুদ্ধে আদালতের সাজা বাতিল করে তাকে নি:শর্ত মুক্তি দেয়ার জোর দাবি জানান ইউট্যাবের শিক্ষক নেতৃবৃন্দ।

ইউট্যাবের বিবৃতি দাতা শিক্ষকদের অন্যতম হলেন- সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আশরাফুল ইসলাম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন খান, ড. ফরিদ আহমেদ, অধ্যাপক ড. আবদুর রশিদ, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম মজুমদার, অধ্যাপক লুৎফর রহমান, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, অধ্যাপক ড. আল মোজাদ্দেদী আলফেছানী, ড. গোলাম রব্বানি, ড. মাহফুজুল হক, ইসরাফিল প্রামাণিক রতন, ড. সিদ্দিক আহমদ চৌধুরী (চবি), ড. এম এ বারি মিয়া, অধ্যাপক খায়রুল (শাবিপ্রবি), অধ্যাপক ড. শামসুল আলম সেলিম (জাবি), অধ্যাপক ড. সাব্বির মোস্তফা খান (বুয়েট), অধ্যাপক তোজাম্মেল (ইবি) প্রমুখ।