ধূমপায়ীদের জন্য ভালো খবর নিয়ে এলো গবেষণা!

রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০

দীর্ঘদিন ধরে ধূমপান করেন যারা তারা হয়তো ভাবছেন এটি ছেড়ে দিলে ফুসফুসের আর কতটুকুই বা অগ্রগতি হবে। তবে ধূমপায়ীর ফুসফুসেরও সুস্থ পরিস্থিতিতে যাওয়ার ক্ষমতা রয়েছে বলে দাবি করছেন বিজ্ঞানীরা। তবে শুধুমাত্র ধূমপান ছাড়ার পরই ফুসফুসের সেই ক্ষমতা কাজ করবে বলে জানান তারা।

গবেষণা বলছে, ধূমপানের কারণে ফুসফুসের যেসব পরিবর্তন হয়ে ক্যান্সারের সম্ভাবনা তৈরি করে, সেসব পরিবর্তনকে স্থায়ী মনে করা হতো এবং ধারণা করা হতো যে ধূমপান ছাড়ার পরও সেসব পরিবর্তন টিকে থাকবে, তা ঠিক নয়। নেচার পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ধূমপানের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ না হওয়া ফুসফুসের কয়েকটি কোষই পরবর্তীতে ফুসফুসকে আবারো স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসতে ভূমিকা রাখে। যারা টানা ৪০ বছর ধরে প্রতিদিন এক প্যাকেট সিগারেট খাওয়ার পর যারা ধূমপান ছেড়েছেন, তাদের ফুসফুসের ক্ষেত্রেও এই বিষয় দেখা গেছে। সিগারেটে থাকা হাজার ধরনের রাসায়নিক ফুসফুসের কোষের ডিএনএকে পরিবর্তন করে ধীরে ধীরে সুস্থ থেকে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষে পরিবর্তন করে।

ধূমপান ছেড়ে দিলে অপরিবর্তিত কোষগুলো সংখ্যায় বাড়তে থাকে এবং ফুসফুসের ক্ষতিগ্রস্থ কোষগুলোকে প্রতিস্থাপিত করতে থাকে। গবেষণা বলছে, যেসব মানুষ ধূমপান ত্যাগ করে, তাদের ৪০% পর্যন্ত কোষের গঠন কখনো ধূমপান না করা মানুষের কোষের গঠনের মত হয়ে যায়। এ বিষয়ে এক গবেষক জানান, আমরা এই অবিষ্কারের জন্য একেবারেই প্রস্তুত ছিলাম না। কিছু কোষ থাকে যেগুলো, অনেকটা জাদুকরীভাবেই, শ্বাসনালীর প্রান্তগুলোকে পুনর্গঠণ করে। ধূমপান ছাড়লে সুফল আসলে দ্বিগুণ, এটি খুবই অনুপ্রেরণাদায়ক একটি বিষয়। প্রথমত, ফুসফুসের কোষে ধূমপান সংশ্লিষ্ট ক্ষয়ক্ষতি কমে যাবে, এবং দ্বিতীয়ত ফুসফুস নিজেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সুস্থ কোষ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ কোষের বৃদ্ধি করতে থাকে।