ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে কবরে পাঠাতে বল‌লেন ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী

সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২০

ঢাকা : সাংবা‌দিক‌দের বিরু‌দ্ধে যত মামলা আ‌ছে সব তু‌লে নি‌য়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে কবরে পাঠাতে বল‌লেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডাক্তার জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তি‌নি বলেন, সাংবাদিকদের সত্য অনুসন্ধান করার সুযোগ দিন। তাদের বিরুদ্ধে যত মামলা আছে সব তুলে নিতে হবে। শুধু তাই নয় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে কবরে পাঠাতে হবে। তাহলে আপনারই লাভ হবে। দেশের লাভ হবে। দেশ-গণতন্ত্রের দিকে প্রসারিত হবে।

সোমবার ২৬ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজীর মুক্তির দাবিতে এক বি‌ক্ষোব সমা‌বে‌শে তিনি এসব কথা বলেন।

ডাক্তার জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আপনারা খেয়াল করেছেন। গতকাল প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদেরকে আহ্বান করেছেন কোন প্রকার ইয়োলো সাংবাদিকতা যেন না হয়। কিন্তু ইয়োলো জার্নালিজম তো আপনি সৃষ্টি করছেন প্রধানমন্ত্রী। মনে রাখতে হবে সাংবাদিকরা হলেন সত্য অনুসন্ধানী সব সময় সত্য প্রকাশ করে। আপনার সরকারের সবচেয়ে বড় বন্ধু হল সাংবাদিকগণ। তারা প্রকৃত তথ্যকে আপনার সামনে তুলে ধরেন। সেই সাংবাদিকদের কন্ঠ যখনই রোধ করেন তখনই দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান হয়।

সরকারের ভুল নীতি, ভুল পথে অগ্রসর হওয়ার কারণে দেশকে বাধ্য করছে একটা ভুল পথে অগ্রসর হওয়ার জন্য যোগ করেন তিনি। সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজী কথা উল্লেখ করে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ১৪ নভেম্বর ৯ আজকেই তাকে মুক্তি দিন। সাংবা‌দিক‌দের মুক্তি দিয়ে বলেন। সত্য কথা বলুন, সত্য প্রকাশ করুন। তাহলে দে‌শের জন‌্য মঙ্গল হ‌বে। আর না হলে ক্রমেই দেশ জঙ্গিবাদের দিকে যাবে। আর এর দায় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে নিতে হবে।

তিনি বলেন, আজ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সম্মিলিতভাবে কথা বলার অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে। তাহলে দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র ফিরে আসবে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সত্য অনুসন্ধান করার সুযোগ দিতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে যত মামলা আছে সব তুলে নিতে হবে। শুধু তাই নয় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কি কবরে পাঠাতে হবে। তাহলে আপনারই লাভ হবে। দেশের লাভ হবে। দেশ-গণতন্ত্রের দিকে প্রসারিত হবে।

এদিকে বক্তব্য দেওয়ার আগেই ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরীর ব্লাড প্রেসার লো হওয়ার কারণে তিনি দূর্বলতা অনুভব করলে বসেই বক্তব্যে দেন। বক্তব্য দেওয়ার শেষে তিনি দ্রুত ধানমন্ডি নগর গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে যাওয়ার পর প্রফেসর ডাঃ নজিব মোহাম্মদ তাঁর শারীরিক চেক আপ করার পর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রেস উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টুকে বলেন লো পেশার হওয়ার কারনে তিনি শারিরীক দূর্বলতা অনুভব করেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে বিশ্রামে পুরোপুরি সুস্থ আছেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে মফস্বল সাংবাদিক এসোসিয়েশন চেয়ারম্যান সাকোয়াত হোসেন ইবনে মঈন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক শওকত মাহমুদ, বিএফইউজের মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি সাকোয়াত, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, জিনাফ এর সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার,দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।