যুদ্ধাপরাধীর ঠাঁই এ দেশে হবে না: হানিফ

সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেঁচে থাকতে কোনো যুদ্ধাপরাধীর ঠাঁই এ দেশে হবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ।

হানিফ বলেন, শেষ হাসিনা একটি নাম। শুধু এই বাংলাদেশে নয়, এই উপমহাদেশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র শেখ হাসিনা। জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের সন্তান শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের গরিব-দুঃখী মানুষের আশ্রয়স্থল জননেত্রী শেখ হাসিনা। এ দেশের অর্থনীতির মুক্তি ও জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা পুরণের একটি নাম শেখ হাসিনা।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনীর সমাপনী দিনের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

গৌরব’৭১ আয়োজিত ‘প্রজন্মের প্রার্থনা, শতায়ু হোক শেখ হাসিনা’ স্লোগানে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি এসএম মনিরুল ইসলাম মনি। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এফ এম শাহীনের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য সাবেক মন্ত্রী আব্দুল কুদ্দুস এমপি, সাবেক এমপি এডভোকেট সানজিদা খানম, সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস, ঢাকা অঞ্চলের কর কমিশনার আসাদুজ্জামান, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইকবাল মাহমুদ বাবলু, জসিম উদ্দিন ভুইয়া, মাহমুদ সালাউদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ। এসময় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

হানিফ বলেন, শেখ হাসিনা এক সাথে ১৬ জন স্বজনকে হারিয়েছিলেন। তিনি বিদেশে থেকে বাবা, মা, ভাই-বোন হারানোর খবর পেয়েছিলেন। আজকে যারা গণতন্ত্রের সবক দেন, সেইদিন গণতন্ত্র কোথায় ছিল ? আইন করে একটি পরিবারের সকল সদস্যকে হত্যা করার পরও বিচার করার পথ বন্ধ করে দিয়েছেলো। অনেক সময় দেখা যায় ক্ষমতা পালাবদনের সময় দুই একটা নিহতের ঘটনা ঘটে। কিন্তু পরিবারের সকল সদস্যকে হত্যার নজির পৃথীবির কোথাও নেই। এটা ছিলো ৭১ সালের প্রতিশোধ। তার প্রমাণ পরবর্তীতে ক্ষমতায় এসে খুনি জিয়াউর রহমান রেখেছিলেন।

আওয়ামী লীগের নেতা আরো বলেন, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে আসতে দেয়নি জিয়াউর রহমান। কিন্তু ১৯৮১ সালে আন্তর্জাতিক চাপের কারণে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে আসতে দিতে বাধ্য হয়েছিল। এক পর্যায়ে স্বজন হারানো ব্যথা নিয়ে বাংলাদেশে আসলেন শেখ হাসিনা। সেই দিন তিনি বলেছিলেন, আমি এসেছি এদেশে আমার বাবা হত্যার বিচার চাইতে।

তিনি বলেন, কোনো বাঁধাই শেখ হাসিনাকে থামাতে পারেনি। তিনি বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার করেছেন। বাকিদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। একইভাবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কোনো বাঁধাই ঠেকাতে পারে নি। বিচার হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের অনেকেরই ফাঁসি হয়েছে। এখনো বিচার কার্যক্রম চলছে। বাকিদেরও বিচার হচ্ছে। শেখ হাসিনা যত দিন বেঁচে থাকবেন ততদিন এ দেশে কোনো যুদ্ধাপরাধীদের ঠাঁই হবে না।

আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার দেশটাকে ধ্বংসের দিকে দিয়ে গিয়েছিল। ওই রাষ্ট্রকে শেখ হাসিনা উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের কাছে রোল মডেল হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। করোনার মধ্যে শেখ হাসিনা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুযোর্গ মোকাবেলা করেছেন। আজকে বাংলাদেশকে ডিজিটাল আধুনিক দেশ গড়ে তুলেছেন।

এছাড়াও রাতে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। আজ রাত সাড়ে এগারটায় বাংলাদেশ সরকারের ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং গৌরব’৭১ এর যৌথ উদ্যোগে ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে যাত্রা শুরু করবে এই আলোকচিত্র প্রদর্শনীটি।