জোর করে বিয়ে দেয়ার চেষ্টা, ঢাবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২০

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি : পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় জোর করে বিয়ে দেয়ার প্রস্তুতি নেয়ার সময় নিজ বাড়িতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক মেধাবী শিক্ষার্থী গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

সোমবার উপজেলার বাবুলচরা গ্রামের নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রুম্পা ঢাবির ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। তিনি থাকতেন শামসুন্নাহার হলে। রুম্পা বাবুলচরা গ্রামের ফরিদ উদ্দিন মণ্ডলের মেয়ে।

নিহত রুম্পার সহপাঠীরা জানান, পছন্দের ছেলেকে বাদ দিয়ে অন্যের সঙ্গে জোর করে বিয়ে দেয়ার প্রস্তুতি নেয়ার সময় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন রুম্পা।

রুম্পার সহপাঠী হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, রুম্পা খুবই মার্জিত, ভদ্র, মেধাবী ও ধার্মিক ছিলেন। আমরা চার বছর রুম্পার সঙ্গে ক্লাস করেছি, কিন্তু একদিনও কোনো ছেলেই তার চেহারা দেখেনি। তার আত্মহত্যার খবর শুনে আমরা নিশ্চিত হতে পারছিলাম না, এই মেয়েটা আসলেই রুম্পা কিনা? কারণ কেউই তাকে দেখেনি।

হাসনাত বলেন, ক্লাস সেভেন থেকে রুম্পার সঙ্গে একটি ছেলের প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। তার সঙ্গে যে ছেলেটির সম্পর্ক ছিল সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র না হওয়ায় রুম্পার পরিবার তাদের সম্পর্ক মেনে নেয়নি। এটি নিয়েই পরিবারে দ্বন্দ্ব ছিল।

হয়তো জোর করেই অন্যত্র বিয়ে দিতে চেয়েছিল। সে জন্য রুম্পা আত্মহত্যা করতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক। আমরা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় খবর দিয়েছি। তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কখনই কাম্য নয়।

এ ব্যাপারে ঈশ্বরদী থানার ওসি শেখ নাসির উদ্দীন বলেন, বিষয়টি আত্মহত্যা হওয়ায় ও পরিবারের সদস্যদের কোনো আপত্তি না থাকায় ময়নাতদন্ত করা হয়নি।