দেশে উন্নয়ন হয়েছে শতকরা পাঁচ ভাগ মানুষের : নজরুল

শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২০

ঢাকা: দেশে ‘দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও ভূমিহীন’ বেড়েই চলেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটর সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, ‘দেশে ‘দারিদ্র্যতা, বেকারত্ম ও ভূমিহীন’ বাড়ছে। তাহলে উন্নয়নটা কোথায়? বড় বড় ব্রিজ, সুন্দর বাড়ি-গাড়ি এটা তো উন্নয়নের প্রমাণ নয়।’

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘রুখো আগ্রাসন, হটাও দুঃশাসন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টির (একাংশের) ৪৩ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের সরকার এবং কিছু কিছু লোক খুব আনন্দ ভোগ করেন যে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি হয়েছে। দেশের অর্থনীতিবিদ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান, যে রিপোর্ট করেছে এবং পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রিপোর্টগুলো যদি পর্যালোচনা করি তাহলে দেখা যায়, দেশের মাত্র শতকরা পাঁচ ভাগ মানুষের হাতে দেশের ৯৫ ভাগ সম্পদ। কাজেই এই উন্নয়ন কার? এই উন্নয়ন ওই ভাগ্যবান শতকরা পাঁচ ভাগ মানুষের।’

নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন ‘দেশে দারিদ্র্য, বেকারত্ম ও ভূমিহীন বাড়ছে। তাহলে উন্নয়নটা কোথায়? বড় বড় ব্রিজ, বড় বড় বাড়ি, চমৎকার চমৎকার গাড়ি-এটা তো উন্নয়নের প্রমাণ নয়। যে উন্নয়ন সাধারণ মানুষকে সুখ দেয় না। সেটা উন্নয়ন নয়। এডিবির একটা রিপোর্ট বেরিয়েছে। সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, এশিয়ার ৩০টা দেশের একটা জরিপ করা হয়েছে, কোন দেশের মানুষ কতটা সুখী। ওই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থা ২৬ তম। অর্থাৎ বাংলাদেশের চেয়ে কম সুখী মাত্র চারটা দেশ।’

তিনি বলেন,‘যে প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের কথা বলা হচ্ছে, সেই প্রবৃদ্ধি বা উন্নয়ন তো আমার বাংলাদেশের জনগণকে সুখ-শান্তি, স্বস্তি ও নিরাপত্তা কোনওটাই দিতে পারে নাই। দেশের জনগণ নিশ্চিন্তে-নির্বিঘ্নে তার অধিকার প্রয়োগ করে, পছন্দ মতো প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন এবং সেই প্রতিনিধিরা তার কাছে দায়বদ্ধ থাকবে, এই অবস্থাও আমাদের দেশে নাই।’

বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, জামায়াতে ইসলামীর আবদুল হালিম, পিপলস পার্টির মোস্তফিজুর রহমান মোস্তফা, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেইন, লেবার পার্টির ফরিদ উদ্দিন, মোসলেম উদ্দিন, রামকৃষ্ণ সাহা ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল ইসলাম নুর বক্তব্য দেন।