চঞ্চল-শাওনের ‘যুবতী রাধে’ গান নিয়ে বিতর্ক

বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২০

বিনোদন ডেস্ক : সম্প্রতি জনপ্রিয় দুই টিভি তারকা চঞ্চল চৌধুরী ও মেহের আফরোজ শাওনের গাওয়া ‘যুবতী রাধে’ নামে একটি গান বেশ সাড়া ফেলেছে। ‘আইপিডিসি আমাদের গান’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল থেকে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী পার্থ বড়ুয়ার সংগীতায়োজনে ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর গানটি রীতিমত ভাইরাল।

আর এতেই হয়েছে যত বিপত্তি! শুরু হয়েছে বিতর্ক। গানটি মূলত সরলপুর ব্যান্ডের। কিন্তু গানের পরিচয়ে তাদের কোনো কৃতজ্ঞতা দেয়নি আইপিডিসি। বিপত্তিটা মূলত সেখানেই। ফলে যা হওয়ার তাই হলো, গানটি সরিয়ে নিতে আইপিডিসিকে অনুরোধ জানিয়েছে সরলপুর ব্যান্ড। সেই অনুরোধ রাখতে মোটেও দেরি করেনি আইপিডিসি, নিজেদের ইউটিউব চ্যানেল থেকে গানটি সরিয়েও নিয়েছে তারা।

তবে এতেও শেষ হয়নি বিপত্তি, উল্টো ছড়িয়েছে বিতর্ক। কারণ, গানটি যে এখনো প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজে রয়েছে- এমন দাবি তুলে সেটিও সরিয়ে নেয়ার অনুরোধ করেছে সরলপুর ব্যান্ড। অন্যথায় তারা আইনের আশ্রয় নেবেন বলে হুমকিও দিয়েছেন।

এদিকে ‘যুবতী রাধে’ গানটি নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করার পর সরলপুর ব্যান্ডের আপত্তি নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। কেউ সরলপুর ব্যান্ডের পক্ষে বলছেন, কেউ আবার আইপিডিসি, পার্থ বড়ুয়া, চঞ্চল ও শাওনের প্রশংসা করছেন- গানটিকে নতুন করে চমৎকারভাবে সবার সামনে তুলে ধরার জন্য। তারা ‘যুবতী রাধে’ গানটিকে প্রচলিত গান দাবি করে উল্টা সরলপুর ব্যান্ডের কপিরাইট রেজিস্ট্রেশন নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন।

বহুল প্রচলিত এই গানের খানিকটা এদিক সেদিক পরিবর্তন করে সেটা কেউ নিজের গান বলে দাবি করতে পারে কি না- সেই প্রশ্নও তুলেছেন কেউ কেউ।

এ বিষয়ে কপিরাইট রেজিস্ট্রার জাফর রাজা চৌধুরী বলেন, আমরা বিচার বিশ্লেষণ করেই দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সরলপুর ব্যান্ডকে ‘যুবতী রাধে’ গানটির রেজিস্ট্রেশন দিয়েছি। কপিরাইট বিষয়টি জটিল, তবে এটি বুঝতে পারলে খুব সহজ। যারা কপিরাইট সম্পর্কিত সৃষ্টিশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাদের উচিত এই আইন সম্পর্কে জানা ও বোঝা।

তিনি আরও বলেন, যারা রিমেক করেন বা অন্যের গান কভার করেন, তারা একটু কষ্ট করে কপিরাইট অফিসে যোগাযোগ করলেই কিন্তু গানের মালিকানা বা কি পরিচয় তা জানতে পারেন। তখন আর এসব বিতর্ক তৈরি হয় না।

সম্প্রতি অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী ও শাওনের গাওয়া গানটি সরলপুর ব্যান্ডের নামে রেজিস্ট্রেশনকৃত দাবি করে এই কপিরাইট কর্মকর্তা বলেন, ‘সরলপুর ব্যান্ড ‘যুবতী রাধে’ গানটি নিজেদের রচিত, সুর করা ও তৈরি হিসেবে ২০১৮ সালের ৪ জুন তারা কপিরাইট রেজিস্ট্রেশন নিয়ে নেয়। তার ৭-৮ মাস পর ২০১৯ সালের ১০ এপ্রিল সুমি মির্জা নামে একজন শিল্পী আপত্তি তোলেন যে- এই গানটি ময়মনসিংহ গীতিকার ‘যুবতী রাধে’ গানের নকল। যেহেতু একটি অভিযোগ এসেছে- তাই তখন আমরা বেশ কয়েকটি শুনানি করেছি এই গানের জন্য। তখন সরলপুর ব্যান্ড আমাদের ২০১২ সালের একটি রেফারেন্স দেয়, যেখানে দেখা যায়- চ্যানেল নাইনে একটি অনুষ্ঠানে তারা গানটি গাওয়ার সময় বলছে যে- এই গানের ৩০ পারসেন্ট তাদের সংগ্রহ আর ৭০ পারসেন্ট তাদের রিমেক করা।

আমরাও বিশ্লেষণ করে দেখলাম যে- ময়মনসিংহ গীতিকার ‘যুবতী রাধে’ গানটিতে মোট ৪২টি বাক্য বা লাইন রয়েছে। ওই গানের শেষের তিনটি লাইনের ভাবের সঙ্গে সরলপুর ব্যান্ডের গানটির মিল আছে। কিন্তু হুবহু বাক্যের কোনও মিল পাওয়া যায়নি। যার ফলে এটি যে ময়মনসিংহ গীতিকার ওই গান, তা সঠিক নয়। এ কারণে আমরা ‘যুবতী রাধে’ গানটির রেজিস্ট্রেশন সরলপুর ব্যান্ডের নামেই বহাল রেখেছি।

আর সুমি মির্জাকে বলেছি- কপিরাইট আইনের ৬০ ধারা অনুসারে তারা যদি গানটি গাইতে চায়, তাহলে সরলপুরের অনুমতি নেবে। যদি সরলপুর অনুমতি না দেয় তবে কপিরাইট বোর্ডের কাছে আবেদন করলে আমরা একটা শুনানি দিয়ে দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসে একটি নির্দিষ্ট রয়েলটি ফিক্সড করে গানটি যেন সুমি মির্জা গাইতে পারেন তার বৈধ ব্যবস্থার জন্য সরলপুরকে অনুরোধ করবো। যদি সেখানে সরলপুর ব্যান্ড সবকিছু ইতিবাচক বলে মনে করে, তাহলে তারা অনুমতি দেবে। তাদের অনুমতি ছাড়া এই গান কিছুতেই সুমি মির্জা বা কেউ গাইতে পারবেন না।’

এদিকে, গানটির অনেকগুলো ভার্সনই ইউটিউবে দেখা যাচ্ছে, যেগুলো নিয়ে এতদিন কোনও আপত্তি তোলেনি সরলপুর ব্যান্ড। কিন্তু সম্প্রতি আইপিডিসির আয়োজনে গানটি প্রকাশ হতেই তারা এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে সেটি সরিয়ে দিয়েছে।

এ বিষয়ে জাফর রাজা চৌধুরী বলেন, ‘যদি কেউ অনুমতি না নিয়ে সেগুলো প্রকাশ করে থাকেন তাহলে অবশ্যই অবৈধ। সেসব গানের ব্যাপারে সম্পূর্ণই সরলপুর ব্যান্ড সিদ্ধান্ত নেবে। আমাদের কিছু বলার নেই। তার গান তিনি যাকে খুশি দিতে পারেন, যাকে ইচ্ছে হবে না দেবেন না।’

অন্যদিকে এমন জটিলতার মধ্যে গানটি নিয়ে মুখ খুলেছেন আয়নাবাজী খ্যাত অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘পুরো ঘটনাটিতে আমি খুব অবাক হয়েছি। ‘যুবতী রাধে’ গানটিকে আমরা সবাই প্রচলিত গান বলেই জানতাম। এমন প্রচলিত গানের জন্য অনুমতি লাগবে সেটা কেউ ভাবেনি। ইউটিউবেও এই গানের অনেকগুলো ভার্সন দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোনো ব্যান্ডের নাম ক্রেডিট হিসেবে দেয়া নেই। যদি জানা যেত গানটির মালিক সরলপুর ব্যান্ড তাহলে আইপিডিসি বা পার্থ বড়ুয়া অবশ্যই তাদের অনুমতি নিতো। আমরা সবাই দীর্ঘদিন ধরেই শিল্পচর্চার সঙ্গে জড়িত। কোনো নেতিবাচক মানসিকতা এখানে কারোর নেই।’

চঞ্চল আরও বলেন, ‘আমি শখের গায়ক। বেশ কিছু গান আমি গেয়েছি। আপনারা জানেন- সেগুলোর প্রায় সবই ফোক গান। গানের কথা একটু সেদিক করে নেন অনেকেই অনেক সময়। বকুল ফুল গানটি খুব জনপ্রিয় এখন। এটা কিন্তু সর্বপ্রথম আমার কণ্ঠেই রেকর্ড হয়েছে। এরপর জলের গান গেয়েছে, দিনাত জাহান মুন্নী গেয়েছেন। এখন আমি কি বলবো যে- এই গান তারা আমার অনুমতি ছাড়া কেন গাইলো? আমি এই গানের মালিক? বা আমি এই গানের কপিরাইট আমার নামে করে নেবো?