সাহেদের রায় সমাজের অন্য ভদ্রবেশী প্রতারকদের জন্য দৃষ্টান্ত: আদালত

সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০

ঢাকা : আসামি সাহেদের আচরণ আমাকে অবাক করেছে। নিজের গাড়ি থেকে অস্ত্র উদ্ধার হলেও আদালতে বার বার সাহেদ গাড়িটি নিজের নয় বলে দাবি করেছিল। পরে গাড়ির মালিকানা সংক্রান্ত রেজিস্ট্রেশনের নথি সামনে আসতেই সে স্বীকার করল। সাহেদ একজন চতুর অপরাধী।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলার রায় পড়ার শুরুতেই আদালত এসব মন্তব্য করেন।

বিচারক কে এম ইমরুল কায়েস বলেন, সাহেদ একজন ভদ্রবেশী ধুরন্ধর প্রতারক। তাকে ক্ষমা করা যায় না। তাই সাহেদের বিরুদ্ধে আদালতে দেয়া ১১ সাক্ষীর সাক্ষ্য আমলে নিয়ে তাকে দোষী সাবস্ত্য করলাম।

আদালত বলেন, এ রায় সমাজের অন্য যারা ভদ্রবেশী প্রতারক আছে, তাদের জন্য দৃষ্টান্ত হবে। এরপরপরই বিচারক বিদেশি পিস্তল রাখায় অস্ত্র আইনের ১৯ এর ‘ক’ ধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে এ আইনের ‘চ’ ধারা অনুযায়ী গুলি রাখার দায়ে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেন সাহেদকে।

রায় শোনার পরপরই অনেকটা ভেঙে পড়েন কাঠগড়ায় থাকা সাহেদ। তাকে বিমর্ষ দেখাচ্ছিল।

এ রায় সমাজে সাহেদের মতো প্রতারকদের জন্য সতর্কবার্তা বলে প্রতিক্রিয়া দেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আবু। সাহেদের সর্বোচ্চ সাজা হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

অন্যদিকে রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন সাহেদের আইনজীবী মো. মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, সাহেদ লঘু পাপে গুরু দণ্ড পেয়েছেন।

এর আগে সকালে কারাগার থেকে কড়া নিরপত্তার মধ্য দিয়ে সাহেদকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে আনা হয়। পরে বেলা ২টার কিছুক্ষণ আগে তাকে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়।