প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর জাল করে মুক্তিযোদ্ধার জাল সনদ তৈরীর অপরাধে ৭ বছর সাজা

মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বাক্ষর জাল করে পিতার মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট উপস্থাপন ও তা সঠিক বলে ব্যবহার করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় রাসেল হাওলাদারকে পৃথক তিনটি ধারায় ৭ বছরের কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া ৬ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ২ মাস কারাদন্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে।

২০ অক্টোবর মঙ্গলবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোঃ এনায়েত উল্লাহ এ রায় ঘোষণা করেন। দন্ডপ্রাপ্ত রাসেল হাওলাদার উজিরপুর উপজেলার যোগীরকান্দা এলাকার মৃত আব্দুল গফুর হওলাদারের ছেলে।

রায় ঘোষণার সময় দন্ডপ্রাপ্ত রাসেল আদালতে অনুপস্থিত ছিল। বেঞ্চ সহকারী ফেরদৌস আলম জানান, ২০১৭ সালের ২৮ জানুয়ারী উজিরপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাইকালে নির্ধারিত কমিটির সামনে ওটরা ইউনিয়ন যোগীরকান্দা এলাকার মুক্তিযোদ্ধা প্রার্থী মৃত আব্দুল গফুরের পক্ষে তার ছেলে রাসেল হাওলাদার বিভিন্ন কাগজপত্র উপস্থাপন করে।

কাজগপত্র যাচাই বাছাইকালে আব্দুল গফুরের নামে একই তারিখ অর্থাৎ ২০০১ সালের ১২ জানুয়ারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বাক্ষরিত ২টি ভিন্ন ক্রমিকে দুটি সার্টিফিকেটের ফটোকপি দাখিল করে। যা যাচাই বাছাই কমিটির কাছে আসল নয় ও জাল জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরী করা হয়েছে বলে প্রতিয়মান হয়।

এঘটনায় ২৯ জানুয়ারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝুমুর বালা উজিরপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। একই বছর ২৫ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নুরুল ইসলাম আদালতে চার্জশীট জমা দেন।

আদালত ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে গতকাল ৪২০ ধারায় ৩ বছর কারাদন্ড ও ৩ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ১ মাস কারাদন্ড, ৪৬৭ ধারায় ৩ বছর কারাদন্ড ও ৩ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ১ মাস কারাদন্ড এবং ৪৭১ ধারায় আরো ১ বছরের কারাদন্ডের রায় ঘোষণা করেন। তবে সকল সাজা একত্রে চলবে বলে নথী সূত্রে জানা যায়।