সিটি সেন্টারে কাপড়ের ব্যবসার আড়ালে ইয়াবার ব্যবসা, কারাগারে ডিব্বা বাবু

সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০

জাহিন সিংহ, সাভার থেকে : সাভারে র‌্যাবের হাতে ইয়াবা ও বিদেশী মদ-বিয়ারসহ ধরা পড়া কথিত ব্যবসায়ি ডিব্বা বাবু ওরফে রোহান ইসলাম ওরফে আনোয়ার হোসেনের জামিন দেয়নি আদালত। অবশেষে তার ঠাঁই হয়েছে ঢাকা কেন্দ্রিয় কারাগারে।

দীর্ঘদিন ধরেই সাভার সিটি সেন্টারে জামা কাপড়ের ব্যবসার আড়ালে ইয়াবার ব্যবসা করতেন এই ডিব্বা বাবু ওরফে রোহান।

র‌্যাবের হাতে ধরা পড়ার পর এই মাদক ব্যবসায়ীর ডিব্বা বাবুর পক্ষে চলে নানা মহলর তদবির। র‌্যাব থেকে থানা পর্যন্ত তদবির করেও কোন সুবিধা পায়নি তদবিরবাজরা। থানা হাজত থেকে তাকে তোলা হয় ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসানের আদালতে।

আদালতে আসামিপক্ষ জামিন আবেদন করলে জামিনের বিরোধিতা করেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আনোয়ারুল কবির বাবুল। তিনি বলেন, র‌্যাব সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ইয়াবা, বিদেশী মদ ও বিয়ারসহ আটক করেছে ডিব্বা বাবু ওরফে রোহানকে।

সাভার মডেল থানায় ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৩৬(১) এর ১০ (ক)/২৪ (ক) ধারায় দায়ের করা মামলার এজাহারের বর্ননা তুলে ধরে সরকারি কৌঁসুলী বলেন, আসামী জিজ্ঞাসাবাদে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে মামলার বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন।

র‌্যাব-৪ সাভার ক্যাম্পের পিসি সুলতান মাহমুদ বাদী হয়ে ডিব্বা বাবু ওরফে রোহান ও তার অন্যতম সহযোগী ফিরোজ আলম ওরফে জুয়েলের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় যে মামলাটি দায়ের করেন (নং-৪৯/৪৮০) সেখানে নিজের দিকে উল্লেখ রয়েছে আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন যাবৎ মাদক ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত এবং দেশের বিভিন্ন এলাকা হতে অবৈধ মাদকদ্রব্য ক্রয় করে এনে ঘটনাস্থলেসহ আশেপাশের এলাকায় বিক্রয় করে।

সাভারে সামান্য ২২’শ টাকা বেতনের সেলসম্যান থেকে রাতারাতি ব্যবসায়ী বনে যাওয়া ইয়াবা কারবারী ডিব্বা বাবু ওরফে আনোয়ার হোসেন ওরফে রোহান ইসলামের গ্রেপ্তারের বিষয়টি পরিণত হয় টক অব দ্যা টাউনে।

রোহানের বাবা গুলজার খানম আর মায়ের নাম আসমা আক্তার। গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দির জগৎপুরে হলেও বাবার কাজের সুবাদে পরিবারের সাথেই সাভারে শৈশব কৈশর অতিবাহিত করে ইয়াবার কারবারী কথিত ব্যবসায়ি ডিব্বা বাবু ওরফে রোহান।

লেখাপড়ায় মনোযোগ না থাকায় অল্প বয়সেই পরিবারে হাল ধরতে চাকরি নেয় কাপড়ের দোকানে। প্রথমে দোকান কর্মচারী পরে নিজের খোলস পাল্টে যুক্ত হন ইয়াবার কারবারে। নিজের বেশভূষা পরিবর্তন করে মডেলিং এ ফটোশ্যুট করা ছবি ছেড়ে দিয়ে নাম ধারণ করেন রোহান ইসলাম।

সাধারণত হিন্দি ছবির প্রধান চরিত্রে নায়ক হিসেবে রোহান নামটি জনপ্রিয় হওয়ায় নিজেই বাপ-মার নাম পরিত্যাগ করে ধারণ করেন রোহান ইসলাম। আসলে তার নাম আনোয়ার হোসেন। এক বোন ও এক ভাইয়ের সংসারে রোহান ছিলেন সবার আশা ভরসার প্রতীক।

এত নাম থাকতে কেন ডিব্বা বাবু? এর কোন সদুত্তর জানা নেই কারো। তবে বাবু বলে পারিবারিক একটা নাম থাকলেও ডিব্বার বন্ধুরা বলছেন, ছেলে বেলায় চেহারা গোলগাল ডিব্বার মতো হওয়ায় বাবু নামের অন্যান্যদের কাছ থেকে তাকে আলাদা করতেই রাখা হয় ডিব্বা বাবু। তারপর ডিব্বা থেকে আনোয়ার হয়ে যান আজকের আধুনিক রোহান।

ডিব্বার ছোট ভাই রাতুল হাসান তুহিন আর বোন লাবনী আক্তার। রেডিও কলোনী স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী লাবনী ফেসবুকে-ও জনপ্রিয় মুখ। তার বান্ধবীরা জানান,ফেসবুকে লাবনী আক্তার তাফসির ইমাম বন্ধু নামের আইডি থেকে নিজের আদরের ভাইকে নিয়ে অনেক উচ্ছসিত পোষ্ট দিতেন।

নিজের এডিট করা ছবি ছাড়তেন। এখন নিজের ভাই ইয়াবাসহ ধরা পড়ায় সেই লাবনী কোরআনের আয়াত ছাড়ছেন ফেসবুকে।

সমালোচিত হবার ভয়ে সরাসরি নিজের ভাইয়ের পক্ষে কিছু না লিখে হৃদয়ে আমার বাংলাদেশ নামের একটি পেজের কিছু নীতিকথা শেয়ার করেছেন লাবনী। র‌্যাব সাভার ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জমির উদ্দিন আহমেদ জানান, এখন ডিব্বা ওরফে রোহানের নাম উঠেছে মাদক কারবারীর তালিকায়।

ডিব্বার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাহমুদুল ইসলাম জানান, ডিব্বার পক্ষে যারা তদবির করেছেন তাদের বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। এই মামলায় যাতে ডিব্বার শাস্তি নিশ্চিত হয় সে বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত থাকবে।