চুরির কোদাল দিয়ে কিশোরের মাথা ন্যাড়া করে নির্যাতন!

রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০

কক্সবাজার : কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় এক কিশোরকে গরু চুরির অভিযোগ এনে বেঁধে রেখে বেদম মারধরের পর মাথা ন্যাড়া করে দিয়েছেন স্থানীয় প্রভাবশালী এক যুবক। এরপর মাথা ন্যাড়া করা এবং নির্যাতনের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন তিনি। ভুক্তভোগী কিশোরের নাম ছৈয়দ আহমদ (১৫)। সে উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম সোনারপাড়া এলাকার জাকির হোসেনের ছেলে।

গতকাল শুক্রবার রাতে উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম সোনারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রাতভর নির্যাতনের পর আজ শনিবার সকালে মাথা ন্যাড়া করে ওই কিশোরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত জালাল আহমদসহ চারজনকে আসামি করে উখিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন নির্যাতনের শিকার ছৈয়দ আহমদের বোন জোবাইদা বেগম।

জোবাইদা বলেন, ‘স্থানীয় সামশুল আলমের ছেলে জালাল আহমদ বিনা অপরাধে আমার ভাই সৈয়দ আহমদকে সোনারপাড়া বাজার থেকে ধরে নিয়ে গরু চোরের অভিযোগ এনে ব্যাপক নির্যাতন করে। সারা রাত বাড়ির উঠানে গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে গলায় জুতার মালা পরিয়ে দিয়ে মাথা ন্যাড়া করে দেয়। কোদাল দিয়ে মাথা ন্যাড়া করার নামে মাথায় আঘাত করে। এ ঘটনায় আমার ভাই জ্ঞান হারিয়ে ফেললে সকালে স্থানীয় ইউপি মেম্বার মোহাম্মদ রফিক ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে উখিয়া উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করে।’

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য মোহাম্মদ রফিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘নির্যাতনের শিকার ছৈয়দ আহমদ একজন ক্ষুদ্র দোকানদার। তাকে স্থানীয় জালাল আহমদ গরু চুরির অভিযোগে বাজার থেকে ধরে নিয়ে বেঁধে রাখে। খবর পেয়ে আমি নিজেই গিয়ে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে পুলিশকে তাৎক্ষণিক মৌখিক অবহিত করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাতভর মারধরসহ অমানুষিক নির্যাতন করেছে এমন একটি ভিডিও হাতে পেয়েছি আমি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুঠোফোনে অভিযুক্ত জালাল উদ্দিন বলেন, ‘এলাকায় যাতে আর কোনো সময় গরু চুরির মতো ঘটনা না ঘটে, পুরো এলাকাবাসীকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য এটি করা হয়েছে। তাতে অন্য কোনো উদ্দেশ্য নাই।’

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মঞ্জুর মোরশেদ বলেন, ‘আমি সবেমাত্র থানায় যোগদান করেছি। অভিযোগটি আমার কাছে এখনো আসেনি। এ রকম অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’