পর্দায় শাহরুখের মায়ের চরিত্র ফিরিয়ে দেন স্বরা

বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২০

বিনোদন ডেস্ক : বলিউডের মেধাবী নায়িকা স্বরা ভাস্কর। সামাজিক অবিচার নিয়েও বরাবর তিনি সরব। তাই বিভিন্ন সময়ে বিদ্রূপের শিকার হতে হয়েছে।

স্বরা বলিউডে এসেছিলেন নায়িকা হতে। সেখানেও মূল চরিত্র পেতে তাকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে অল্প কিছু ছবি নিয়ে। খবর- আনন্দবাজার পত্রিকা।

নৌ বাহিনী কর্মকর্তার মেয়ে স্বরার জন্ম ১৯৮৮ সালের ৯ এপ্রিল। মা ছিলেন জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ)-এ ফিল্ম স্টাডিজের অধ্যাপিকা। দিল্লির সর্দার প্যাটেল স্কুল থেকে পাশ করার পরে মিরান্ডা হাউস কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করেন স্বরা। পরে সোশিওলজি নিয়ে স্নাতকোত্তর করেন জেএনইউ থেকে।

স্বরার অভিনয়ের নেশা জন্মে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে। সহপাঠীদের সঙ্গে অংশ নিতেন পথনাটিকায়। অভিনয় ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে সরব হওয়ার সহজপাঠ সেখানেই।

বাবার আপত্তি ও মায়ের সম্মতি সঙ্গে নিয়ে ২০০৯ সালে স্বরা পা রাখেন মুম্বাইয়ে। হাতখরচের জন্য পত্রিকায় কপিরাইটারের চাকরি নেন। লোকাল ট্রেনে পৌঁছতেন অফিসে।

লেখালেখির পাশাপাশি শুরু হলো অডিশন দেওয়া। কিন্তু অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই বুঝে গেলেন মঞ্চ ও পর্দার অভিনেত্রী হওয়া এক নয়। রংচটা জিনস ও কুর্তা পরে অডিশন দিতে যেতেন স্বরা। প্রত্যাখ্যাত হতে হতে বুঝে গেলেন পর্দার নায়িকা হওয়ার জন্য পোশাক ও মেকআপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

অবশ্য গ্রুমিংয়ের পরও অবস্থা বিশেষ পাল্টাল না। স্বরাকে শুনতে হলো তিনি নায়িকা হওয়ার উপযুক্ত নন। বরং সহনায়িকার চরিত্রে চেষ্টা করতে পারেন। এও শুনতে হয়েছে, অভিনেত্রী হওয়ার জন্য তিনি প্রয়োজনের তুলনায় বেশি মেধাবী! ইন্ডাস্ট্রিতে স্ট্রাগল করার প্রথম পর্বে পরিচালকের হাতে যৌন হেনস্তারও শিকার হন।

দীর্ঘ চেষ্টার পর ২০০৯ সালে অভিনয় করেন ‘মাধোলাল কিপ ওয়াকিং’ ছবিতে। কিন্তু সেই ছবির কথা মনে আছে এমন দর্শক পাওয়ায় আজকাল দুষ্কর। দ্বিতীয় ছবি ‘নিয়তি’ মুক্তিই পায়নি।

সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘গুজারিশ’-এ ছোট একটি ভূমিকায় অভিনয় করলেও দর্শকমনে দাগ কাটতে পারেননি স্বরা। ২০১১ সালে ‘তনু ওয়েডস মনু’র পার্শ্ব নায়িকা হিসেবে নজর কাড়েন। সুপারহিট ছবিটি তার পায়ের নিচে শক্ত জমিন এনে দেয়। ‘রানঝানা’ ও ‘তনু ওয়েডস মনু রিটার্নস’ এ স্বরার কাজ প্রশংসিত হয়। এর পর ‘প্রেম রতন ধন পায়ো’তে সালমানের বোনের ভূমিকায় অভিনয় করেন।

শোনা যায়, অনেক অভিনেত্রী ফিরিয়ে দেওয়ার পর ওই চরিত্রে সুযোগ পান স্বরা। প্রতিষ্ঠিত নায়িকারা পর্দায় সালমানের বোন হতে চাননি।

এই ছবি থেকে সালমানের সঙ্গে স্বরার বন্ধুত্ব তৈরি হয়। ভাইজানের বাড়ির অনুষ্ঠানেও তিনি ছিলেন নিয়মিত অতিথি। কিন্তু প্রথম সারির নায়িকা হওয়ার সুযোগ মেলেনি। তখন করেন ‘নীল বাটে সানাটা’ ও ‘অনারকলি অব আরা’র মতো সমান্তরাল ধারার দুই ছবি। অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিতি পেলেও ছবি দুটি বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়।

এবার সাহসী অভিনেত্রীর ভাবমূর্তি নিয়ে ফেরেন সোনম কাপুরের ছবি ‘বীরা দি ওয়েডিং’-এ। স্বমেহন দৃশ্যে দেখা যায় তাকে। এতে তীব্র সমালোচিত হন স্বরা। এর পর ‘সুলতান’ ছবিতে অভিনয় করতে চেয়ে যোগাযোগ করেন যশরাজ ফিল্মসের সঙ্গে। কিন্তু বিনীতভাবে ফিরিয়ে দেন প্রযোজক আদিত্য চোপড়া, পরিবর্তে সুযোগ পান আনুশকা শর্মা। ধারণা করা হয়, ‘প্রেম রতন ধন পায়ো’ ছবিতে সালমানের বোনের চরিত্রে অভিনয় করায় এ প্রত্যাখ্যান।

অন্য দিকে, স্বরাও ফিরিয়ে দেন ‘জিরো’তে শাহরুখ খানের মায়ের ভূমিকায় অভিনয়ের প্রস্তাব। অভিনেত্রী ভাবতেও পারেননি দ্বিগুণ বয়সী শাহরুখের মায়ের চরিত্রে তাকে ভাবা হবে! স্বরাকে সামনে দেখা যাবে সমকামী প্রেম নিয়ে নির্মিত ‘শীর কুর্মা’ ছবিতে।

সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্পষ্ট করে নিজের মত প্রকাশ করেন স্বরা। পদ্মাবত-বিতর্কে তিনি খোলা চিঠি লিখেছিলেন সঞ্জয় লীলা বানসালিকে। তার অভিযোগ, এই ছবিতে জহরব্রতকে গৌরবান্বিত করা হয়েছে।

কাঠুয়া ও উন্নাও ধর্ষণ নিয়ে মন্তব্যের জেরে স্বরার সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে বহুজাতিক ব্র্যান্ড। নাগরিকত্ব আইন বিতর্কে তিনি জেএনইউ শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ান। এরপর থেকেই তার কাছে ছবির সুযোগ কমতে থাকে। সোশ্যাল মিডিয়াতে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক কর্মীরা তাকে নিয়মিত হেনস্তা করতে থাকে।

তারপরেও নিজের প্রতিবাদী অবস্থান থেকে সরে আসেননি স্বরা। লকডাউনে অভিবাসী শ্রমিকদের সমস্যা থেকে স্বজনপোষণ, সাম্প্রতিক সব প্রসঙ্গে সরব হয়েছেন তিনি।