বিএনপি জনগণের মনের কথা বোঝে না : কাদের

রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০

ঢাকা: আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপি উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় আমরা তাদেরকে স্বাগত জানিয়েছিলাম। কিন্তু তাদের উপনির্বাচনে অংশগ্রহণও একধরনের ষড়যন্ত্রের অংশ।’

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটি আয়োজিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় মানবতার নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা শীর্ষক আলোচনা সভা ও কৃষকদের মাঝে উন্নতমানের বীজ বিতরণ এবং বিভিন্ন হাসপাতালে মাস্ক বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচনে প্রচার না চালিয়ে, পোলিং এজেন্ট না দিয়ে, মাঠে না থেকে অভিযোগের পর অভিযোগ করে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা; বিএনপির সেই পুরোনো কৌশল; আজকে তারা আবার কাজে লাগাতে চেয়েছে। আবারও প্রমাণ হয়েছে তাদের সেই কৌশলে মরচে ধরেছে। জনগণ আর বিএনপির মিথ্যাচারে বিশ্বাস করে না। দলের কর্মীরা নির্বাচন করতে চাইলেও নেতারা দিচ্ছেন না।’

তিনি বলেন, ‘তারা (বিএনপি) জনগণের মনের কথাও বোঝেন না, দলের নেতাকর্মীদেরও মনের কথা বোঝেন না। লোক দেখান অংশগ্রহণে বিএনপি তৃণমূলের নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপরে ক্ষুব্ধ। নির্বাচনে হারার আগেই হেরে যাওয়ার দাম্ভিক বৃত্ত থেকে বিএনপি এখনও বেরিয়ে আসতে পারেনি। স্বতঃস্ফূর্তভাবে জনগণের উপনিবাচনে অংশগ্রহণ, স্বাভাবিকভাবে এতো টানআউট আমরা লক্ষ করিনি, যেটা পাবনার ঈশ্বরদী-আটঘরিয়ার ভোটারা দেখিয়েছে।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বিজয়ী করার মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার প্রতি জনমানুষে আস্থা আবারও প্রমাণিত হয়েছে। বিএনপির নেতারা বিরামহীনভাবে তাদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার মিথ্যা মামলা ও কারা অন্তরীণ করছে বলে সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন। আমরা মনে করি বিএনপির এ অভিযোগ সরকারের বিরুদ্ধে চিরায়ত মিথ্যাচার। বিএনপির কোনও কেন্দ্রীয় নেতাকে, কোনও জেলা পর্যায়ের নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে? জেলে দিয়েছে, আপনি বলুন মহাসচিব সাহেব।’

সরকার দমননীতিতে বিশ্বাস করে না জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার আপনাদের সাথে মানবিক আচরণ করছে। নিজের নেত্রীর জেল নিয়ে ৫০০ লোকের একটি মিছিলও করতে পারেননি, সেখানে বেগম জিয়ার জামিনের মেয়াদ বাড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিকতার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। সেটা কি আপনারা ভুলে গেছেন, শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞ না থেকে অবিরাম মিথ্যাচারের ফানুস উড়াচ্ছে বিএনপি।’

সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের চিত্রকর্মে আটকে পড়া গরুর গাড়ির মত বিএনপির রাজনীতি এখন মিথ্যাচারের চোরাবালিতে আটকে আছে। এ দেশে আইন নিজস্ব গতিতে চলছে। বিচারবিভাগের ওপরেও সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই। সরকার নিজের দলের কর্মীদেরও অপকর্মের শাস্তি দিতে কুণ্ঠিত নয়। সেটা ইতিমধ্যে বারবার প্রমাণ হয়েছে।’

‘সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণের ঘটনায় সরকারের অবস্থান কঠোর। অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হবে এটা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না‘- বলেও জানান ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় থাকে তখন জনগণের মঙ্গলের জন্য কাজ করে। রাজনীতির মাধ্যমে মানবকল্যাণই শেখ হাসিনার রাজনীতির দর্শন।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দীসহ অন্যান্যরা।