জাতীয় সংসদে কোরাম সংকটে ২০১৯ সালে ক্ষতি ২২ কোটি টাকা : টিআইবি

বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০

ঢাকা : একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বছরের পাঁচটি অধিবেশনে কোরাম সংকটে যে সময় ব্যয় হয়েছে, তার অর্থমূল্য ২২ কোটি টাকার বেশি বলে জানিয়েছে ট্রাইন্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআইবি)। বুধবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ‘পার্লামেন্টওয়াচ: একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম থেকে পঞ্চম অধিবেশন’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংস্থাটি, যাতে এ চিত্রটি উঠে এসেছে।

গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংসদ অধিবেশনে সদস্যদের উপস্থিতির বিবেচনায় পুরুষ সদস্যদের গড় উপস্থিতি ছিল ২২ শতাংশ, যেখানে নারী সদস্যদের উপস্থিতি ছিল ৮৫ শতাংশ। অন্যদিকে সংসদ নেতা সংসদ অধিবেশনের ৯২ শতাংশ কার্যদিবস এবং বিরোধীদলীয় নেতা ৪৮ শতাংশ কার্যদিবস উপস্থিত ছিলেন। প্রধান বিরোধীদলীয় বা অন্যান্য বিরোধী সদস্যরা সংসদ বর্জন ও ওয়াকআউট করেননি।

তবে প্রতি কার্যদিবসে গড়ে ১৯ মিনিট কোরাম সংকট ছিল এবং সার্বিকভাবে মোট কোরাম সংকট ছিল ১৯ ঘণ্টা ২৬ মিনিট, যা মোট সময়ের ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। মোট কোরাম সংকটের প্রাক্কলিত অর্থমূল্য প্রায় ২২ কোটি ৮ লক্ষ ৬৩ হাজার ৬২৭ টাকা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উপদেষ্টা-নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের এবং গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান। গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন টিআইবির গবেষণা ও পলিসি বিভাগের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোরশেদা আক্তার ও নিহার রঞ্জন রায়। গবেষণাটি তত্ত্ববধান করেন একই বিভাগের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাহজাদা এম আকরাম। সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক শেখ মনজুর-ই-আলম।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘অষ্টম ও নবম সংসদে সংসদ বর্জনের যে সংস্কৃতি, যা দেশবাসীর কাছে অগ্রহণযোগ্য ও হতাশাব্যঞ্জক একটি বিষয় ছিল। সেটি দশম ও একাদশ সংসদে অনেক চড়া দামে বন্ধ হয়েছে। এর জন্য এত বেশি মূল্য দিতে হয়েছে যে, মাথা ব্যথার কারণে মাথা কেটে ফেলার মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদে এক দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যারিষ্ঠতা এবং সংসদীয় কার্যক্রমে এক দলের একচ্ছত্র সুযোগ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। ফলশ্রুতিতে সংসদের যে মৌলিক দায়িত্ব, আইন প্রণয়ন তথা আইনের সংস্কার, জনপ্রতিনিধিত্ব ও সরকারের জবাবদিহিতা এই তিনটি ক্ষেত্রেই প্রত্যাশিত ভূমিকা আমরা দেখতে পাচ্ছি না, এবং সেটির সম্ভাবনাও ক্রমাগত বিলুপ্ত হতে দেখা যাচ্ছে।