মা-বাবার ভালোবাসায় ভাগ বসানোয় ছোট বোনকে হত্যা

বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০

ঢাকা : রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিতে চার বছরের শিশু নুসরাত জাহান মিম হত্যায় জড়িত একমাত্র আসামি মিমের বড় ভাই আল-আমিন সজীবকে (১৪) জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। বাবা-মায়ের ভালোবাসায় ভাগ বসানোয় মিমকে হত্যা করা হয় বলে স্বীকার করেছে সজীব।

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল জানান, ২৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টায় কড়াইল বস্তির জামাইবাজার এলাকার মো. লিটন মিয়ার (৩৯) মেয়ে মিমকে গলা টিপে হত্যা করা হয়।

লিটন মিয়া জানান, তিনি বনানী এলকায় পেয়ারা ও আমড়া বিক্রি করেন এবং তার স্ত্রী রুপসানা গৃহকর্মীর কাজ করেন। তাদের দুই সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে সজীব এবং ছোট মেয়ে মিম।

ঘটনার দিনের বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিদিনের মতো সেদিন সকালে তিনি ও তার স্ত্রী কাজের জন্য বাইরে বের হন। পরে বাসায় ফিরে মেয়েকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তারা। কোথাও মেয়েকে না পেয়ে স্থানীয় আল-মদিনা মসজিদের মাইকে মিমকে খুঁজে না পাওয়ার কথা ঘোষণা দেওয়া হয়। সকাল ১০টার দিকে বাসা থেকে কিছুটা দূরে একটি গোসলখানায় মিমের মরদেহ উদ্ধার হয়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় নিহত মিমের বড় ভাই ১৪ বছরের সজীবসহ প্রতিবেশী আরও একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায় র‌্যাব। পরে সজীব হত্যার কথা স্বীকার করে। সজীব স্থানীয় আইডিয়াল স্কুলের ৫ম শ্রেণিতে পড়ে।

তার ভাষ্যমতে, ছোট বোন মিম জন্মের পর থেকে তার প্রতি বাবা-মায়ের ভালোবাসা কমতে থাকে। যত দিন যায় বাবা-মা তার প্রতি উদাসীন হয়ে পড়েন এবং সব ভালোবাসা মিমের দিকে চলে যায়। তার ওপর কারণে-অকারণে চলে বাবার নির্দয় প্রহার। যার দরুণ ছোট বোনের প্রতি তার ক্ষোভ জন্মাতে থাকে এবং সব কিছুর জন্য তাকে দায়ী মনে করে সজীব।

সজীবের আরও অভিযোগ, প্রতিদিন বাসায় ফিরে বাবা মিমকে কাছে ডেকে নিতো এবং আদর করতো। বাইরে থেকে কিছু আনলে তাকে খেতে দিতো। বাবা-মা দুজনই তার ছোট বোনের সব আবদার পূরণ করলেও তার বেলায় বিপরীত ঘটনা ঘটতো। তাই সে ছোট বোন মিমকে বাবা-মায়ের চোখের আড়াল করার জন্য বিভিন্ন ফন্দি আটতে থাকে যাতে করে সে আগের মতো আদর, ভালোবাসা পেতে পারে। এর জন্য সে সুযোগের অপেক্ষা করতে থাকে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে পার্শ্ববর্তী মাদরাসা থেকে পড়া শেষে বাসায় ফেরার সময় সে তার বাবাকে ঘরের বাইরে যেতে দেখে এবং ঘরে ফিরে ছোটবোন মিমকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। ঘরে বাবা-মা কেউ না থাকায় মোক্ষম সুযোগ মনে করে সে ঘুমন্ত ছোট বোনকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং বিছানার নিচে লুকিয়ে ফেলে।

পরে তার বাবা বাসায় ফিরে মেয়েকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে এবং বাসার বাইরে খুঁজতে যায়। এই সুযোগে সজীব মিমের লাশ পাশের গোসলখানায় রেখে আসে।

বনানী থানার উপ-পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম জানান, শিশুটির মুখে ও গলায় লালচে দাগ ছিল। এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।