সীমান্তে মিয়ানমারের সেনা মোতায়েন, জাতিসংঘের সহায়তা চায় বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২০

ঢাকা: সীমান্তে মিয়ানমারের সেনা মোতায়েনসহ দেশটির সাম্প্রতিককালের ঘটনা উল্লেখ করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাছে চিঠি লিখেছে নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ মিশন। মিয়ানমার চলমান পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক করা থেকে যেন বিরত থাকে এবং অভিযানের নামে যেন মিয়ানমার রোহিঙ্গা নিপীড়ন থেকে বিরত থাকে, চিঠিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এমন আহবান জানানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, চলমান সময়ে মিয়ানমারের কর্মকাণ্ডের প্রতি জাতিসংঘের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চায় বাংলাদেশ। কেন না সীমান্তে মিয়ানমারের কয়েকটি ঘটনায় বাংলাদেশ উদ্বিগ্ন। একইসঙ্গে জাতিসংঘের উচিত মিয়ানমারকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া যে, কোনো সামরিক অভিযান বা নিরাপত্তা অভিযান চলাকালে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, গত ১১ সেপ্টেম্বর দুই দেশের সীমান্তের কাছে মংদাও নামক স্থানের উত্তরে কয়েকটি স্থানে মিয়ানমার প্রায় ১ হাজার সেনা সদস্য মোতায়েন করেছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের নেভির জাহাজ ইনদিন গ্রামের উপকূলে গেলে সেনারা সেখানে নামে। সেখান থেকে তাদেরকে মংদাও শহরের ২০ কিলোমিটার উত্তরে এবং বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের কাছে অবস্থিত নাফ নদী বরাবর নিগার খু-ইয়া গ্রামে মাছ ধরার ২০টি নৌকায় করে নেওয়া হয়।
‘গত ১৩ বা ১৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে মংদাওর একটি গ্রামে অভিযান চালানো হয়েছে’, উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, ওই অভিযানে পাঁচ জন রোহিঙ্গা পুরুষ ও তিন জন রোহিঙ্গা নারীকে আটক করে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। এর আগে গত জুন থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মিয়ানমারে আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী কয়েকটি স্থানে প্রায় ৩৫টির মতো গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত ৪ জুন দুপুর ৩টা থেকে বিকেল সোয়া ৫টার মধ্যবর্তী সময়ে বিপি-৩৫ নম্বর পিলারের কাছে আন্তর্জাতিক সীমানার মিয়ানমারের দিক থেকে ৫০০ গজ ভেতরে সামরিক হেলিকপ্টারের মাধ্যমে যৌথ অভিযান চালিয়েছে মিয়ানমার মিলিটারি ও বর্ডার গার্ড পুলিশ। সীমান্তের কাছে বাংলাদেশকে অবগত না করেই যৌথ অভিযানটি পরিচালনা করেছে মিয়ানমার।
চিঠিতে বলা হয়, এসব ঘটনার মাধ্যমে বোঝা যায়, বিগত ২০১৭ সালে যেভাবে মিয়ানমার তার নাগরিকদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠানো হয়, এই হামলাও একই রকম। যেসব স্থানে এই অভিযানগুলো চালানো হলো, তার ভিত্তিতে এটি অনুমেয় যে, অভিযানের সঙ্গে আরাকান আর্মির সংঘর্ষের সম্পৃক্ততা নেই।
চিঠিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশকে না জানিয়েই সীমান্তে মিয়ানমারের সেনা মোতায়েন, বিশেষ করে বেসামরিক নৌকায় করে সৈন্যদের পারাপারের কারণে ভুল বোঝাবুঝি এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্তে প্রতিকূল ঘটনা ঘটতে পারে। আন্তর্জাতিক সীমানায় শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার গুরুত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ উভয় দেশই সমঝোতা অনুযায়ী সীমান্তবর্তী এলাকার সীমান্ত মৈত্রী অফিস স্থাপনের বিষয়ে একমত হয়েছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্তে মিয়ানমারের মোতায়েন করা সৈন্য অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে বেসামরিক ও সামরিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদান-প্রদানে মিয়ানমারের যে প্রতিশ্রুতি, তার প্রতি মিয়ানমারকে শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহবান জানিয়েছে বাংলাদেশ। এসব দাবির বিষয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর মিয়ানমার সরকারকে অবহিত করেছে বাংলাদেশ সরকার।
এদিকে, সীমান্তে সেনা মোতায়েনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানিয়ে রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে মিয়ানমারকে চিঠি দেওয়া হয়।